সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আওয়ামী লীগ সরকার কোনোভাবেই আমলানির্ভর নয়

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২১, ০২:০৮ পিএম

মাহবুব উল আলম হানিফ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ১৮তম কাউন্সিলে প্রথমবারের মতো তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে ২০১২, ২০১৬ ও ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত ১৯, ২০ ও ২১তম কাউন্সিলেও তাকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে পুনরায় দায়িত্ব প্রদান করা হয়। ২০১৪ সালের ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচন কমিশন গঠন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর নিয়ে জাতীয় সংসদে বিতর্ক এবং সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে তিনি কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দেশ রূপান্তর সম্পাদকীয় বিভাগের এহ্সান মাহমুদ

দেশ রূপান্তর : প্রায় এক যুগ ধরে আওয়ামী লীগ টানা রাষ্ট্রক্ষমতায় রয়েছে। এই সময়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের সফলতা ও ব্যর্থতা কোনগুলো?

মাহবুব উল আলম হানিফ : দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কোনো ব্যর্থতা নেই। সফলতা রয়েছে। প্রথমে আমরা যদি দেখি, ২০০৮ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। ২০০৯ সালে সরকার গঠন করা হয়েছিল। তার পরে টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল হিসেবে রাষ্ট্রক্ষমতায় আছে। এই সময়ে দেশে উন্নয়নের নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা পেয়েছি, বিদ্যুতে প্রায় শতভাগ সফলতা পেয়েছি। এই যে সফলতাগুলোএইগুলো কেবল সরকারের একার জন্য হয়নি। আমি মনে করি, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের একটি বড় ভূমিকা ছিল। আমরা যদি পেছনে ফিরে দেখি, ২০১২ এবং ২০১৩ সালে দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে যে জনমত গড়ে উঠেছিল তাতে সরকারের সহায়ক হিসেবে আওয়ামী লীগ কাজ করেছিল। পরে দুর্নীতির দায়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে যে মামলা হলো, সাজা হলোসেই সময়ে দেশব্যাপী বিএনপি যে জ¦ালাও-পোড়াও আন্দোলন শুরু করেছিল, তা মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগও সন্ত্রাসের বিপক্ষে জনমত গড়তে কাজ করেছিল। আমি মনে করি, এটাও রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের সফলতা।

 

এছাড়া আওয়ামী লীগ সব সময়ই দেশের প্রয়োজনে কাজ করেছে। জাতীয় দুর্যোগে কাজ করেছে। বিশেষ করে, এখন বলা যেতে পারে গত বছরের মার্চ থেকে দেশে যে করোনা মহামারী দেখা দিল, এই সময়টাতে আওয়ামী লীগের শীর্ষ থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা যেভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে তা সারা বিশে^ই প্রায় নজিরবিহীন। প্রায় দুই কোটি পরিবারকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে করোনার সময়ে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এতে করে সরকারের কাজ সহজ হয়েছে। তাই আমি বলব রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের সফলতাই বেশি।

দেশ রূপান্তর : আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় আছে। এই সময়ে দল ও দলের বাইরে অনেকেই দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে নানা অনিয়ম করছে। এমন ভুঁইফোড় সংগঠনের সংখ্যা ৭৩টি। এদের একজন দুইজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার খবর আমরা প্রকাশ্যে দেখতে পারছি। বাকিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না? পাশাপাশি এখন যেসব সংগঠনকে ভুঁইভোড় বলা হচ্ছে, এদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতীতে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশ নিতেও দেখা গেছে। পুরো বিষয়টাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

মাহবুব উল আলম হানিফ : যেহেতু আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় আছে, এই সময়ে দলের অনেক নেতাকর্মী যারা সরাসরি ক্ষমতার সঙ্গে জড়িত নন, তারা অনেকে ক্ষমতার কাছাকাছি যেতে চাইতে পারেন। আবার দলের বাইরের লোক যারা তারাও ক্ষমতার স্বাদ পাওয়ার জন্য দলে ভিড়তে চেষ্টা করেন। এটা করতে গিয়ে তারা সংগঠন তৈরি করেন। কিন্তু যখন আমরা দেখতে পেয়েছি, এভাবে দলীয় পরিচয় দিয়ে অন্যায় করা হচ্ছে, অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে, আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া হচ্ছে তখন আমরা অভিযোগ জানিয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে অতীতেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, ভবিষ্যতেও নেওয়া হবে।

দেশ রূপান্তর : অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে আওয়ামী লীগে এখন দলীয় কোন্দল বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। দলের নেতাকর্মীরা নিজেরা নিজেরা দ্বন্দ্ব-সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। হাত কেটে নেওয়া থেকে শুরু করে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। আধিপত্য বিস্তার, পছন্দমতো কমিটি, উন্নয়ন কাজের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত হচ্ছে। সংঘাতের পেছনে আর কী কারণ আছে বলে মনে করেন? এইসব দ্বন্দ্ব নিরসনে সাংগঠনিক কোনো বিশেষ কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে কি না?

মাহবুব উল আলম হানিফ : দলীয় কোন্দল আওয়ামী লীগে তেমন একটা নেই। অনেক সময় সামাজিক-পারিবারিক কোন্দলকে দলীয় কোন্দল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ একটি সংগঠন। এই সংগঠনের লাখ লাখ কর্মী রয়েছে। এদের একটি পারিবারিক-সামাজিক জীবন রয়েছে। এখানে অনেক সময় নানা বিবাদ হতে পারে। সেটাকে দলীয় কোন্দল হিসেবে চিহ্নিত করার একটা অপচেষ্টা থাকতে পারে। এই কোন্দল কোনোভাবেই আওয়ামী লীগের কোনো সাংগঠনিক কোন্দল নয়।

দেশ রূপান্তর : সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ঘটনায় আমলা এবং রাজনীতিবিদদের মধ্যে এক ধরনের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে। কেউ কেউ বলছেন সরকার অতিরিক্তি আমলানির্ভর হয়ে পড়েছে। এটাকে কীভাবে দেখছেন?

মাহবুব উল আলম হানিফ : এটা একটা রাজনৈতিক সরকার। রাজনৈতিক সরকার আমলানির্ভর হবে কেন! বর্তমান সরকার কোনোভাবেই আমলানির্ভর নয়। সরকারের কাজ হচ্ছে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা। আর সেটি বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে রয়েছেন আমলারা। এখন এসব করতে গিয়ে যদি রাজনৈতিক নেতারা অধিকভাবে ফোকাস করেন, তখন বলা হয় আমলাদের চাপে রাখা হয়েছে। আবার যদি আমলাদের দিয়েই কাজ বাস্তবায়ন করা হয়, তখন বলা হয় সরকার আমলা নির্ভর। এখন এটা একটা কমন অভিযোগে পরিণত হয়েছে। তবে কোনো কোনো জায়গায় হয়তো কেউ আগ বাড়িয়ে কিছু করছেন, তাই বলে এটাকে একেবারে জেনারেলাইজ করা ঠিক হবে না।

দেশ রূপান্তর : আওয়ামী লীগের বর্তমান শাসনামলে আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছর উদ্্যাপন করছি। এটা স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের জন্য আনন্দের ও গৌরবের। কিন্তু এখানে ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে একবার আওয়ামী শিবিরে আরেকবার বিএনপির শিবিরে দেখা যায়। আওয়ামী লীগ বা বিএনপি এইসব ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারল না কেন বলে মনে করেন? এটা কি ভোটের রাজনীতিতে আটকে থাকে?

মাহবুব উল আলম হানিফ : আওয়ামী লীগের মূলনীতি হচ্ছে চারটি। এখানে অনেকেই একটি বিষয় গুলিয়ে ফেলেন যে, রাজনৈতিক দল এবং সরকার আলাদা বিষয়। যখন কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় যায়, সরকার গঠন করে তখন সবার হয়ে যায়। সরকার তো আর কেবল একটি দলের নয়। সরকার হচ্ছে দেশের সব মানুষের, সব দলের এবং ধর্মের। আমাদের দেশের যারা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে, তারাও এই দেশের নাগরিক। এখন যদি তাদের এগিয়ে সামনে আনার জন্য তাদের শিক্ষার স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তাদের সামাজিক সুরক্ষা দেওয়া সেটি কি রাজনৈতিক লেজুরবৃত্তি হবে? এইভাবে বিষয়টাকে রাজনৈতিক প্রচারণার জন্য জেনারেলাইজেশন করার পক্ষে আমি নই। বিএনপি যেটি করেছে, তারা স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে নিয়ে সংসদে বসিয়েছে। জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছে তাদের গাড়িতে। এখন যারা এইসব কথা বলেন তারা আসলে বিএনপিকে রক্ষার জন্য আওয়ামী লীগের সঙ্গে ধর্মভিত্তিক দলের সম্পর্ক নিয়ে মনগড়া বক্তব্য দিচ্ছেন।

দেশ রূপান্তর : বিএনপির অভিযোগ, হামলা ও মামলা দিয়ে বিরোধী মত ও দলকে আওয়ামী লীগ দমাতে চায়। সাম্প্রতিক দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। বিএনপির ঢাকা মহানগর কমিটি দেওয়ার পরে জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিতে গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশি হামলার শিকার হয়েছেন। আবার চট্টগ্রামে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের মিছিলে লাঠিপেটা করা হয়েছে।

মাহবুব উল আলম হানিফ : এটা একেবারেই একটি কাল্পনিক অভিযোগ। তবে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে যদি কেউ সন্ত্রাসী কর্মকা- চালাতে চেষ্টা করে, ষড়যন্ত্র করে এটাকে কঠোরভাবে দমন করা হবে। বিনা কারণে পুলিশ কাউকে হামলা করবে, লাঠিচার্জ করবে এটা হতে পারে না। এখন কেউ যদি রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে গণতন্ত্র রক্ষার কথা বলে মাঠে নেমে জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর করে, সন্ত্রাসী কাজ করে তবে তাকে কঠোরভাবেই প্রতিহত করা হবে।

দেশ রূপান্তর : সংসদ ভবন এলাকা থেকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর সরিয়ে নেওয়া নিয়ে রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ দেখা দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটি কী হবে? কবর সরিয়ে নেওয়ার পক্ষেই আপনাদের দলের অবস্থান কি না?

মাহবুব উল আলম হানিফ : এখানে জিয়াউর রহমানের কবর আছে কি না, তা নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই। আওয়ামী লীগ লাশ নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না। এটার সমাধান বিএনপি করতে পারে। তারা ডিএনএ টেস্ট করলেই সমাধান পাওয়া যাবে। এখন আমরা বলতে পারি, মুসলিম বিধান অনুযায়ী কারও দাফন বা জানাজা করার আগে ইমাম সাহেব তার মুখ দেখে নেন। যার জানাজা পড়ানো হচ্ছে, মৃত ব্যক্তিটিকে চিহ্নিত করতেই এই ব্যবস্থা। কিন্তু জিয়াউর রহমানের দফনের আগে তার স্ত্রী বা সন্তান বা ইমাম কি বক্স খুলে নিশ্চিত হয়েছিলেন। হননি। সেই সময়ে বাক্সটি খোলাই হয়নি। এখানে কার কবর আছে তাই এটা নিয়ে সন্দেহ করার কারণ আছে। এখন বিএনপি চাইলে ডিএনএ টেস্ট করিয়ে নিশ্চিত করতে পারে।

দেশ রূপান্তর : ২০১৪ এবং ২০১৮ এর নির্বাচন নিয়ে নানামুখী সমালোচনা রয়েছে। এই সমালোচনাকে পাশ কাটিয়ে একটি নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান করা আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্জ। আগামী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা এখনই শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে কোন বিষয়গুলো আওয়ামী লীগ জোর দেবে?

মাহবুব উল আলম হানিফ : বিএনপির রাজনীতি হচ্ছে মিথ্যাচারের রাজনীতি। অতীতেও সংবিধান মেনে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। সামনের নির্বাচনেও তাই করা হবে। সময় হলেই তা পরিষ্কার হবে। তাই এটি নিয়ে এখনই কথা বলার কিছু নেই। সংবিধান মেনেই নির্বাচন হবে।

দেশ রূপান্তর : বিএনপির মহাসচিব সম্প্রতি চারটি শর্ত দিয়েছেন আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে। এই বিষয়টাকে কীভাবে দেখছেন?

মাহবুব উল আলম হানিফ : বিএনপির আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়া বা না নেওয়া একবারেই তাদের দলীয় ব্যাপার। যে কোনো রাজনৈতিক দলেরই অধিকার আছে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া বা না নেওয়ার। তারা যদি নির্বাচনে অংশ নিতে না চায় আমরা তো জোর করে বাধ্য করাতে পারব না। আবার যদি নিতে চায় তাহলেও আমরা প্রতিহত করব না। কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত শর্ত মানার দায় আমাদের নাই। বিএনপির মহাসচিব যে শর্ত দিয়েছেন, তা মানার কোনো সুযোগ নেই। বেগম খালেদা জিয়ার মামলা তো আমরা দিইনি। দিয়েছেন মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীন আমলের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তিনি একজন দ-প্রাপ্ত কয়েদি। কয়েদির মুক্তি হতে পারে আইনি প্রক্রিয়ায়। তারা দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারেন। রাষ্ট্রপতি যদি মনে করেন, তিনি মাফ করতে পারেন। নাও পারেন। আর বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যে মামলা সেসব হচ্ছে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মামলা। এ মামলা প্রত্যাহোরের কোনো সুযোগ নেই। এ জন্য তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যেতে হবে।

দেশ রূপান্তর : বিএনপির সঙ্গে সংলাপের সম্ভাবনা কতটুকু তবে? সংলাপের উদ্যোগ কারা নেবে?

মাহবুব উল আলম হানিফ : যে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই আলাপ হতে পারে। আলোচনা হতে পারে। কারও সঙ্গে আলাপের মানে এই নয় যে, তাদের সব অযৌক্তিক দাবি মেনে নিতে হবে। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অপর রাজনৈতিক দলের আলোচনা হতে আমি কোনো সমস্যা দেখি না।

দেশ রূপান্তর : আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

মাহবুব উল আলম হানিফ : দেশ রূপান্তরকেও ধন্যবাদ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত