রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সিলেটে ‘বিদ্রোহীরা’ বহাল

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৯, ১০:৪৭ পিএম

সিলেটের ১২ উপজেলায় দলের সিদ্ধান্ত না মেনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৩২ নেতানেত্রীকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। তবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা স্বপদে বহাল আছেন। তারা বীরদর্পে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। দল থেকে তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একাধিক উপজেলায় দলের প্রার্থীরা বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে কঠিন পরীক্ষায় পড়তে পারেন। এ ব্যাপারে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে যে বা যারা প্রার্থী হয়েছেন, তাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। সিলেটের ১২ উপজেলার মধ্যে আটটিতে চেয়ারম্যান পদে দলের মনোনয়ন না পেয়ে ১৬ জন আওয়ামী লীগ নেতা বিদ্রোহী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিদ্রোহী এসব নেতা ভোটের মাঠে দলের প্রার্থীর সঙ্গে সমানতালে লড়ে যাচ্ছেন। বিদ্রোহী প্রার্থীর অনেকেই ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। ‘সুষ্ঠু’ নির্বাচন হলে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হতে পারেন বলেও অনেকের ধারণা। দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচন করছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আবু জাহিদ। তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম। 

সিলেট সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী, বর্তমান চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। তবে আশফাককে ছাড় না দিয়ে এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা নূরে আলম সিরাজী।

গোয়াইনঘাট উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া হেলালের বিরুদ্ধে দলের আরও দুই নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তারা হলেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা গোলাপ মিয়া। জৈন্তাপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন লিয়াকত আলী। এখানে তাকে চ্যালেঞ্জ করে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কামাল আহমদ।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন দলের আরও পাঁচজন বিদ্রোহী নেতা। তারা হলেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল বাছির, তার ছেলে যুবলীগ নেতা শামীম আহমদ, শামীমের স্ত্রী জরিনা বেগম, আওয়ামী লীগ নেতা আপ্তাব আলী কালা মিয়া, ইয়াকুব আলী ও শামসুল ইসলাম।

কানাইঘাট উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল মোমিন চৌধুরীর সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন মোস্তাক আহমদ পলাশ ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল খয়ের চৌধুরী। বিয়ানীবাজার উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান খানকে চ্যালেঞ্জ করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন শামীম আহমদ, জাকির হোসেন ও আবুল কাশেম পল্লব।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী, সাংবাদিক মুজিবুর রহমান জকনকে চ্যালেঞ্জ করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম। জেলার গোলাপগঞ্জে ইকবাল আহমদ চৌধুরী, জকিগঞ্জে লোকমান আহমদ চৌধুরী, বিশ্বনাথে এস এম নুনু মিয়া ও বালাগঞ্জে মোস্তাকুর রহমান মফুর আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী ১৮ মার্চ জেলার ১২ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত