সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

রাসায়নিক ছাড়া ফসল উৎপাদন

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২১, ১১:১৮ পিএম

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোর ইউনিয়নের কাউটিয়া গ্রাম। এখানে ‘প্রাকৃতিক কৃষিকেন্দ্র ও প্রাণবৈচিত্র্য খামারে’ উৎপাদন হচ্ছে বিষমুক্ত বিভিন্ন ফসল। ক্ষেত থেকে রাজধানীতে এসে বেশ সাড়া ফেলেছে খামারের এসব ফসল। মানুষকে নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি জমিকে সার-ওষুধের হাত থেকে বাঁচানোর এ প্রচেষ্টায় জড়িত রয়েছেন দেলোয়ার জাহান নামে এক কৃষক।

সরেজমিনে দেখা যায়, খামারের চারদিকে সবুজ ফসল। একপাশে মেহগনি বাগান। জমির পাশে বাঁশের দোতলা ঘর। নিচতলায় প্রাকৃতিক কৃষি-চাষের পাঠ চলছে। ভোর থেকেই খামারে কাজ করছেন কৃষকরা। খামার সংশ্লিষ্টরা জানান, বিভিন্ন এলাকার কৃষক-কৃষাণি, যুবকরা এ খামারে প্রশিক্ষণ নিতে আসেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষে কৃষিতে জড়িয়ে পড়া দেলোয়ার তাদের বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনের প্রশিক্ষণ দেন।

এই খামারে ৪০ জাতের দেশি শাক-সবজি ও ফসলের চাষ হয়। আছে ধান, গম, ভুট্টা, টমেটো, পেঁপে, মটরশুঁটির চাষও। সব ধরনের ফসলের দেশি ও আদি জাত চাষ করা হয়। স্থানীয় কৃষক ছাড়াও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে এসব বীজ সংগ্রহ করেন খামারিরা।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহাদাৎ হোসেন জানান, খামারটির জন্য মানিকগঞ্জ সবার কাছে পরিচিত। আশপাশের কৃষকরা রাসায়নিকমুক্ত ফসলের চাষ শিখে নিজেরা এখন লাভবান হচ্ছেন। তাদের মাধ্যমে কিছু মানুষ অন্তত বিষমুক্ত খাবার খেতে পারছেন।

খামার ঘুরতে আসা স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ফয়সাল রহমান জানান, লোকমুখে মানিকগঞ্জের প্রাকৃতিক কৃষি খামারের নাম শুনে দেখতে এসেছেন। বিষমুক্ত ফসলের জন্য এ ধরনের কৃষি খামার দেশের সব জায়গায় হওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।

খামারের কর্ণধার দেলোয়ার জাহান দাবি করেন, ফসল চাষাবাদে তারা কোনো ধরনের সার-কীটনাশক ব্যবহার করেন না। এখানকার মাটি ঝরঝরে, প্রচুর কেঁচো রয়েছে। ফলে সহজেই মাটি অক্সিজেন পায়। এতে উর্বরতা বাড়ে, সার দিতে হয় না। মূলত জমিতে পাখপাখালির বিষ্ঠা, মানুষের উচ্ছিষ্ট খাবার ও মাছের আঁশ দিয়ে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি করা সার ব্যবহার করা হয়।

প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে কৃষক যেন ন্যায্য দাম পান, সেজন্য ফসলগুলো ঢাকার মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডে সংগঠনের প্রাকৃতিক কৃষি বিপণন কেন্দ্রের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। এখন মানুষ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ ছাড়াও বিষমুক্ত ফসলের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এতে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। দেশের সবাই যেন রাসায়নিকমুক্ত খাবার পেতে পারেন, সেজন্য প্রাণবৈচিত্র্য কৃষি খামার লড়াই চালিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন দেলোয়ার জাহান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত