রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

চূড়ান্ত পর্বে চোখ রেখে কাতার গেল যুব দল

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৯, ১১:০৯ পিএম

এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ চ্যাম্পিয়নশিপের মূল পর্বে নাম লেখানোর স্বপ্ন নিয়ে আজ দেশ ছেড়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল। বাছাই পর্বের খেলা আগামী ২২ মার্চ থেকে শুরু হবে বাহরাইনে। তার আগে বাংলাদেশের যুবারা ১০ দিনের প্রস্তুতি সেরে নেবে কাতারে। ইংলিশ কোচ জেমি ডে’র অধীনে কাতারের উন্নত ট্রেনিং সুবিধায় নিজেদের বড় পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতির সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ। বাছাই পর্ব উতরে আগামী বছর থাইল্যান্ডে মূল পর্বে নাম লেখানোর ‘বড়’ স্বপ্নটা এখন ফুটবলারদের চোখে। কম্বোডিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের প্রীতি ম্যাচে ১-০ গোলে হারানোর আত্মবিশ্বাসটাই তাদের দিয়েছে বড় স্বপ্ন দেখার পুঁজি।

গতকাল বিমান ছাড়ার আগমুহূর্তে সেরকম প্রত্যয়ী কথাগুলো শোনা গেল ফরোয়ার্ড মতিন মিয়ার কণ্ঠে। কম্বোডিয়ায় গত ৯ মার্চ শুরু থেকে দারুণ সব আক্রমণ রচনা করে প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগ নাড়িয়েছেন বারবার। যদিও রবিউল হাসানের করা জয়সূচক গোলটির আগেই তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। গোলখরা কাটাতে অ্যাটাকিং লাইনআপ পাল্টে ফেলেন জেমি ডে। মতিন মিয়া, নাবিব নেওয়াজ জীবন ও বিপলু আহমেদকে বসিয়ে তিনি মাঠে নামান ফ্রেশ লেগ রবিউল, মাহবুবুর রহমান সুফিল ও মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে। এ তিনজনই অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সদস্য। তাই তো নিজে গোল না পেলেও কম্বোডিয়া জয়ে মতিনের মনোবলও তুঙ্গে, ‘আমাদের আসলে লক্ষ্য একটাই, মূল পর্বে নাম লেখানো। কম্বোডিয়ার বিপক্ষে জাতীয় দলের বেশ কজন ফুটবলার অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সদস্য। তারা প্রত্যেকে নিজেদের প্রমাণ করেই দলে সুযোগ পেয়েছেন। আশা করছি গ্রুপের তিন ম্যাচে নিজেদের সেরাটা ঢেলে দিয়ে মূল পর্ব নিশ্চিত করতে পারব।’
মতিনের প্রত্যয় দেখে ভাববেন না খুব সহজ চ্যালেঞ্জ হাতছানি দিচ্ছে বাংলাদেশকে। ‘বি’ গ্রুপের স্বাগতিক বাহরাইন ছাড়াও তাদের মুখোমুখি হতে হবে ফিলিস্তিন ও শ্রীলঙ্কার। শেষ প্রতিপক্ষকে হারানোর ক্ষমতা রাখে বাংলাদেশ। তাই বলে বাহরাইন ও ফিলিস্তিনকে হারানোর স্বপ্নটা বড়ই। তবে এশিয়ান গেমসে কাতারকে হারানোর পর এই তরুণদের কাছে কোনো প্রতিপক্ষই বড় নয়। তেমনটাই বললেন দলের গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো, ‘এশিয়ান গেমসের আগেও কাতারে অনুশীলন করেছি। সেটার ফল আপনারা দেখেছেন। কাতারকেও হারিয়েছি। সুতরাং আমাদের সামর্থ্য আছে যেকোনো প্রতিপক্ষকে হারানোর। স্বাগতিক হিসেবে বাহরাইন হয়তো কিছুটা এগিয়ে থাকবে। তবে ফিলিস্তিনকে হারাতে পারব বলে বিশ^াস আছে।’
দলের কোচ জেমি ডে অবশ্য পা মাটিতে রাখার পক্ষে। তিনি মনে করেন, গ্রুপ পর্ব টপকানো মোটেই সহজ হবে না। আর সেটা করতে হলে তার শিষ্যদের সেরাটাই দিতে হবে মাঠে, ‘গ্রুপ পর্ব পেরোনো কঠিন। তার জন্য তরুণ এই দলকে তাদের সেরাটা উজাড় করে খেলতে হবে। বাহরাইনের মূল আসরের আগে কাতারে ভালো প্রস্তুতি হবে বলেই আমার বিশ্বাস।’
গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ২২ মার্চ বাহরাইনের বিপক্ষে। এরপর ২৪ ও ২৬ মার্চ ফিলিস্তিন এবং শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে তারা। ১১টি গ্রুপের ১১ শীর্ষ দল এবং সেরা চার রানার্সআপ আর মূল পর্বের স্বাগতিক থাইল্যান্ডকে নিয়ে মোট ১৬ দলের মূল পর্ব হবে আগামী বছর।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত