শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিনা ভোটে মেয়র থাকতে সীমানা জটিলতার অছিলা!

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২০, ০২:২৩ এএম

নির্বাচনের নির্ধারিত সময়ের পর সাড়ে চার বছর পেরিয়ে গেলেও সীমানা জটিলতার মামলায় এখনো অনিশ্চয়তার মুখে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌরসভার নির্বাচন। পৌরবাসীর অভিযোগ উন্নয়ন ও কাক্সিক্ষত সেবা না পাওয়া। আবার অনেকের অভিযোগ, মামলা জটিলতা সৃষ্টি করে পৌর মেয়র দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকতে চাচ্ছেন। তবে পৌর মেয়রের দাবি, সীমানা জটিলতার মামলায় আদালত ‘নির্বাচনে স্থিতাবস্থার’ আদেশ দিয়েছে।

পাঁচবিবি পৌরসভায় সর্বশেষ ২০১১ সালের ১২ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে মেয়র হিসেবে বিজয়ী হন পাঁচবিবি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব। ২০১৬ সালের ৬ মার্চ নির্বাচনের পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রায় সাড়ে চার বছর পেরিয়ে গেলেও সীমানা সংক্রান্ত মামলা থাকায় এ পৌরসভার নির্বাচন এখনো অনিশ্চয়তার মুখে। ২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে ২২ হাজার ৪৭৫ জন ভোটার রয়েছেন।

জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পাঁচবিবি পৌর এলাকায় সীমানা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পাঁচবিবির বালিঘাটা ইউপির গণেশপুর, পাটাবুকার, মহব্বতপুর, খাসবাগুড়ী ও করট্টির আংশিক মৌজা নিয়ে শহর এলাকা ঘোষণা করে ২০১৫ সালের ২৭ আগস্ট তারিখে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কিন্তু এর বিরুদ্ধে স্থানীয় আদালতে মামলা এবং উচ্চ আদালতে রিট করা হয়। যার সমাধান না হওয়ায় এখনো বন্ধ আছে পৌরসভার নির্বাচন প্রক্রিয়া।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী ও সুধীজন অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতা ধরে রাখতেই নানা কৌশলে রিটের পর রিট, মামলা ও উচ্চ পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করে সঠিক সময়ে যাতে নির্বাচন না হয় তারই চেষ্টা করে আসছেন মেয়র হাবিব।

বালিঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান চৌধুরী বিপ্লব দেশ রূপান্তরকে বলেন, উচ্চ আদালতে আমি বিচার চেয়েছি। ওই এলাকাগুলো কৃষিভিত্তিক এলাকা। এলাকাগুলো পৌরসভার অংশ হতে পারে না।

এদিকে পাঁচবিবি পৌরসভার মেয়র হাবিবুর রহমান হাবিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, পাঁচবিবি পৌরসভার সীমানা ছোট হওয়ার কারণে তা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছিলাম। বর্তমানে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে। আদালত আদেশ দিলে সে মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে নির্বাচনের নির্দেশনা এলেই ভোটের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-১ শাখার উপ-সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন দেশ রূপান্তরকে মুঠোফোনে বলেন, বর্তমান আইনে পুরাতন পৌরসভাতে প্রশাসক নিয়োগের বিধান নেই। পাঁচবিবি পৌরসভার নির্বাচনের ব্যাপারে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, ওই পৌরসভার সাবেক মেয়র ও স্থানীয় সাংসদ সামছুল আলম দুদু দেশ রূপান্তরকে বলেন, পাঁচবিবি পৌরসভার মেয়র দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার অপকৌশল হিসেবে এসব মামলা, রিট করে ভোট বন্ধ করেছেন। জনগণ প্রতিনিয়ত আমার কাছে জানতে চাচ্ছে কেন ভোট হচ্ছে না? মেয়র পাঁচবিবি পৌরবাসীর ভোটের অধিকার খর্ব করছেন। এই পৌরসভায় দ্রুত নির্বাচন দেওয়া হোক।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত