সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ব্যালট ছিনতাই সংঘর্ষ

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৯, ১২:৫২ এএম

ব্যালট পেপার ছিনতাই, ভোটগ্রহণ স্থগিত ও বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের  মধ্য দিয়ে গতকাল রবিবার হবিগঞ্জের আটটি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংঘর্ষে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, পুলিশ ও আনসার সদস্য আহত হয়েছেন। রাজশাহীর তানোরে ভোট দিতে যাওয়ার পথে হামলায় আহত হয়েছেন চারজন। অবশ্য পুলিশ বলছে, তানোরের ঘটনাটি জমি সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জের। নাটোরের সিংড়ায় ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে আটক করা হয়েছে দুজনকে। একই জেলার বাগাতিপাড়ায় দুটি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের পৃথক সংঘর্ষে দুজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সুনামগঞ্জের শাল্লা, তাহিরপুর ও সদরে ব্যালট পেপার ছিনতাই, প্রিসাইডিং অফিসারকে হুমকি ও সংঘর্ষের কারণে ছয়টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

হবিগঞ্জ : বেলা ১১টার দিকে বানিয়াচং উপজেলার শাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইকরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। তাৎক্ষণিক ইকরাম কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও হামলায় শাহপুর কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা প্রভাষক জাহির আলম, রিজার্ভ রেঞ্জ ফোর্সের কনস্টেবল জামাল উদ্দিন (২২) ও আনসার সদস্য আবদুল মালেকসহ (৩৮) ছয়জন আহত হন। সঙ্গে সঙ্গে ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয় বলে জানিয়েছেন বানিয়াচং উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন খন্দকার।

অপরদিকে, দুপুর ১২টার দিকে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় চেয়ারম্যান পদের ১৩০টি ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের ৮৯টি ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। এ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে বলে জানান প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মহিতোষ সূত্রধর।

একই উপজেলায় চৌধুরী হামদু মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে একদল লোক ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় ৪৩টি ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হলেও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কল্যাণব্রত দাশ।

চুনারুঘাট উপজেলার কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ বাধে। এ ঘটনায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে ভোটগ্রহণ।

নাটোর : সিংড়ার চৌগ্রামের নিমাকদমা ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে নৌকা সমর্থক শাহরিয়াল পায়েল ও তাজুল ইসলাম রিপনকে স্ট্রাইকিং ফোর্স আটক করেছে বলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আকতার বানু জানান। বাগাতিপাড়া উপজেলার দুটি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের পৃথক সংঘর্ষে নাজমুল হোসেন ও আদম আলী নামে দুজন আহত এবং স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

রাজশাহী : তানোরের বদ্ধপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় চারজন আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সকাল ১০টার দিকে ভোট দিতে যাওয়ার পথে তারা হামলার শিকার হন। তবে রাজশাহীর পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ জানান, এটা নির্বাচনী সংঘর্ষ নয়। পারিবারিক কলহের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে, গোদাগাড়ী উপজেলার একটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। দুপুরে পৌনে ১টার দিকে উপজেলার আল জামিয়াতুস সালাফিয়া আলিম মাদ্রাসা কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়। এ সময় কেন্দ্র থেকে দুই সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও নৌকা প্রতীকের একজন পোলিং এজেন্টকে আটক করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ : ব্যালট পেপার ছিনতাই, প্রিসাইডিং অফিসারকে হুমকি ও সংঘর্ষের কারণে সুনামগঞ্জের তিনটি উপজেলার ছয়টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। দুপুরের পর এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ পুরোপুরি স্থগিত করা হয়।

শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোক্তাদির আল হোসাইন জানান, খাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আনন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ইয়ারাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল থেকে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী আল আমিন চৌধুরী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অবনী মোহন দাসের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। দুপুরের দিকে এই তিনটি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনটি বিদ্যালয়ে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনি জানান, ইয়ারাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরিকে ব্যালট ছিনতাইয়ের অভিযোগে আটক করা হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত