রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ভারতীয় মার্শাল আর্টের শেষ কিংবদন্তি

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২১, ০১:০৩ এএম

বাঁশের লাঠি হাতে এখনো বেশ চঞ্চল মীনাক্ষী আম্মা। ভারতের কেরালা রাজ্যের এই ৭৮ বছর বয়সী নারীকে বলা হচ্ছে ভারতীয় মার্শাল আর্টের জীবন্ত শেষ কিংবদন্তি। তার হাত ধরেই হয়তো শেষ হয়ে যাবে পৃথিবীর প্রাচীন শরীর-কলাবিদ্যা। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের এই শরীর-কলাবিদ্যাকে বলা হয় ‘কলারিপাইটু’। প্রায় ভুলতে থাকা এই কলাকে মীনাক্ষী আম্মা ফের তুলে ধরেছেন বিশ্ববাসীর সামনে। তার অনাবিল ছন্দ ও লড়াই কৌশলে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই।

সম্প্রতি বার্তা সংস্থা এএফপির সঙ্গে কথা বলেন মীনাক্ষী। সেখানে তিনি বলেন, ‘মাত্র সাত বছর বয়সে আমি কলারি শুরু করি। এখন আমার বয়স ৭৮। এখনো চর্চা ও শিক্ষা চালিয়ে যাচ্ছি।’ ১৯৪৯ সালে মীনাক্ষীর স্বামী তৈরি করেন কাদাখানন্দ কলারি সংঘম স্কুল। এখন মীনাক্ষীই দেখাশোনা করেন ওই স্কুলের। সমাজে নারীদের বর্তমান অবস্থা ও তাদের ওপর সহিংসতার ঘটনা প্রসঙ্গে মীনাক্ষী বলেন, ‘আপনি পত্রিকার পাতা খুললেই নারীদের ওপর সহিংসতার ঘটনা দেখতে পাবেন। নারীরা মার্শাল আর্ট শিখলে তাদের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক শক্তিমত্তা বাড়ে। এতে তারা একাকী চলাফেরা করতে সাহসী হয়।’

শরীর-কলাবিদ্যার এই কলারিপাইটু ধরনের মূল বিষয়টি নৃত্য ও যোগ। সাথে অস্ত্র হিসেবে তলোয়ার, ঢাল ও প্রাচীন ভারতীয় বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে। বলা হয়, এই কলা প্রায় তিন হাজার বছরের পুরনো। ভারতীয় প্রাচীন পুঁথিতেও এর সম্পর্কে বলা আছে। শরীর সুরক্ষা ও আক্রমণ প্রতিহত করতে প্রাচীন ভারতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যে-কেউ কলারিপাইটু শিখতে পারত। তারই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন মীনাক্ষী।

১৮০৪ সালে ব্রিটিশরা এই কলাচর্চা নিষিদ্ধ করে। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত এই কলাচর্চাকারীরা এক কথায় আত্মগোপনে থেকেই চর্চা করতেন। দেশ স্বাধীন হলে দেখা যায়, হাতে গোনা কয়েকজন মাত্র জীবিত আছেন যারা কলারিপাইটু সম্পর্কে জানেন এবং এর পূর্ণাঙ্গ চর্চা সম্পর্কে ধারণা আছে। হয়তো মীনাক্ষী ও তার স্বামী এই ধারাকে ধরে না রাখলে বিশ্ব হারাতো এক বৈচিত্র্যময় শরীরকলাবিদ্যা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত