সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পরিচয় জানার পরও জাহালমের জামিন না হওয়ার দায় দুদকের: হাইকোর্ট

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৯, ০২:২৯ পিএম

সোনালী ব্যাংকের ১৮ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির মামলায় নিরপরাধ যুবক জাহালমের পরিচয় জানার পরও তার জামিনের ব্যবস্থা না করার দায় দুদককে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। ওই ঘটনায় দুদকের করা প্রতিবেদনের ওপর শুনানিকালে বুধবার বিচারপতি এফ আরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে এ মন্তব্য আসে।

আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। জাহালমের বিষয়টি আদালতের নজরে আনা আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত শুনানি করেন।

এ বিষয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন দাখিল ও শুনানির জন্য আগামী ১০ এপ্রিল দিন ধার্য করেন হাইকোর্টের এই বেঞ্চ।

দুদক আইনজীবী আজ আদালতকে এই বলে অবহিত করেন যে, সোনালী ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নথিপত্রের ওপর ভিত্তি করে জাহালমকে এ মামলায় আসামি করা এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

আদালত বলেন, আপনারা নথিপত্র আমলে নিবেন কিন্তু সেগুলো যাচাই-বাছাই করবেন না? একজন সুপারিশ করলো আর তা যাচাই-বাছাই না করে প্রতিবেদন দিয়ে দেবেন এটা তো হতে পারে না।

হাইকোর্ট বলেন, দুদক একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। এর সম্পর্কে মানুষের ধারণা খারাপ হোক এটা কেউ চায় না। আমরাও চাই না।

দুদকের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বেঞ্চের কনিষ্ট বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের বলেন, যখন বুঝতে পারলেন যে সে সালেক না, জাহালম তখনই কমিশনের উচিত ছিল জাহালমের জামিনের ব্যবস্থা করা। একটা মানুষ বার বার বলছে সে সালেক না জাহালম কিন্তু তা কেউ শুনেনি।

আদালত বলেন, জাহালমের পরিচয় জানার পরও কেন তার জামিনের ব্যবস্থা করা হলো না? এর দায় দুদককে নিতে হবে। এ ধরনের ঘটনায় দুদক সম্পর্কে মানুষের ধারণা খারাপ অবস্থায় যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন আদালত।

ঋণ জালিয়াতির এই মামলায় আসল আসামি সালেককে চিহ্নিত করতে না পারা এবং নিরপরাধ পাটকল শ্রমিক জাহালমকে আসামি করায় দুদকের তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রতি উষ্মা প্রকাশ করে হাইকোর্ট বলেন, যে বিড়াল ইঁদুর ধরতে পারে না সেই বিড়াল রাখার দরকার নেই।

প্রসঙ্গত, সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা জালিয়াতির অভিযোগে আবু সালেক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক। কিন্তু দুদকের ভুলে সালেকের বদলে তিন বছর ধরে কারাগারে কাটাতে হয়েছে টাঙ্গাইলের জাহালমকে। এ নিয়ে গত ৩০ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনটি হাইকোর্টের নজরে আনা হলে বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ রবিবার জাহালমকে ২৬টি মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে মুক্তির আদেশ দেয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত