মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

৫৮তে নগর বাউল জেমস

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২১, ১২:২০ এএম

আজ নগরবাউল খ্যাত দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা মাহফুজ আনাম জেমসের জন্মদিন। ৫৭ পূর্ণ করে ৫৮তে পা রেখেছেন তিনি। জেমস নিজের জন্মদিন সেভাবে উদযাপন করেন না। স্বাভাবিক সময়ে তার জন্মদিন মানে সারা দেশের অন্যরকম আমেজ তৈরি করে ভক্তরা। শহরজুড়ে তার বড় বড় পোস্টার, ফেস্টুনে মুখরিত হয়। মাইকে জেমসের গান বাজিয়ে আনন্দমিছিল করে ভক্তরা। তারাই মূলত জন্মদিনকে স্পেশাল করে দেয়। জেমস বলেন, ‘ভক্তদের ঘিরেই আমার সব। জন্মদিনে ভক্তদের এই উন্মাদনা আমি টের পাই সবচেয়ে বেশি। তারা আমাকে কতটা কাছের মনে করে, সেটা তাদের কর্মকান্ড ও আগ্রহ দেখে বুঝি। তাই অনেকগুলো বছর জন্মদিন মানেই ভক্তকেন্দ্রিক। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তারা আমার সঙ্গে দেখা করতে ছুটে আসে। গতবারের মতো এবারও করোনার কারণে সেই আয়োজনটি নেই। তবে এটা নিশ্চিত যে, তারা এবারও নানাভাবে আমার জন্মদিনকে বিশেষ করে দেবে। সকলের কাছে দোয়া চাই। যেন সুস্থ সুন্দর থেকে সবাইকে ভালো কিছু গান উপহার দিতে পারি।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেল, জেমসের কথাই সত্যি! দিনটি প্রতি বছরের মতো এবারও নানা আয়োজনের মাধ্যমে পালন করবে নগরবাউল ভক্তরা। জন্মদিনে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছে তারা। প্রতি বছরেই জেমসের জন্মদিনকে কেন্দ্র করে ভক্ত অনুরাগীরা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী কাজসহ ছিন্নমূল ও হতদরিদ্র মানুষকে খাবার দেন। এবারও হচ্ছে না তার ব্যতিক্রম। জেমসের মুখপাত্র রুবাইয়াৎ ঠাকুর রবিন জানান, প্রতি বছরই দেশের বিভিন্ন জেলার ভক্তরা জেমস ভাইয়ের জন্মদিনটি উদযাপনে নানা আয়োজন করে থাকেন। এবারও এ রকম বেশকিছু উদ্যোগের কথা জেনেছি। বিভিন্ন জেলার ‘দুষ্টু ছেলের দল’ নামে জেমসের ভক্তরা এবার দিনব্যাপী বিভিন্ন আয়োজন রেখেছে। এর মধ্যে ঢাকা, খুলনা, যশোর, নরসিংদী, রংপুর, মেহেরপুর, কুড়িগ্রাম, ভোলা, পটুয়াখালী, কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় জেমসের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনায় মসজিদ/মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন মিলনমেলায় দোয়ার আয়োজন রাখা হয়েছে। কেক কেটে সুবিধাবঞ্চিতদের সঙ্গে নিয়ে গান ও আড্ডার আয়োজন করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জসহ বেশকিছু জায়গায় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছে ‘দুষ্টু ছেলের দল’।

জেমস এখন একেবারেই একান্তে সময় কাটাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সংগীত ক্যারিয়ার। তার আগে থেকেই একটা অভ্যাস। নিয়মিত গানের চর্চা করা। প্রফেশনাল চর্চা শুরুর পর থেকে পুরো ব্যান্ড নিয়ে নিয়মিত প্র্যাকটিসে বসা আমাদের নগরবাউলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এই করোনাকালেও আমরা প্র্যাকটিস ছাড়িনি। সব সময়ই তৈরি থেকেছি স্টেজের জন্য, শত শত দর্শকের কোলাহলের জন্য। সুযোগ পেলেই মঞ্চে উঠেছি। তবে অনেক দিন হচ্ছে মঞ্চে গাওয়া হয় না।’ এখন করোনা পরিস্থিতি মোটামুটি ভালোর দিকে। স্কুল-কলেজও খুলে দিয়েছে। সব ধরনের কার্যক্রমই প্রায় স্বাভাবিকভাবে হচ্ছে। কিন্তু কনসার্টের খবর সেভাবে শোনা যাচ্ছে না। আর নগরবাউলকে নিয়ে কনসার্ট মানেই তো বিরাট আয়োজন, বিশাল বাজেট। সব মিলিয়ে মঞ্চে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে জেমস বলেন, ‘এরমধ্যে সচেতনতার জায়গা থেকেই কনসার্ট করিনি। দর্শকের সুরক্ষাও বড় বিষয়। আমরা প্রথম থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম করোনা আক্রান্তের হার ৫%-এর নিচে নেমে এলে নতুন কনসার্টের জন্য শিডিউল দেব। এখন সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি কিছুটা স্বস্তির। এমন পরিস্থিতি বিরাজ করলে শিগগিরই পূর্ণ উদ্যমে মঞ্চে ফিরবে নগরবাউল।’

এখন সময় কাটছে কীভাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে এই বিখ্যাত তারকা বলেন, ‘ছবির পেছনে সময় কাটছে। নিয়মিত ফটোশ্যুট করছি। সেগুলো নিজের ফেইসবুক পেইজে ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করি। তারা আমার গানের মতো ছবিগুলোও পছন্দ করে। উৎসাহ পেলে যেকোনো কাজেই শান্তি পাওয়া যায়।’

নতুন গানের কথাও ভাবছে ব্যান্ডদল নগরবাউল। জেমস বলেন, ‘দীর্ঘদিন নতুন গান উপহার দিতে পারিনি। তবে আমরা কাজ গুছিয়েছি নিজের মতো করে। আগামী বছরেই নতুন গান নিয়ে হাজির হব। ইচ্ছে আছে ২০২২-এর প্রথম ভাগেই আমাদের নতুন গান শুনতে পারবেন ভক্তরা।’ রকস্টার জেমসের জন্ম ১৯৬৪ সালে, নওগাঁয়। বেড়ে ওঠা এবং সংগীতে জড়িয়ে পড়ার পুরোটাই চট্টগ্রামে। নগর বাউল জেমসের বাবা ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। পরিবারের একরকম দ্বিমতে সংগীতচর্চা শুরু করেন জেমস। একসময় তিনি সংগীতের জন্য ঘর ছেড়ে পালিয়ে যান। জেমস ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ব্যান্ড ‘ফিলিংস’। ১৯৮৭ সালে প্রথম অ্যালবাম ‘স্টেশন রোড’ প্রকাশ পায়। ১৯৮৮ সালে ‘অনন্যা’ নামের একক অ্যালবাম প্রকাশ করে সুপারহিট হয়ে যান জেমস। এরপর ‘জেল থেকে বলছি’, ‘নগর বাউল’, ‘লেইস ফিতা লেইস’, ‘কালেকশন অব ফিলিংস’ অ্যালবামগুলো প্রকাশ পায়। এরপর ‘ফিলিংস’ ভেঙে জেমস গড়ে তোলেন নতুন লাইনআপে ব্যান্ড ‘নগর বাউল’। এই ব্যান্ড ‘দুষ্টু ছেলের দল’ এবং ‘বিজলি’ অ্যালবাম প্রকাশ করে। ২০০৫ সালে বলিউডে ‘গ্যাংস্টার’ চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেন। তার গাওয়া ‘ভিগি ভিগি’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত