মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

৫৫ টাকার কমে পেঁয়াজ বিক্রি সম্ভব নয় : বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২০, ০২:১২ এএম

সরকারের সহযোগিতায় পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। তবে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি কেজির দাম ৫৫ টাকার কমে বিক্রি করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

গতকাল রবিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২০-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন,  গত বছর পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল। ওই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে  এবার আগে থেকেই আমরা প্রস্তুত ছিলাম। সংকট সৃষ্টি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের সহযোগিতায় পেঁয়াজ আমদানি শুরু করা হয়। তিন দিন আগে থেকে দেশে পেঁয়াজ আসা শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ীদের মুনাফা, আমদানিকারকদের কমিশনসহ সব খরচ যোগ করে প্রতি কেজির দাম ভোক্তা পর্যায়ে কোনো অবস্থায়ই ৫৫ টাকার নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব নয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের চাহিদার তুলনায় ৮-৯ লাখ টন পেঁয়াজের ঘাটতি হয়। প্রতি বছরের সেপ্টেম্বরে এই ঘাটতি দেখা দেয়। এর ৯০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করে ভারত। কিন্তু এখন সে দেশে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ভারতের কলকাতার বাজারে এখন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশি টাকায় প্রতি কেজি ১০৫-১১০ টাকায়। আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪৭ রুপি অর্থাৎ ৫৫ টাকায়। তার মানে আলু, পেঁয়াজের দাম আমাদের দেশের সঙ্গে তাদের দেশেও বেড়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজ ও আলুর সংকট এবং দাম বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। তারা আগে থেকে আমাদের কিছু বলল না, হঠাৎ বন্ধ করে দিয়েছে। গতবারও একই অবস্থা হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা বলছি আমদানি পেঁয়াজ ৫৬ টাকার নিচে বিক্রি করা যাবে না। এখন আপনাদের অনুসন্ধান করতে হবে, এটা কি আসলেই সঠিক দাম? আপনাদের সেই তথ্যই আগামী দিনের বাজার শিথিলতায় কাজ করবে।

তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাতের সঙ্গে আমি জড়িত। একসময় বিজিএমইএর প্রেসিডেন্ট ছিলাম। এ খাতটি সম্পর্কে আমি জানি। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ায় মহামারীর মধ্যেও এ খাতটি এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এ সময় তিনি প্রতিবেদন তৈরিতে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা, বিশেষত বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনার  পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির চিত্রও সঠিকভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

ইআরএফ সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম, দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ  কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ, ইআরএফ সাবেক সভাপতি শামসুল হক জাহিদ, ইআরএফ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২০ জুরিবোর্ডের সমন্বয়ক সিরাজুল কাদির প্রমুখ বক্তব্য দেন।  এ সময় ইআরএফের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ইআরএফ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড পেলেন যারা

এ বছর ৯টি ক্যাটাগরিতে ১৫ জন ইআরএফ সদস্য সেরা রিপোর্টার হিসেবে নির্বাচিত হন।  অ্যাওয়ার্ড প্রদানে সহায়তা করেছে দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন। বিজয়ীদের ক্রেস্ট, সম্মাননাসহ নগদ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও চেক তুলে দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

পুরস্কার বিজয়ীরা হলেন দৈনিক ইত্তেফাকের জামাল উদ্দীন, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের জসিম উদ্দিন হারুন, প্রথম আলোর রাজিব আহমেদ, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর শাহ কাজল ও সানাউল্লাহ সাকিব, শেয়ার বিজের ইসমাইল আলী, যুগান্তরের এস এ এম হামিদ উজ জামান, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের জেবুন নেসা আলো, দেশ রূপান্তরের আলতাফ মাসুদ, জিটিভির রাজু আহমেদ, যমুনা টিভির সুশান্ত সিনহা, রিমন রহমান, আলমগীর হোসেন, সময় টিভির এস এম যোবায়ের আলম এবং একাত্তর টিভির কাবেরী মৈত্রেয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত