বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

করোনা পিলে অগ্রগতি

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২১, ০১:০১ এএম

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে টিকা এখনো শতভাগ কার্যকরী নয়। টিকায় করোনা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ হয়েছে মনে হলেও বিজ্ঞানীরা এখনো সতর্ক থাকতে বলছেন। করোনা থেকে মুক্তি পেতে টিকার পাশাপাশি মুখে খাওয়ার ওষুধ তৈরির চেষ্টাও চলছে অনেক দিন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ কোম্পানি মেরেক অ্যান্ড রিজব্যাক থেরাপিউটিক দাবি করেছে, তারা একটি করোনা পিল তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। পিলটি পরীক্ষামূলকভাবে করোনায় আক্রান্তদের ওপর প্রয়োগ করে দেখা গেছে, এতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হার অর্ধেকে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

খুব সম্ভব এটাই প্রথম করোনা পিল হতে যাচ্ছে তা অনুমোদন দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। শুরুতে পিলটি অন্য ভ্যাকসিনের মতো জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এক সংবাদ বিবৃতিতে মেরেক জানিয়েছে, ‘তাদের অন্তর্বর্তী গবেষণা বলছে, এই পিল মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মাত্রা ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিতে পারে। যারা ওই পিল খেয়েছিলেন তাদের মধ্যে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ রোগীর ২৯ দিনের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি অথবা মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে ১৪ দশমিক ১ শতাংশের হাসপাতালে ভর্তিও হতে হয়নি, মৃত্যুও হয়নি।’ যত জলদি সম্ভব মেরেক তাদের পিলের অনুমোদন চাইবে এফডিএ’র কাছে। অনুমোদনের পরেই প্রতিষ্ঠানটি ওই পিলের ব্যাপক উৎপাদনে যাবে। তবে এই উৎপাদন কবে নাগাদ শুরু হবে এবং সহায়ক শক্তি হিসেবে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানও এই পিল তৈরি করবে কিনা, সে বিষয়ে মেরেক এখনো কিছু জানায়নি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মুখে খাওয়ার ওষুধ দিয়ে করোনাকে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কারণ, এ ধরনের পিল সহজে উৎপাদনযোগ্য ও এর দামও হয় কম। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটি সরবরাহে জটিলতা কম এবং সাধারণ জনগণের ক্রয়সাধ্যের মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশেই এখন টিকার দুই ডোজ দেওয়ার পরেও অনেকে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং এদের মধ্যে মৃত্যুহারও একেবারে কম নয়। এমন অবস্থায় বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোতে টিকার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নে উঠেছে। উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলোতে এই বিতর্ক নেই, কারণ সেখানে এখনো ভ্যাকসিন কার্যক্রম পুরো মাত্রায় শুরুই হয়নি। এখন এর মধ্যেই যদি করোনা পিল সহজলভ্য হয়ে যায়, তাহলে বহু দেশের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে দেখা দেবে পিলটি।

মেরেক তাদের পিলের পরীক্ষা চালিয়েছিল ৭৭৫ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর। এদের অধিকাংশের শরীরে করোনার মাঝারি মানের উপসর্গ দেখা গিয়েছিল।

এ ছাড়া এমনও অনেকে ছিলেন যারা করোনা ছড়িয়ে দেওয়ার সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে ছিলেন। স্বেচ্ছাসেবীদের অর্ধেককে পাঁচ দিনের ওষুধ দেওয়া হয়, যার নামকরণ করা হয়েছে মলনুপিরাভির। আর অর্ধেককে ক্রিয়াহীন ওষুধ দেওয়া হয়। এদের মধ্যে ৫৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। আর ওষুধ যারা খেয়েছিলেন তাদের মধ্যে ২৮ জনকে ভর্তি করাতে হয়। তবে এই পিলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে এখনো প্রতিষ্ঠানটি জানায়নি।

করোনার পিল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে আরও কিছু ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। এদের মধ্যে এগিয়ে আছে জনসন অ্যান্ড জনসন। প্রতিষ্ঠানটি করোনা প্রতিরোধে এক ডোজের টিকা তৈরি করলেও পিলের ব্যাপারে এখনো অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত