মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

অরক্ষিত নালা নিয়ে নীরব সিডিএ-চসিক

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২১, ০১:৫২ এএম

উন্মুক্ত নালায় পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সেহেরীন মাহবুব সাদিয়ার (১৯) মৃত্যুর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। সরকারি সংস্থা দুটির দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতিকে এ মৃত্যুর জন্য দায়ী করছেন নগরবাসী।

স্ল্যাববিহীন নালায় পড়ে একাধিক মৃত্যুর ঘটনার পর সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে তোপ দাগছেন বিএনপি নেতারা। দুর্নীতিসমৃদ্ধ উন্নয়নের নামে নগরীর রাস্তাঘাটকে মৃত্যুকূপে পরিণত করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তারা। এরই মধ্যে বিএনপির সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম বর্তমান মেয়রের দপ্তরে গিয়ে ট্রাকভর্তি স্ল্যাব দিয়ে এসেছেন।

গত সোমবার নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় একটি স্ল্যাববিহীন নালায় পড়ে আবর্জনায় তলিয়ে যান বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী সাদিয়া। পাঁচ ঘণ্টা পর নালার ভেতরে আবর্জনা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে দমকল বাহিনী। একইভাবে এক মাস আগে নগরীর মুরাদপুর এলাকায় নালায় পড়ে নিখোঁজ হন সবজি বিক্রেতা সালেহ আহমদ। দমকল বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি চালালেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান দিতে পারেননি।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, নগরীর শেখ মুজিব রোড থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজের কারণে পুরো সড়কে খানাখন্দ। সড়কের এক পাশে বিভিন্ন জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। আবার পার্শ্ববর্তী নালাগুলো পড়ে আছে স্ল্যাববিহীন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। যেকোনো সময় সেখানে ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা।

সাদিয়ার মৃত্যুর পর সমালোচনার মুখে পড়েছে সিডিএ ও চসিক। কারণ নগরীর ফুটপাত আর নালার পর স্ল্যাব বসানোর কাজটা সিটি করপোরেশনের। অন্যদিকে যে মেগা প্রকল্পের কাজ হচ্ছে সেটা করছে সিডিএ।

সিডিএর বিরুদ্ধে অভিযোগ, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের ক্ষেত্রে যে ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তার কিছুই নেয়নি তারা। একটু বৃষ্টি হলেই গর্তগুলো ডুবে যায়। তখন বোঝা যায় না কোথায় সমান আর কোথায় গর্ত? আবার প্রকল্পের আওতায় সড়ক ও নালা সম্প্রসারণের কাজ করলেও অনেক জায়গায় সড়কের পাশে খোলা নালা নিয়েও কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেই তাদের। ফলে প্রতি মুহূর্তে সেখানে ঝুঁকি নিয়ে পথ চলেন মানুষ।

অন্যদিকে চসিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নগরীর খাল ও নালার ওপর স্ল্যাব বসানোর কাজটা তাদের হলেও চরম উদাসীনতার পরিচয় দিয়ে আসছে তারা। কিন্তু দুই সংস্থার কেউই এসব দুর্ঘটনার দায় নিতে নারাজ।

সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরীর কাছে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি এসব দুর্ঘটনার জন্য সিডিএর অবহেলাকে দায়ী করেন। অন্যদিকে সিডিএর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমানের ভাষ্য, যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেটি সিটি করপোরেশনের খাল। খালের ওপর সø্যাব বসানোর দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। কাজেই দুর্ঘটনার দায় কোনোভাবেই সিডিএকে দেওয়া যাবে না।

সরকারি সংস্থার এমন দোষারোপের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার এক ট্রাক স্ল্যাব নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরীর কার্যালয়ে যান বিএনপির সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম। এ সময় তিনি নগরীর সব খোলা নালার ওপর স্ল্যাব বসানোর অনুরোধ জানান মেয়রকে।

নালায় পড়ে সাদিয়ার মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড মন্তব্য করে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ‘এ হত্যার দায় নিয়ে চসিক মেয়র এবং সিডিএ চেয়ারম্যানের পদত্যাগ করা উচিত। সাদিয়া, সালেহ আহমেদের মৃত্যুর দায় কার? কাদের অবহেলার কারণে আজ অকালে ঝরে পড়েছে এসব প্রাণ? এর জবাব সরকারকে দিতে হবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত