মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বাচ্চা খায় না কেন

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২১, ১২:৩৮ এএম

‘আমার বাচ্চা খায় না বা খেতে চায় না’ এটা সাধারণ প্রশ্ন। বলুন তো, একটা ছোট্ট শিশুর পাকস্থলীর ধারণ ক্ষমতা কতটুকু? আসলে কি বাচ্চারা বড়দের মতো করে খেতে পারে? যখন শিশুর বয়স ৬ মাস পেরিয়ে গেল, খাওয়ার অত্যাচার তখন থেকেই শুরু হয়। কী কী খাবার খাওয়ানো যায়, কত বেশি খাওয়ানো যায়, কীভাবে খাওয়ানো যায় ইত্যাদি আরও কত কী? পরামর্শ দিলেন ডায়েট কাউন্সেলিং সেন্টারের প্রিন্সিপাল নিউট্রিশনিস্ট সৈয়দা শারমিন আক্তার

শিশুকে শুধু মায়ের দুধ খেয়ে ৬ মাস পূর্ণ করার পর প্রথম যে খাবার খাওয়ানো দরকার সেটা হলো শর্করা আর প্রোটিনজাত খাবার। কারণ মায়ের দুধের শর্করার নাম ল্যাকটোজ আর প্রোটিনের নাম কেজিন। অর্থাৎ তার পাকস্থলী শর্করা ও প্রোটিন খাওয়ার উপযোগী অবস্থায় রয়েছে। শতকরা হিসেবে মাত্র ২% করে থাকে। আর অন্যদিকে মায়ের দুধে ফ্যাটের পরিমাণ প্রায় ৬% থাকে। কিন্তু ফুলক্রিম হিসেবে থাকে না এবং পরিপাকের দিক থেকে চর্বি দেরিতে হজম হয় বলে মায়ের দুধের পাশাপাশি অন্য খাবার দিতে প্রথম শর্করা ও প্রোটিন দিয়ে শুরু করা ভালো। সহজপাচ্য হয় এমন খাবারের মধ্যে রয়েছে ভাত চটকানো, আলু চটকানো, মিষ্টিকুমড়ার পিউরি, আপেল পিউরি, কলা চটকানো ইত্যাদি। একটা একটা করে অভ্যস্ত করতে হয়। খুবই সামান্য করে ১ চা চামচ বা টেবিল চামচের ১ চামচ করে। আস্তে আস্তে পরিমাণে বাড়াতে হবে, সেইসঙ্গে ২ ধরনের খাবার, এরপর ৩ ধরনের খাবার, এরপর মিক্সড খাবার এভাবে বাড়াতে হবে। কখনো এটা ভাবা যাবে না যে, খাবারের পাত্রে যতটুকু নেওয়া হলো পুরোটুকুই খাওয়াতে হবে। এসময় শিশুখাদ্য যেন কোনো বাণিজ্যিক প্রোডাক্ট না হয়, সেটি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। আমরা যত আধুনিক হচ্ছি ততই যেন বাণিজ্যিক প্রোডাক্টে ঝুঁকে যাচ্ছি। এতে নিজেরাই নিজেদের আদরের সন্তানের স্বাস্থ্য নিয়ে খেলছি। শিশুদের কখনো ভিআইপি বানাতে নেই। আপনি যা খেয়ে থাকেন, শুধু পুষ্টিমান বজায় রেখে সে খাবার থেকেই সম্পূর্ণ দেশি শিশুখাদ্য নির্বাচন করুন।

এরপর ছোট শিশুটি যখন কিছুটা বড় হয় অর্থাৎ মোটামুটি পারিবারিক খাবারে যখন অভ্যস্ত হয়, তখন থেকে শিশুর কিছু আচরণগত পরিবর্তন হয়। যেমন- সে নিজের পছন্দমতো খাবার খেতে চায়। শুধু তা-ই নয় সে নিজে নিজে খেতে চায়। তখন শুরু হয় ওদের সঙ্গে আমাদের আরেক অত্যাচার। স্বাস্থ্য বাড়ছে না। বাচ্চা নিজে খেলে মনে করি সঠিক পরিমাণে খাওয়া হবে না। এটা ভেবে কখনো মোবাইল, কখনো টিভি বা কম্পিউটারের সাহায্য নিয়ে বাচ্চাদের খাওয়ানোর প্র্যাকটিস গড়ে তোলা হয়। আধা ঘণ্টা থেকে ৪০ মিনিট পর্যন্ত খাওয়ানোর পেছনে সময় ব্যয় করা হয়। খাবারের যেমন পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়, তেমনি বাচ্চার আস্তে আস্তে খাওয়ার ইচ্ছাও কমে যায়। বাচ্চাদের খাওয়াতে ২০-২৫ মিনিটের বেশি সময় দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বাচ্চারা যখন নিজের হাতে খেতে চাইবে তখন শুধু ব্যবস্থা করে দিন। বাচ্চা নিজেই নিজের প্রয়োজন মতো খেয়ে নেবে। কোনো জোর করে খাওয়ানোর প্রয়োজন নেই। নিজেরা খাওয়ার সময় বাচ্চাদের খাওয়ার চেয়ার নির্দিষ্ট করে দিন। খাবারের কালারফুল পাত্র দিন। দেখবেন আপনার সন্তান নিজেই খাবার নিয়ে আপনার সঙ্গেই খেয়ে নিচ্ছে। এতে সন্তানের যেমন লাভ আপনারও সময় বাঁচবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত