রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বাসা থেকে নিখোঁজ ৩ কলেজছাত্রী

সন্ধান পাচ্ছে না পুলিশ

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২১, ১১:২৩ পিএম

রাজধানীর মিরপুর পল্লবীর বাসা থেকে বের হওয়া তিন কলেজছাত্রীর এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি। পুলিশও গতকাল শনিবার রাত পর্যন্ত তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে পারেনি। তবে নিখোঁজদের একজনের প্ররোচনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ এবং তাদের দুই বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে। যদিও ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা পায়নি বলে জানিয়েছে পল্লবী থানার পুলিশ। তিন দিনেও সন্তানদের খোঁজ না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন তাদের স্বজনরা।

এদিকে তিন ছাত্রীর মোবাইল ফোন গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বন্ধ রয়েছে। ওই দিন সকাল ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যেই এগুলো বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অবস্থান শনাক্তে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে দ্রুত তাদের উদ্ধার করার আশা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

গত বৃহস্পতিবার সকালে কলেজে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউট, পল্লবী ডিগ্রি কলেজ ও দুয়ারিপাড়া কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের তিন ছাত্রী। স্বজনদের দাবি, বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তারা টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ এক ছাত্রীর মা গত শুক্রবার রাজধানীর পল্লবী থানায় অভিযোগ করেন। এরপরই নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গতকাল রাতে এই অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। এতে চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত কয়েক জনকে আসামি করা হয়েছে। ওই চারজন হলেন তরিকুল্লাহ, রকিবুল্লাহ, জিনিয়া ও শরফুদ্দিন আহমেদ আয়ন। তাদের আজ রবিবার আদালতে হাজির করা হবে বলে জানান পল্লবী থানার ওসি পারভেজ ওসমান।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিন ছাত্রীর একজনের সিম মো. মোস্তফার নামে নিবন্ধন করা। এটি গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ২২ মিনিট পর্যন্ত চালু ছিল। সবশেষ কল লোকেশন ছিল পল্লবী। আরেকটি সিম মোছা. ইয়াসমিন বেগমের নামে নিবন্ধন করা। এটিও ঘটনার দিন সকালেই পল্লবী লোকশনে বন্ধ করে দেয়। এ ছাড়া আরেকটি সিম গত এক বছরে একবারও ব্যবহার হয়নি।

নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা সন্দেহ করছেন, কোনো পাচারকারী চক্র তাদের ভাগিয়ে নিয়ে গেছে। নিখোঁজ এক ছাত্রীর বড় বোন গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার বোন কখনো এভাবে বাসা থেকে বের হয়নি। আমাদের ধারণা, পাচারকারীরা প্রলোভন দেখিয়ে তাকে বাসা থেকে বের করেছে।’

পুলিশের ধারণা, নিখোঁজদের মধ্যে এক বিহারি ছাত্রীর প্ররোচনায় বাকি দুজন ঘর ছেড়েছে। ওই ছাত্রীর অতীত রেকর্ড খুব সুবিধার নয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিখোঁজদের মধ্যে এক বিহারি ছাত্রীর একাধিক ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। অন্য দুই ছাত্রী সহজ-সরল। তারা বাসা থেকে খুব একটা বের হতো না। ধারণা করা হচ্ছে, অন্যজন তাদের প্ররোচনা দিয়েছে।’ এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের পল্লবী জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. আরিফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা এখনো তিন ছাত্রীর সন্ধান পাইনি। আশা করছি, খুব দ্রুত উদ্ধারে সক্ষম হব। ঘটনার পর হেফাজতে নেওয়া তরিকুল ও রকিবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত