মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ফিটনেস-উন্নতির চ্যালেঞ্জে ফুটবলাররা

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২০, ০১:৫২ এএম

৭ মাস খেলার বাইরে থাকার প্রভাবে ফিটনেসের অবস্থাও ভালো নয় অনেক ফুটবলারের। অথচ তাদেরই ১৩ ও ১৭ নভেম্বর ঘরের মাঠে মুখোমুখি হতে হবে নেপালের। ফিফা প্রীতি ম্যাচ দু’টিকে সামনে রেখে ফুটবলারদের ৯০ মিনিট খেলার অবস্থায় ফেরানোর কঠিন কাজ নিয়ে গতকাল মাঠে নেমেছেন ইংলিশ কোচ জেমি ডে। ইংল্যান্ড থেকে ফিরে তিন দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকার পর ৩৪ ফুটবলারকে নিয়ে কালই প্রথম অনুশীলন করিয়েছেন তিনি। বড় বিরতির পর শিষ্যদের মধ্যে খেলার তাড়না দেখে খুশি এই কোচ ছক কাটছেন খুব অল্প সময়ে কী করে ফিটনেসের উন্নতি ঘটানো যায়। সময় হাতে আর ১১ দিন। শুধু ফিটনেস নিয়ে ভাবলেই চলবে না। একই সঙ্গে পায়ে-বলের প্রস্তুতিটাও সারতে হবে। প্রত্যাবর্তনের উপলক্ষ হিসেবে নেওয়া এই ম্যাচ দু’টি তাই জেমি’র কাছে অনেক বড় চ্যালেঞ্জের।

নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ দু’টিতে হারলে বড় বিশেষ ক্ষতি হয়ে যাবে, তা নয়। উল্টো এই ম্যাচগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিতে গেলে ফুটবলারদের চোটের ঝুঁকি বাড়বে। ফুটবলাররাও আসন্ন ঘরোয়া মৌসুমের কথা ভেবে নিশ্চয় চাইবেন ইনজুরি এড়িয়ে খেলতে। তবে প্রথম দিন কাছ থেকে শিষ্যদের দেখে জেমি প্রশংসাই করলেন, ‘খেলোয়াড়রা যেভাবে ক্যাম্পে চেষ্টা করছে তা দেখে সত্যি আমি খুশি। তাদের পারফরম্যান্স খুবই ইতিবাচক। যদিও ফিটনেসের কাক্সিক্ষত মান থেকে অনেক দূরে রয়েছে অনেকে। তাই ফিটনেস নিয়ে আগামী ৫/৬ দিন আমাদের কাজ করতে হবে। ছেলেদের বলেছি যাতে তাদের ফিটনেস এরকম একটা পর্যায়ে পৌঁছায় যেখান থেকে তারা খেলার জন্য প্রস্তুত থাকবে।’

করোনার কারণে বড় একটা বিরতির পর পুরোপুরি আগের অবস্থানে ফিরতে কমপক্ষে ৬ সপ্তাহ সময় প্রয়োজন ফুটবলারদের। সেটা তারা পাচ্ছে না। সময় স্বল্পতা মাথায় নিয়েই পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন কোচ, ‘আমি আগেও বলেছি ২০ দিন সময় মোটেও যথেষ্ট নয়। খেলোয়াড়দের জন্যও কাজটা অনেক কঠিন। তারপরও আগামী দিনগুলোতে তাদের সেরাটা দিলে ম্যাচগুলোতে পারফরমেন্স খারাপ হবে না। আর এই ম্যাচগুলো আমাদের সামনের বছরের জন্য প্রস্তুতিতে সহায়ক হবে। আমি বুঝি যে ফুটবলাররাও খেলার জন্য মুখিয়ে আছে। এটাও ঠিক আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলতে হলে ফিফা উইন্ডোগুলো কাজে লাগাতে হবে। এটা বুঝে আমরা যদি ৫-৬ সপ্তাহ আগে থেকে শুরু করতে পারলে ভালো হতো। সেটা যেহেতু হয়নি, এখন যে সময়টা পাচ্ছি সেটার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে।’

জেমির কাজ খানিকটা কমিয়ে দিয়েছেন বসুন্ধরা কিংসের ১২ ফুটবলার। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাবটি প্রাক-মৌসুম অনুশীলন শুরু করেছে। ফলে ফিটনেসে তাদের ফুটবলাররা এগিয়ে অনেকটাই। জেমি অবশ্য অন্যদেরও খেলার সুযোগ করে দিতে চান, ‘আগামী ১০দিনে দেখব ফুটবলাররা ফিটনেস লেভেলটা কোথায় নিতে পারে। আমরা সবাইকেই একটা সুযোগ দিতে চাই। আশা করছি অন্যরাও অনুশীলনে তাদের সেরাটা দেবে।’

জেমির চ্যালেঞ্জ গোটা দল নিয়ে। তার স্বদেশি লেস ক্লিভেলি এসেছেন গোলরক্ষকদের প্রস্তুত করতে। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে কোচিংয়ের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ এই কোচ মনে করেন এ মুহূর্তে গোলরক্ষকদের কৌশলগত দীক্ষা দেওয়ার চেয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোটা বেশি প্রয়োজন, ‘কৌশল নিয়ে তো সবসময়ই কাজ করি। তবে এখন গোলরক্ষকদের বিশ্বাস জোগাতে হবে যে তারা ভালো করতে পারবে, তারা ভয় পাবে না। সেটা করতে পারলেই তাদের ভুলের পরিমাণ কমে আসবে। কৌশলগত দক্ষতা বৃদ্ধি ভুল কমিয়ে আনতে জরুরি। তবে এত কমসময়ে মানসিক শক্তিটা থাকা জরুরি।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত