সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বুদ্ধিমানদের বৈশিষ্ট্য

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২১, ০১:৩০ এএম

পৃথিবীতে সবাই চায় সফল হতে, প্রত্যেকেই চায় বুদ্ধিমান হিসেবে নিজেকে জাহির করতে। অথচ আমরা জানি না, প্রকৃত সফল এবং বুদ্ধিমান কারা। যাদের অঢেল ধনসম্পদ আছে এবং ক্ষমতাবান তাদের আমরা সফল ভাবি। পক্ষান্তরে যারা বিভিন্ন কূটকৌশলী তাদের বুদ্ধিমান মনে করা হয়। ঢালাওভাবে এমন মনে করা কোরআন-হাদিসের শিক্ষা পরিপন্থী কাজ। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এবং নিশ্চয়ই উত্থান দিনে তোমাদের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে; অতএব যে ব্যক্তি নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাল এবং জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারল সেই সফলকাম! আর দুনিয়ার জীবন ছলনাময় ভোগ ছাড়া কিছুই নয়।’ সুরা আলে ইমরান : ১৫৮

হাদিসে বুদ্ধিমান প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘একদা আমি হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে ছিলাম। এমতাবস্থায় একজন আনসারি সাহাবি এসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সালাম দিলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! মুমিনদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম কে? তিনি বললেন, স্বভাব-চরিত্রে তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অধিক উত্তম। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, মুমিনদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বুদ্ধিমান কে? তিনি বললেন, তাদের মধ্যে যারা মৃত্যুকে অধিক স্মরণ করে এবং মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের জন্য উত্তমরূপে প্রস্তুতি গ্রহণ করে, তারাই সর্বাধিক বুদ্ধিমান।’ সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৫৯১

উল্লিখিত হাদিসে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বুদ্ধিমান মুমিন ওই ব্যক্তি, যে মৃত্যুকে খুব বেশি স্মরণ করে এবং মৃত্যু-পরবর্তী জিন্দেগির জন্য উত্তমরূপে প্রস্তুতি গ্রহণ করে। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনের অন্যত্র ঘোষণা করেন, ‘কেয়ামত দিবসে আল্লাহতায়ালা বান্দাদের জিজ্ঞেস করবেন, তোমরা বৎসর গণনার দিক থেকে কতকাল ছিলে দুনিয়াতে? তারা বলবে, আমরা একদিন বা একদিনের কিছু সময়। অতএব আপনি গণনাকারীদের জিজ্ঞেস করুন, আল্লাহ বলবেন; তোমরা দুনিয়ায় অল্পদিনই ছিলে, যদি তোমরা জানতে। সুরা মুমিনুন : ১১২-১১৪

অথচ এই ক্ষণস্থায়ী জিন্দেগির জন্যই আমরা চিরস্থায়ী আখেরাতকে ভুলে যাচ্ছি। এদিকে ইঙ্গিত করে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেন, ‘বরং তোমরা পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দিয়ে থাকো। অথচ আখেরাতের জীবনই উত্তম ও অবিনশ্বর। নিশ্চয়ই এ কথা (শুধু কোরআনেই নয়) পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহেও বিদ্যমান আছে।’ সুরা আলা : ১৬-১৮

উল্লিখিত আয়াতসমূহে মহান আল্লাহ স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, পরকালের তুলনায় ইহকালের জীবন নিতান্তই মূল্যহীন, ক্ষণস্থায়ী এবং অমর্যাদাকর। পক্ষান্তরে আখেরাতের জীবন হলো চিরস্থায়ী ও মর্যাদাময়। সুতরাং কোনো বুদ্ধিমান মানুষ অস্থায়ীকে স্থায়ীর ওপর প্রাধান্য দিতে পারে না। মর্যাদাহীনতাকে মর্যাদাসম্পন্নের ওপর প্রাধান্য দিতে পারে না। দুনিয়ার সামান্য জীবনের জন্য আখেরাতের প্রস্তুতি পরিত্যাগ করতে পারে না। হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) বর্ণনা করেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দুনিয়াকে ভালোবেসেছে সে আখেরাতে কষ্ট পাবে, আর যে ব্যক্তি আখেরাতকে ভালোবেসেছে সে দুনিয়ায় ক্ষতির সম্মুখীন হবে। সুতরাং তোমরা যা চিরস্থায়ী থাকবে তাকে অস্থায়ীর ওপর প্রাধান্য দাও।’ মুসনাদে আহমাদ : ৪/৪১২

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ হিসেবে আমাদের কর্তব্য হলো, কল্যাণকর বিষয়ের দিকে উত্তমরূপে এগিয়ে যাওয়া। হজরত মাহমুদ বিন লাবিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুটি জিনিসকে আদম সন্তান অপছন্দ করে। একটি হলো মৃত্যু। অথচ মুমিনের জন্য ফেতনা থেকে মৃত্যুই উত্তম। আর দ্বিতীয়টি হলো ধন-স্বল্পতা। অথচ ধন-স্বল্পতা হিসাবের জন্য কম।’ মিশকাত : ৫২৫১

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত