শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কথিত পীরের আস্তানায় তরুণকে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২০, ০৩:৪৯ এএম

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় কথিত পীর হাফিজুল ইসলামের আস্তানায় পিটুনিতে আহত ঈসাহাক আলী (২৮) মারা গেছেন। গত শনিবার রাত ১০টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল (রামেক) কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঈসাহাক উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের সিভিলহাট গ্রামের দুলাল হোসেনের ছেলে। গত শুক্রবার রাতে তাকে আস্তানায় পিটিয়ে গুরুতর জখম করে পীরের স্বজনরা। নিহতের স্বজন, পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের সাঁড়াঘাটের (ব্লকপাড়া) জয়নাল মোল্লার বাড়িতে পাঁচ বছর আগে ‘নুরনবী মওলাপুরী দরবার শরীফ’ নামে একটি মাজার দেন তার জামাতা কথিত পীর হাফিজুল ইসলাম। সেখানে প্রতি মাসের শেষ বৃহস্পতি অথবা শুক্রবার রাতব্যাপী আসর বসে। ভক্ত হিসেবে ঈসাহাক আস্তানায় নিয়মিত যাতায়াত করেন। এরই মধ্যে হাফিজুলের বিধবা শ্যালিকা খালেদা খাতুন কুটিলার (২৬) সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

গত শুক্রবার রাতে আসর চলাকালে আস্তানার অন্য একটি কক্ষে কুটিলার সঙ্গে ঈসাহাককে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ফেলেন মেয়েটির ভাই রবিউল মোল্লা। তার চিৎকারে বড় ভাই বাবু মোল্লাও হাজির হন। এরপর কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে দুই ভাই রড ও হাতুড়ি দিয়ে ঈসাহাককে বেধড়ক মারধর করে ঘরে আটকে রাখেন। রাতভর রক্তক্ষরণে ঈসাহাকের অবস্থা খারাপ হলে পরের দিন ভোরে গোপনে রামেক হাসপাতালে নিয়ে তাকে ভর্তি করা হয়। রাতে ঈসাহাকের মৃত্যু হয়।

হাফিজুলের এক প্রতিবেশী জানান, ঈসাহাকের পাঁচ বছর এবং কুটিলার চার বছর বয়সী একটি করে সন্তান রয়েছে। পাঁচ বছর আগে কুটিলার স্বামী কীটনাশক পানে আত্মহত্যা করেন। এরপর থেকে তিনি কখনো বাবা কখনো দুলাভাই হাফিজুলের বাড়িতে বসবাস করতেন।

ঈশ্বরদী থানার ওসি শেখ নাসীর উদ্দীন জানান, কথিত পীরের আস্তানায় এক তরুণকে পিটিয়ে হত্যার খবর তারা পেয়েছেন। তবে এখনো কেউ মামলা করেনি। মামলা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত