বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

শুধুই চলচ্চিত্রে আইরিন

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৯, ১২:০৫ এএম

জনপ্রিয় র‌্যাম্প মডেল আইরিন সুলতানা এখন পুরোদস্তুর সিনেমার নায়িকা। এরমধ্যে তার বেশ কিছু ছবি মুক্তি পেয়েছে। হাতে আছে আরও চারটি ছবি। এ বছরেই সবগুলো ছবি মুক্তির কথা রয়েছে। এছাড়া নারী দিবসের বিশেষ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে থাকবে তার উপস্থিতি। কাজ করেছেন বড় বাজেটের তিনটি ওয়েব ফিল্মে। এই তারকাকে নিয়ে লিখেছেন মাসিদ রণ। ছবি : নূর

গত পরশু অনন্য মামুনের পরিচালনায় একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়িকা আইরিন। এর শিরোনাম ‘নারী’। আইরিন বলেন, ‘ভিন্নকিছু ছাড়া পর্দায় আসতে ইচ্ছা করে না। তাই অনেক নাটক ও বিজ্ঞাপনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে শুধুই চলচ্চিত্র নিয়ে আছি। এখন সারা বিশে^র বড় বড় তারকারা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পাশাপাশি শর্টফিল্ম ও ওয়েবফিল্মে কাজ করছেন। আমি সেই দীক্ষায় দীক্ষিত হয়ে কাজ করছি। আমার ‘নারী’ শর্টফিল্মে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। তা হলো ‘গালি’। আমরা কথায় কথায় মানুষকে গালি দিই, কিন্তু দেখা যায় মূলত ওই লোকের গায়ে গালিটি লাগে না, কারণ গালিটি দেওয়া হয় তার মা-বোন-স্ত্রীকে নিয়ে। সুতরাং এখানেও শুধু নারীকেই ব্যবহার করা হয়। এই নারী দিবসের সকলের কাছে আমার বার্তা, আপনারা গালি দেবেন না, বিশেষ করে এমন গালি দেবেন না যাতে তার মা-বোন জড়িত।’ আইরিন জানান, ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবসে সিনেস্পট অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই শর্টফিল্মটি মুক্তি পাবে।

এদিকে কিছুদিন আগে টানা একমাস ইন্দোনেশিয়ার বালিতে ছিলেন এই গ্ল্যামার কন্যা। তিনি সেখানে তিনটি বিগ বাজেটের ওয়েব সিরিজের শ্যুটিং করেছেন। এরমধ্যে একটি সৈকত নাসিরের ‘ট্রাপড’। এতে তিনি ভালোবাসার মানুষের দ্বারাই ফাঁদে পড়েন। দেখানো হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয় হওয়া ও সম্পর্ক হওয়াটা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। এতে তার সহশিল্পী একে আজাদ ও রিও।

অন্য দুটি ওয়েব সিরিজ পরিচালনা করেছেন অনন্য মামুন। নাম ‘পার্টনার’ ও ‘ধোঁকা’। প্রথমটিতে আইরিন একজন উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়ে। কিন্তু উচ্চবিত্ত হলেও একজন নারী কীভাবে পদে পদে সংগ্রাম করে টিকে থাকে তা দেখানো হয়েছে এতে। এতেও আইরিনের বিপরীতে আছেন রিও। আর ‘ধোঁকা’ নামের ওয়েব সিরিজে আইরিনের নায়ক এ বি এম সুমন। আরও আছেন সাঞ্জু জন, ইমতু রাতিশ প্রমুখ। এখানে তিনি একজন গ্যাংস্টার। ওয়েব সিরিজগুলো নিয়ে আইরিন বলেন, ‘তিনটি চরিত্রই আলাদা আলাদা। গল্পগুলোতেও টান টান উত্তেজনা রয়েছে। দারুণ লোকেশন ব্যবহৃত হয়েছে। সব মিলিয়ে আমি বেশ আশাবাদী কাজগুলো নিয়ে।’

এদিকে মুক্তির অপেক্ষায় আছে আইরিন অভিনীত ‘গন্তব্য’, ‘রৌদ্রছায়া’, ‘ভোলা’ ও ‘পদ্মার প্রেম’ সিনেমা তিনটি। এগুলোতে তার নায়ক হিসেবে আছেন যথাক্রমে ফেরদৌস, বাপ্পী চৌধুরী ও সুমিত সেনগুপ্ত।

এরমধ্যে ‘গন্তব্য’ ছবির গল্প গড়ে উঠেছে সাতই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের ওপর ভিত্তি করে। এ ছবি প্রসঙ্গে আইরিন বলেন, ‘এখানে আমাকে দুটি চরিত্রে দেখা যাবে। প্রথমে আমি থাকি একজন থিয়েটারকর্মী। পরে দেখা যাবে ওই থিয়েটারকর্মী এবং তার বন্ধুরা মিলে একটি ছবি তৈরি করে। যার পটভূমি থাকে মুক্তিযুদ্ধ। ওই ছবিতে আমি থাকি একজন জেলের বৌ। এখানে আমার স্বামীর চরিত্র রূপদান করেছেন ফেরদৌস ভাই।’

আইরিনের ‘রৌদ্রছায়া’ ছবিটির পটভূমি বিশাল এক সময়কাল নিয়ে। এতে উঠে আসবে ১৯৭১ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আমাদের দেশে ঘটে যাওয়া সাড়া জাগানো কিছু ঘটনা। ‘ভোলা’ ছবিটি একেবারেই বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্র। এতে আইরিন-বাপ্পী জুটিকে দেখা যাবে ঢাকার গুলশানের দুজন প্রেমিকা-প্রেমিকার চরিত্রে। গুলশানের প্রেক্ষাপটে গল্প হলে ছবির নাম ভোলা কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে আইরিন হেসে বলেন, ‘আসলে ভোলা নামটি শুনে অনেকেই মনে করেন এটি কি বরিশালের ভোলার গল্প কি না। আসলে তা নয়। ঢাকার গুলশানের আগের নাম ছিল ভোলা। যেহেতু গুলশানের ঘটনা এই ছবিতে দেখানো হবে তাই পরিচালক ছবির নাম রেখেছেন ভোলা।’ আর শ্যুটিং বাকি রয়েছে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস নিয়ে নির্মিত ‘সেভ লাইফ’ সিনেমাটি।

গত বছর কলকাতা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে আইরিন অভিনীত ‘একজন কবির মৃত্যু’ ছবির প্রিমিয়ার শো’র অভিজ্ঞতা হয়। এর পরিচালক আবু সাইয়িদ। আরও অভিনয় করেছেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। ছবিটি এখনো দেশে বড় পরিসরে মুক্তি পায়নি। ছবিটি নিয়ে আইরিন বলেন, ‘যখন আমার কাছে গল্পটি নিয়ে আসলেন আমি প্রথমেই ছবিটির চরিত্র কী তা বুঝিনি। কিন্তু তার আইডিয়া শুনে এক কথায় রাজি হয়ে যাই। চরিত্রটি করার যে চ্যালেঞ্জ সেটা গ্রহণ করি। আসলে এটি তথাকথিত ছবির নিয়মের বাইরের একটি ছবি’। সেটি কেমন? ‘এই ছবিতে অনেকগুলো চরিত্র রয়েছে। কিন্তু পর্দায় দেখা যাবে মাত্র দুটি চরিত্র। একটি চরিত্র একজন কবির, অন্যটি তার যমদূতের চরিত্র। এই দুটি চরিত্রে রয়েছেন গুণী অভিনেতা জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় ও আমি। তিনি কবির চরিত্রটি করেছেন আর আমি তার মৃত্যুর যমদূত’ বললেন আইরিন। ছবির পটভূমি নিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘মানুষ কোনোদিন তার মৃত্যু দেখতে পায় না। আর যদি কল্পনা করে তবে তা কাউকে বোঝাতে পারে না। এই ছবিতে একজন কবি ভাবেন তার যমদূত হয়ে আসবেন একজন রংহীন নারী। আমি সেই রংহীন নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছি। ছবিটিতে যেহেতু মাত্র দুজন অভিনয়শিল্পী কাজ করেছেন, তাই অভিনয়ের প্রচুর জায়গা ছিল। আমাদের এই প্রয়াস বিদেশের ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রশংসিত হয়েছে। এখন অপেক্ষায় আছি দেশের দর্শকের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে তা দেখার জন্য।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত