রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কী হতে পারে ডাকসু নির্বাচনে

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৯, ০১:৩২ এএম

২৮ বছর বন্ধ থাকার পর আগামীকাল আবারও অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদসমূহের নির্বাচন। স্বাভাবিক কারণেই এ নির্বাচন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবল একটা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজেও আগ্রহ কম নয়। কারণ নির্বাচনটির সাফল্যের ওপর, অর্থাৎ নির্বাচনটি কতটা সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় তার ওপর নির্ভর করছে দেশের আর সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না। এবারের ডাকসু নির্বাচনে ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল সব ছাত্র সংগঠন অংশগ্রহণ করছে; এমনকি সাধারণ ছাত্রদের নামেও একটা প্যানেল কাজ করছে, আগের কোনো নির্বাচনে যা দেখা যায়নি।

সাধারণ মানুষদের মধ্যেও এ নির্বাচন নিয়ে বেশ কৌতূহল লক্ষ করা যাচ্ছে। এর অবশ্য দুটো কারণ থাকতে পারে। একটা হলো, ডাকসু নিয়ে কতগুলো মিথ চালু আছে। এক সময়ে একে বলা হতো ‘সেকেন্ড পার্লামেন্ট’, অর্থাৎ আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনায় শুধু জাতীয় সংসদ নয়, ডাকসুরও একটা ভূমিকা থাকে। পাকিস্তানি প্রায়-ঔপনিবেশিক আমলে এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী সামরিক শাসনের সময়ে ডাকসুর অনেক সিদ্ধান্ত যেভাবে জাতীয় রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছে, সর্বোপরি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ডাকসু যে ধরনের নেতৃত্বকারী ভূমিকা রেখেছে, মূলত তার কারণেই ওই ধারণাটি তৈরি হয়েছিল। যদিও গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে এবং একুশ শতকের ক্যারিয়ার-সর্বস্ব ভাবনা-পরিচালিত ক্যাম্পাসে ডাকসু কতটুক ওই ভূমিকা রাখতে পারবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশের বেশ সুযোগ আছে।

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষদের কৌতূহলের আরেকটি কারণ হলো, বিগত বছরগুলোতে জাতীয় পর্যায়ের প্রায় প্রতিটি নির্বাচন নিয়ে নানারকম প্রশ্ন উঠেছে, সে সব প্রশ্ন তোলার সুযোগ না দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্বাচনটি করতে পারে কি না, তা-ও দেখতে চান অনেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় জাতির বাতিঘর, গণতন্ত্র শিক্ষার পীঠস্থান। এখনো এখানে কোনো আলোড়ন তৈরি হলে তা সব ক্যাম্পাসকে নাড়া দেয়, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে জাতিকেও স্পর্শ করে। তাই সবার অপেক্ষা এটা দেখার জন্য যে, কেমন ডাকসু নির্বাচন করবেন ৪০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী এবং তাদের শিক্ষকরা মিলে।

সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯০ সালে। ১৯৯৩/৯৪ সালে তখন জামায়াতের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় একবার নির্বাচনটি অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন প্রধান বিরোধীদলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগসহ সব সংগঠন প্যানেল তৈরিসহ নির্বাচনের প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল। কিন্তু দৃশ্যত প্রার্থী নিয়ে সরকারি ছাত্র সংগঠনের অভ্যন্তরীণ জটিলতায়, এবং কার্যত সরকারি সংগঠনের পাস করার সম্ভাবনা না থাকায়, নির্বাচনটি স্থগিত হয়ে যায়। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। তারাও ডাকসু নির্বাচন করার উদ্যোগ নেয় ১৯৯৮/৯৯ সালে। তার অংশ হিসেবে এমবিএ’র শিক্ষার্থীদের প্রার্থী হওয়ার অধিকার দিয়ে ডাকসুর বিধানটিকে সংশোধন করা হয়। তার আগ পর্যন্ত এমবিএর শিক্ষার্থীরা তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা আইবিএতেই এমবিএ পড়ানো হতো এবং সেখানে আজকের মতো কোনো স্নাতক কোর্স ছিল না, যে কোনো বয়সের স্নাতকেরা এতে ভর্তি হতে পারতেন ডাকসু নির্বাচনে শুধু ভোট দিতে পারতেন।

ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি বাহাদুর বেপারী তখন এমবিএর ছাত্র ছিলেন। যদিও, ধারণা করা হয়, ডাকসু নির্বাচনে তার প্রার্থিতা নিশ্চিত করার স্বার্থেই এ সংশোধনী আনা হয়েছিল, পদক্ষেপটি যুক্তযুক্ত ছিল। কারণ এর মাধ্যমে পুষ্টি বিজ্ঞান ও অন্য কিছু বিভাগ বা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইবিএর শিক্ষার্থীদের বৈষম্য দূর করা হয়েছিল। তখন ওই সব বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে যেকোনো বয়সের স্নাতকেরা ভর্তি হলেও তারা ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারতেন।

যা হোক, ওই নির্বাচনের উদ্যোগটিও বন্ধ হয়ে যায় রহস্যজনক কারণে। ক্যাম্পাসে তখন কানাঘুষা ছিল, ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক কর্তৃপক্ষকে উল্টোসিধা কিছু একটা বুঝিয়েছিলেন। ছাত্রত্ব ছিল না বলে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার তার কোনো সুযোগ ছিল না। কিন্তু নির্বাচনটি হলে ছাত্রলীগ খারাপ করত এমনটা বলা যায় না। ছাত্রনেতা হিসেবে বাহাদুর বেপারী তখন শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, গোটা দেশেই একটি পরিচিত মুখ। সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও তখন কয়েকজন নেতা ছিলেন যাদের গ্রহণযোগ্যতা ছিল সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও। জাতীয় পর্যায়ে তখন আওয়ামী লীগ সরকার প্রবল কিছু বিতর্ক মোকাবেলা করছিল, সম্ভবত সে কারণেই শেখ হাসিনা তার তুনে বাহাদুরের মতো তীর থাকার পরও কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি।

কেউ কেউ অবশ্য বলেছেন, তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই চাননি, ডাকসুর মাধ্যমে জনপ্রিয় ছাত্রনেতারা তাদের ঘাড়ের ওপর বসে যাক। এ বিষয়টা বর্তমান সরকারের অন্তত গত মেয়াদেও কাজ করেছে বলে অনেকের ধারণা, যে কারণে তখন খোদ রাষ্ট্রপতি, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর, ও সরকারের একাধিক প্রভাবশালী মন্ত্রী একাধিকবার ডাকসু নির্বাচনের পক্ষে বক্তব্য দেওয়া সত্ত্বেও

কর্তৃপক্ষ তা অনুষ্ঠানে তেমন একটা গরজ দেখায়নি। লক্ষণীয়, এখন যে নির্বাচনটি হচ্ছে তা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশের ফল।

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় বসার পর ডাকসু নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনাই ওঠেনি। তার কোনো পরিবেশও তখন ছিল না। ক্যাম্পাসে তখন ছিল ছাত্রদলের একচ্ছত্র আধিপত্য। জাতীয় রাজনীতিতে বিএনপি-জামায়াতবিরোধী তীব্র নেতিবাচক ধারণার কারণে সরকারও যেকোনোভাবে নির্বাচনটি করিয়ে নেওয়ার কথা ভাবেনি।

সম্ভবত একই কারণে আওয়ামী লীগ সরকারও তার গত দুই মেয়াদে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ‘ক্লিয়ারেন্স’ দেয়নি। প্রথম মেয়াদে (২০০৯- ২০১৩) তো নানা সঙ্গত-অসঙ্গত ইস্যুতে তাদের বারবার রীতিমতো নাস্তানাবুদ হতে হয়েছে। ২০১৪-এর পরও, অর্থাৎ দ্বিতীয় মেয়াদে, বিতর্ক তাদের পিছু ছাড়েনি। তবে এই সময়ের মধ্যে তারা যা করতে পেরেছে তা হলো একদিকে দেশের অর্থনীতিকে দারুণ এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে, সেই সুবাদে উন্নয়নের রাজনীতি বেশিরভাগ মানুষের মাঝে ভালোই ছড়িয়ে দিতে পেরেছে, আরেকদিকে প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে, অনেকটা তাদের ভুল রাজনীতির সুযোগ নিয়ে, বেশ দক্ষতার সঙ্গে চেপে ধরে সামগ্রিক রাজনীতির ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। এ পরিস্থিতিই সরকারকে ডাকসু নির্বাচনের ব্যাপারে অনাপত্তিপত্র দিতে উৎসাহিত করেছে বলে অনেকের ধারণা।

ক্যাম্পাসের দিকে তাকালেও বিষয়টা পরিষ্কার বোঝা যায়। এবারের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগই একমাত্র সংগঠন যারা ডাকসু ও হলগুলোতে পূর্ণ প্যানেলে নির্বাচন করছে। গত দুবছর ধরে যখন ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছিল, একদিকে কিছু বাম সংগঠন দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য চাপাচাপি করছিল আরেকদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা মানতে দোনমনা করছিল, তখন ছাত্রদলের নেতারা দাবি করেছিলেন যে তারা যেকোনো সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু যখন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলো তখন তারা নানা অজুহাতে নির্বাচন তিন মাস  পেছানোর জন্য দাবি জানাতে থাকলেন। তাদের প্যারেন্ট পার্টি বিএনপি যেমন জাতীয় নির্বাচনের সময় দাবি করেছিল যে জনগণ তাদের ভোট দিতে মুখিয়ে আছে, তারাও তেমনি দাবি করেছিলেন যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী নাকি তাদের সঙ্গে আছে। কিন্তু, বাস্তবতা হলো, ডাকসুতে তারা যাদের মনোনয়ন দিয়েছেন তাদের কেউই পরিচিত নন। এমনকি অনেক হল আছে যেখানে ছাত্রদল পূর্ণ প্যানেল দিতে পারেনি।

বাম সংগঠনগুলোর অবস্থা আরও খারাপ। প্রথমত তারা সবাই ডাকসু নির্বাচনের জন্য একসঙ্গে আন্দোলন করতে পারলেও, নির্বাচনটি তেমনভাবে করতে পারছে না। ছাত্র ফেডারেশনের এক নেত্রীকে প্রথমে বাম সংগঠনগুলোর সম্মিলিত প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) হিসেবে ঘোষণা করা হলেও পরে তাকে বাদ দিয়ে আরেকটি ছেলেকে ওই পদে দেওয়া হয়েছে। কেন এ পরিবর্তন কোনো পক্ষ থেকেই তা ব্যাখ্যা করা হয়নি। এখন ছাত্র ফেডারেশন জিএসসহ মাত্র পাঁচটি পদে শুধু ডাকসুতে নির্বাচন করছে, আর অন্য বামেরা কোনো হলেই পূর্ণ প্যানেল দিতে পারেনি। কোনো কোনো হল আছে, যেখানে তাদের একজনও প্রার্থী নেই।

কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের প্যানেল নিয়ে যারা আশাবাদী হতে চাচ্ছেন তারাও শেষ পর্যন্ত হতাশ হবেন বলেই আমার ধারণা। প্রথমত মাত্র কয়েক মাস আগে কোটা সংস্কারের ব্যানারে ‘বিশাল’ আন্দোলন করলেও, ডাকসু নির্বাচনে তারা সব হলে পূর্ণ প্যানেল দিতে পারেননি। তাছাড়া, তারা যাদের ডাকসুর ভিপি-জিএস-এজিএস পদে মনোনয়ন দিয়েছেন তাদের সবারই জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবিরের সঙ্গে এক ধরনের সংশ্লিষ্টতা আছে বলে বেশ ভালো প্রচার আছে। সত্যিই, বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে দেওয়া তাদের বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া তাদের বিভিন্ন পোস্ট বিচার করলে তারা যে অন্তত মানসিকতায় শিবির তা প্রমাণ করা খুব কঠিন কিছু নয়। এ অবস্থায় তারা খুব একটা সুবিধা করতে পারবেন বলে মনে হয় না।

পূর্ণ প্যানেল না দিতে পারার দায়টা সব সংগঠনই হলগুলোতে ছাত্রলীগের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের ওপর চাপাতে চায়। কিন্তু, প্রশ্ন হলো, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের তারা সঙ্গে পেল না কেন? অনাবাসিক কেউ প্রার্থী হলে কেউ তাকে বাধা দেওয়ার ছিল না। আর ক্যাম্পাসে বা হলে কোনো সংগঠনের দখলদারিত্ব শুধু আজ নয় বহু আগে থেকেই ছিল। বিশেষ করে এরশাদের সামরিক শাসনামলে দেশের বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ছাত্রশিবিরের দখলে ছিল। কিন্তু তার মধ্যেও বিভিন্ন সংগঠন, এমনকি বামপন্থি সংগঠনও, বিশেষ করে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে সংগঠন করেছে, নির্বাচন করে জিতেও গেছে।

ছাত্রলীগের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের কারণে ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকা- পরিচালনা অন্যদের জন্য কঠিন, এটা ঠিক; তবে ডান বা বাম ছাত্রলীগ বহির্ভূত কোনো সংগঠনই যে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো আকর্ষণ তৈরি করতে পারছে না এটা তার চেয়েও বেশি ঠিক। ফলে ছাত্রলীগ যদি শুধু যেসব ছাত্র-ছাত্রী সংগঠনটির সদস্য বলে পরিচয় দেয় তাদের সংগঠিত করে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যেতে পারে তাহলেই ডাকসু ও হল সংসদে তাদের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না বলেই অনেকের মতো আমারও ধারণা। এখানে আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে, যে-কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেকের মধ্যে ছাত্রলীগবিরোধী মনোভাব থাকলেও অন্য কোনো সংগঠনের পতাকাতলে যাওয়ার ইচ্ছা দেখা যাচ্ছে না; ঠিক একই কারণেই তাদের অনেকে ভোট দেওয়া থেকেও বিরত থাকতে পারেন, যা ছাত্রলীগকে সুবিধা দেবে এটা বুঝতে কোনো বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার নেই। লেখক

লেখক ও গবেষক

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত