সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

তপুর গোলেই জয়ের হাসি বাংলাদেশের

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২১, ০২:০৬ এএম

জাতীয় দলে তার ভূমিকা সেন্টারব্যাক পজিশনে। কয়েক বছর ধরেই এই ভূমিকায় দেশসেরা তিনি। অথচ জাতীয় দলের জার্সিতে তপু বর্মণকে অনায়াসেই গোলপ্রসবা বলে দেওয়া যায়। একঝাঁক ফরোয়ার্ড থাকা সত্ত্বেও বর্তমান স্কোয়াডে সর্বোচ্চ গোলদাতার কৃতিত্ব তপু বর্মণের। মাহবুবুর রহমান সুফিলের সমান পাঁচ গোল করে বুঝিয়েছেন গোল করা অসাধ্য নয়। সাহস থাকলে গোল হয়। যে সাহসটারই বড্ড অভাব বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডদের। যে কারণে গতকাল শুক্রবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তারের পরও বাংলাদেশ জিতেছে তপু বর্মণের পেনাল্টি গোলে। এই জয় বিপদসঙ্কুল নিকট ভবিষ্যতের জন্য বাড়তি আত্মবিশ্বাস। তবে গোল করতে না পারার পুরনো ব্যামো স্পষ্ট হয়েছে আরেকবার।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা মালের রাশমি ধান্দু স্টেডিয়ামটাকে কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের রূপ দিয়ে দারুণ এক মঞ্চ সাজিয়ে রেখেছিলেন জামাল ভুঁইয়াদের জন্য। র‌্যাংকিংয়ে ১৬ ধাপ পিছিয়ে থাকা শ্রীলঙ্কাকে প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়াটাও ছিল বাড়তি পাওয়া। অনুমিতভাবেই ম্যাচে প্রাধান্য ছিল বাংলাদেশের। স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজনের পছন্দের ৪-১-৪-১ ফরমেশনে আক্রমণাত্মক মনোভাবে খেলা বাংলাদেশ শুরু থেকেই চড়াও হয়েছে শ্রীলঙ্কার রক্ষণে। যদিও হাই ডিফেন্সিভ মনোভাব নিয়ে নামা শ্রীলঙ্কা সেভাবে গোলমুখে সুবিধা করতে দেয়নি বাংলাদেশকে। তিনজন সেন্টারহাফ নিয়ে খেলা লঙ্কানরা মনোযোগী ছিল ঘর সামলে প্রতি আক্রমণে। এই ম্যাচে ব্রুজনের একাদশ নিয়ে প্রশ্ন নেই তেমন। কেবল রাইট উইংয়ে জুয়েল রানায় ভরসা রাখাটাই ছিল ভুল। আবাহনীর হয়ে লিগে ১০ গোল করলেও দীর্ঘদিন পর দেশের জার্সিতে স্বচ্ছন্ধে ছিলেন না জুয়েল। বারবারই বল হারিয়ে হতাশ করেছেন। সেভাবে আক্রমণও গড়তে পারেননি। লেফট উইংয়ে রাকিব হোসেন ছিলেন তার তুলনায় সপ্রতিভ। গতিতে বারবারই বিভ্রান্তি ছড়িয়ে চেয়েছেন আক্রমণ গড়তে। সুমন রেজাও কখনো কখনো চেষ্টা করেছেন বল নিয়ে বক্সে ঢুকতে। কিন্তু লঙ্কানরা আসরে তাদের অপেক্ষাকৃত সহজ প্রতিপক্ষকে চায়নি কোনো সুযোগ দিতে। ম্যাচের নবম মিনিটে প্রথম সুযোগের নেপথ্যে বিশ্বনাথ ঘোষের লম্বা থ্রোইন। বাম দিক থেকে যা এসে পড়ে তপুর পায়ে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আফগানিস্তানের বিপক্ষে যেভাবে গোল করেছিলেন, ঠিক সেভাবেই অসাধারণ মুভমেন্টে ঘুরে জোরালো শট নেন। কিন্তু তা কোনোমতে ফিরিয়েছেন শ্রীলঙ্কার এক ডিফেন্ডার। ১৮ মিনিটে বাম দিক থেকে রাকিবের ক্রসে মাথা ছোঁয়াতে পারেননি সুমন রেজা ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম। ৩৯ মিনিটে বিপলু আহমেদ বাম দিক দিয়ে বল নিয়ে ঢুকে স্কয়ার পাস দেন জুয়েলকে। তালগোল পাকিয়ে ভালো জায়গা থেকে শট নিতে ব্যর্থ হন তিনি। যোগ করা সময়ে গোলের দারুণ সুযোগ বলতে গেলে নিজেই তৈরি করেন তপু। নিজেদের অর্ধ থেকে দ্রুত উঠে গিয়ে ইয়াসিন আরাফাতকে পাস বাড়ান তিনি। বাম দিক থেকে নিখুঁত এক ক্রস নেন ইয়াসিন। যাতে তপুর সøাইডিং হেড অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন লঙ্কান কিপার সুজন পেরেরা। দ্বিতীয়ার্ধেও বাংলাদেশ শুরু করে আক্রমণাত্মক মেজাজে। নিভে থাকা জুয়েলকে উঠিয়ে সাদউদ্দিনকে নামান কোচ ব্রুজন। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের আক্রমণে আরও গতি দেয়। তবে প্রতি আক্রমণ থেকে প্রথম এবং ম্যাচের একমাত্র সুযোগ তৈরি করেছিল শ্রীলঙ্কা ৫০ মিনিটে। বক্সের অনেক বাইরে বল পেয়ে দ্রুত জোরালো শট নিয়েছিলেন কাভিন্দু ইশান। দূরের পোস্টে বাতাস লাগিয়ে তা বাইরে যায়। এর চার মিনিট পরই আসে মাহেন্দ্রক্ষণ। সেন্টারব্যাক ডাকসন পাসলাসের এক ভুলের সুযোগ কাজে লাগায় বাংলাদেশ। বক্সের বাইরে থেকে মোহাম্মদ ইব্রাহিমের শট ডাকসনের হাতে লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান সিরিয়ার রেফারি ফেরাস তাভিল। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে প্রথম হলুদ কার্ড দেখা ডাকসনকে দেখতে হয় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড। তাতেই সর্বনাশ নামে লঙ্কান শিবিরে। পেনাল্টি থেকে গোল করে আস্থার প্রমাণ রাখেন তপু। ১০ জনের শ্রীলঙ্কাকে পেয়ে বাংলাদেশ আক্রমণের মালা সাজিয়েছে এরপর। যার নেপথ্যে ছিলেন সাদউদ্দিন। কিন্তু গোলের দরজা খুলতে পারেননি সুমন-রাকিবরা। ফলে ন্যূনতম ব্যবধানের জয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় বাংলাদেশকে।

ব্যবধান যাই হোক, এই জয় ৪ অক্টোবর আসরের সবচেয়ে সফল দল ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশকে দেবে বাড়তি উদ্দীপনা।

বাংলাদেশ দল : আনিসুর রহমান জিকো, তপু বর্মণ, তারিক কাজী, ইয়াসিন আরাফাত, বিশ্বনাথ ঘোষ, জামাল ভুঁইয়া, জুয়েল রানা (সাদউদ্দিন), বিপলু আহমেদ (আতিকুর রহমান ফাহাদ), রাকিব হোসেন, মোহাম্মদ ইব্রাহিম (মাহবুবুর রহমান সুফিল), সুমন রেজা (মতিন মিয়া)।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত