রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

তবু ট্রাম্পেই আস্থা রিপাবলিকানদের

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৯, ১০:৫১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আমেরিকানরা চিনত না। কিন্তু ১৯৮০ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে যারা নিউইয়র্কে বাস করেছেন তারা ট্রাম্পকে চিনতেন। জনসেবামূলক এমন কোনো কাজ তিনি করেননি যাতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার কর্মকাণ্ডকে বিচার করা যাবে। কিন্তু তা সত্ত্বেও গত নির্বাচনে দেশটির রিপাবলিকান শিবির ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে।

তবে ক্ষমতায় বসার পর ট্রাম্প শে^তাঙ্গ আধিপত্যবাদিতার যে উৎকর্ষতা দেখিয়েছেন তাতে আগামী নির্বাচনে সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা কট্টর রিপাবলিকান সমর্থকরাও ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার ব্যাপারে দ্বিতীয়বার ভাববেন বলে মনে করছেন এক পক্ষের বিশ্লেষকরা। কিন্তু ভিন্ন ধারার কিছু বিশ্লেষক বলছেন, ট্রাম্প হলেন অফিশিয়াল প্যাডের সেই লেটারহেড যা ব্যবহার করে অনেক কাজ সহজে করা যায়। আর এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে রিপাবলিকানরা পিছপা হবেন না।

চলতি সপ্তাহে মনমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের করা এক জনমত জরিপে ট্রাম্পকে নিয়ে জনগণকে বেশ কিছু প্রশ্ন করা হয়। ওই প্রশ্নগুলোতে মুয়েলারের তদন্ত বা গত নির্বাচনে রুশ সংযোগের বিষয় স্থান পায়নি। এই বিতর্কিত বিষয়গুলো ছাড়াই দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ মানুষ ট্রাম্পের বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু রিপাবলিকান শিবিরের যে অংশটি কার্যত ট্রাম্পের সবচেয়ে আস্থাভাজন ছিল, সেই অংশটি এখনো সকল জায়গায় ট্রাম্পকেই সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। আর সেই অসন্তুষ্টিকে ট্রাম্প ইসরায়েল লবির হাত ধরে সন্তুষ্টিতে পরিণত করেন জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতি দিয়ে। তবুও ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকদের দুই তৃতীয়াংশেরই অবস্থা এখন দোদুল্যমান আগামী নির্বাচনের ক্ষেত্রে।

জরিপকারী সংস্থা ইউগভ দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে জানায়, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ট্রাম্প চাকরির অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে রিপাবলিকান প্রার্থীদের অন্যদের তুলনায় বেশি সুযোগ দিয়েছেন। আর এই সুযোগ দেওয়ার হারের পরিমাণ তুলনামূলক ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ। ফলে ট্রাম্পের শে^তাঙ্গ দলগুলোর মধ্যে সমর্থন বেড়েছে নীতির প্রশ্নে। ২০১৭ সালের মে মাসের শেষ থেকে ট্রাম্পের সমর্থন সংখ্যা কমতে থাকলেও ২০১৮ সালের নভেম্বরে এই সমর্থন বাড়ে। যদিও মধ্যবর্তী নির্বাচনে বেশকিছু নীতির কারণে হার হয় রিপাবলিকানদের।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারক পদে ব্রেট এম ক্যাভানুকে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে ট্রাম্পের নগ্ন আচরণ অনেকটা কফিনে শেষ পেরেক ঠোকার মতো কাজ করে। আর এরপরই নতুন বছরে অর্থনৈতিক অচলাবস্থা চলে আসে প্রেসিডেন্টের হাত ধরে। কিন্তু এতকিছুর পরেও রিপাবলিকানরা এখনো ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে, যারা বিভিন্ন শে^তাঙ্গ সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

তর্ক-বিতর্ক আর মধ্যস্থতার মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক অচলাবস্থা শেষ হলেও এরপরই আবার দেয়াল নির্মাণ ইস্যুতে সারা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে বসেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্টের জারি করা জরুরি অবস্থা সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের কৌশলের কাছে টেকেনি। উল্টো সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তের কিছু অংশের দেয়াল ভাঙার কাজও শুরু হয়।

প্রশ্নটা ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের। বিশ্লেষকরা মনে করছেন ট্রাম্প ঠিক তিন বছরের আগের মতোই নির্বাচনে জিতে যাবেন রিপাবলিকানদের সমর্থন পেয়ে। কারণ ট্রাম্প অনেকটা অফিশিয়াল সিলের মতো, যা ব্যবহার করলে অনেক কিছু সহজ হয়ে যায়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত