বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

৬ কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন

ঢাকা বাঁচাতে একগুচ্ছ সুপারিশ

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৯, ০৪:০৩ এএম

পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বহু মানুষের প্রাণহানির পর রাজধানী ঢাকাকে বাঁচাতে একগুচ্ছ সুপারিশ তৈরি করেছে পৃথক ছয় তদন্ত কমিটি। এর মধ্যে রয়েছে রাসায়নিক কারখানা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, পুরান ঢাকার রাস্তাঘাট প্রশস্ত করা, পর্যাপ্ত পানির উৎস তৈরি করা, ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন মেনে বাড়ি তৈরি এবং ভবন তৈরির সময় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা। এছাড়া রাসায়নিকদ্রব্যের মজুদ, আমদানি ও বিক্রির জন্য লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়ানো, আবাসিক এলাকায় রাসায়নিকের মজুদ বন্ধে জনমত গঠন, বাড়িঘরে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক তারের গুণগত মান নিশ্চিত ও মাসে অন্তত একবার বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার নিরীক্ষার সুপারিশ করা হয়েছে। কমিটিগুলোর সুপারিশের মধ্যে আরও আছে আইন ও বিধির অসামঞ্জস্য দূর করতে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি করা এবং ওই কমিটির মাধ্যমে সব আইন ও বিধির সমন্বয় করে নতুন একটি সমন্বিত আইন ও বিধি প্রণয়ন করা। পারফিউমের গোডাউনে আগুনের নেপথ্যে দায়-দায়িত্ব কার তা নিরূপণের কথাও বলা হয়েছে।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চুড়িহাট্টায় ওই অগ্নিকাণ্ডের পর গঠিত ছয়টি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব সুপারিশ করা হয়। এরই মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে কী আছে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য বলেন, পুরান ঢাকায় অনেক ব্যবসায়ী বৈধ ও অবৈধভাবে রাসায়নিকদ্রব্য আমদানি করে বাড়িতে বা গ্যারেজে মজুদ রাখে। শিল্পনীতি-২০১৬ অনুসারে এগুলোকে কেমিক্যালের কারখানা নয়, গুদাম হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। এসব গুদাম থেকে যেকোনো সময় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড হতে পারে। এসব গুদাম অতি দ্রুত স্থানান্তর করা প্রয়োজন। যথাযথ অনুমতি নিয়ে এসব ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে না। অনুমোদনহীন এসব গুদাম সরাতে অভিযান চালানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

বিস্ফোরক পরিদপ্তর তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে রাসায়নিক বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, রাসায়নিকদ্রব্য দিয়ে নকল প্রসাধনী তৈরির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি দেওয়াসহ বিভিন্ন সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে তারা পুরান ঢাকা থেকে ২৯ ধরনের রাসায়নিকদ্রব্যের মজুদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার কথা বলেছে। অনুমোদনের বাইরে কোনো রাসায়সিক আমদানি করলে সংশ্লিষ্টদের লাইসেন্স বাতিলেরও সুপারিশ করেছে তারা।

প্রকৌশলীদের সংগঠন আইইবি তাদের প্রতিবেদনে যেসব সুপারিশ করেছে তার মধ্যে রয়েছে বর্তমান আইন ও বিধির অসামঞ্জস্যের অবসানে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি করা এবং এর মাধ্যমে সংস্থাগুলোর সব আইন ও বিধির সমন্বয় করে নতুন একটি সমন্বিত আইন ও বিধি প্রণয়ন করা। পুরান ঢাকার সরু এবং সড়কগুলো যানবাহন চলাচলের অযোগ্য তাই বাসিন্দাদের পর্যায়ক্রমে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে নতুনভাবে পরিকল্পিত নগরায়ণের পদক্ষেপ নেওয়া। কেরানীগঞ্জ বা সাভারে রাসায়নিক পল্লী স্থাপনের মাধ্যমে দাহ্য পদার্থের গুদাম সরানোর ব্যবস্থা করা। রাসায়নিকের ব্যবসায়ী, গুদামজাত ও পরিবহনে নিয়োজিত সবাইকে রাসায়নিকদ্রব্য ব্যবহার ও সংরক্ষণের ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে অবহিত করা এবং তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। বিস্ফোরক দ্রব্যাদির আমদানি, মজুদ, বিতরণ ও ব্যবহারের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য একটি জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত