রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

উত্তম আচরণের মর্ম

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২১, ১১:৩৫ পিএম

শ্রেষ্ঠ আমল ও ইবাদত-বন্দেগির অন্যতম লক্ষ্য হলো, উত্তম চরিত্র অর্জনের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা। আল্লাহতায়ালা স্বীয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রশংসা করে বলেন, ‘আর নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের ওপর রয়েছেন।’ সুরা আল কামার : ৪

আর নবী কারিম (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে নৈতিকতায় সর্বোত্তম।’ সহিহ্ বোখারি ও মুসলিম

একবার হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) কে পুণ্য ও পাপ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘পুণ্য হলো উত্তম চরিত্র। আর পাপ হলো যা তোমার অন্তরে সন্দেহের উদ্রেক ঘটায় এবং লোকে তা জানুক তা তুমি অপছন্দ করো।’ সহিহ্ মুসলিম

পরকালে জান্নাতে প্রবেশ ও দয়াময় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম উত্তম চরিত্র। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন মুমিন ব্যক্তির নেকি ওজন করার পাল্লায় সচ্চরিত্রতার চেয়ে কোনো বস্তুই অধিক ভারী হবে না।’ সুনানে আবু দাউদ

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) কে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘সবচেয়ে বেশি কোন জিনিস মানুষকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে? জবাবে তিনি বললেন, আল্লাহর ভয় ও উত্তম চরিত্র।’ সুনানে তিরমিজি

নিশ্চয় পরিপূর্ণ সচ্চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে, অপর মুসলিম ভাইয়ের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল ও আনন্দময় চেহারায় দেখা-সাক্ষাৎ করা, কথাবার্তা বলা। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আপনি মুমিনদের জন্য আপনার বাহু নত করুন।’ সুরা আল হিজর : ৮৮

মহান আল্লাহ আরও বলেন, ‘আল্লাহর দয়ায় আপনি তাদের প্রতি কোমল-হৃদয় হয়েছিলেন, যদি আপনি রূঢ় ও কঠোর চিত্ত হতেন তবে তারা আপনার আশপাশ থেকে সরে পড়ত।’ সুরা আলে ইমরান : ১৫৯

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ভালো কাজকে তুচ্ছ মনে করো না, যদিও তা তোমার কোনো ভাইয়ের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় সাক্ষাৎ করা হয়।’ সহিহ্ মুসলিম

অর্থাৎ হাসি-খুশি, উজ্জ্বল চেহারা ও প্রফুল্ল মনে সাক্ষাৎ করা সওয়াবের কাজ। কারও সঙ্গে সাক্ষাতের সময় সাবলীল চেহারা ও হাস্যোজ্জ্বল প্রদর্শন করা ছিল মহান চরিত্রের অধিকারী নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর স্বভাব। হজরত জারির বিন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি যখন ইসলাম গ্রহণ করেছি তখন থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে তার কাছে প্রবেশ করতে বাধা দেননি এবং যখনই তিনি আমার চেহারার দিকে তাকাতেন তখন তিনি মুচকি হাসি দিতেন।’ সহিহ্ বোখারি ও মুসলিম

কাজেই প্রত্যেক মুমিন-মুসলমানের উচিত, তার অপর ভাইদের প্রতি হাস্যোজ্জ্বল হয়ে কথা বলা, সাবলীল আচরণ করা। দেখা-সাক্ষাতের সময় প্রফুল্ল চিত্ত থাকা, আচার-আচরণে কোমল, নম্র ও উদার হওয়া। সাহাবি হজরত আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমার হাস্যোজ্জ্বল মুখ নিয়ে তোমার ভাইয়ের সামনে উপস্থিত হওয়া তোমার জন্য সদকাস্বরূপ।’ সুনানে তিরমিজি

এ সম্পর্কে ইমাম ইবনে বাত্তাল (রহ.) বলেন, ‘মানুষের সঙ্গে সহাস্যে ও আনন্দচিত্তে সাক্ষাৎ করা নবীদের চরিত্র। এমন স্বভাব অহংকার দূর করে এবং হৃদ্যতা ও ভালোবাসা তৈরি করে।’ সুতরাং সবার উচিত নিজেদের হৃদয়ে এমন স্বভাব স্থায়ীভাবে লালন করা, কেননা এমন উন্নত চরিত্রের কারণে পরকালে বিশাল প্রতিদান দেওয়া হবে, পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা ও হৃদ্যতা সম্প্রসারিত করা হবে এবং সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ বিরাজ করবে। এমন চরিত্রের মধ্য দিয়ে আত্মা প্রশান্ত হয়, হৃদয় ধন্য হয় ও বক্ষ প্রশস্ত হয়।

সহিহ্ বোখারি ও মুসলিমের হাদিসে এসেছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা এক টুকরো খেজুর সদকা দিয়ে হলেও জাহান্নাম থেকে আত্মরক্ষা করো। যদি কেউ তা না পায়, তাহলে উত্তম কথা দিয়ে হলেও।’ অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, ‘উত্তম কথা সদকাতুল্য।’

সবসময় সবার সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করা ইসলামের শিক্ষা। বিশেষ করে অভাবগ্রস্ত ব্যক্তির সঙ্গে সদাচরণ করা অতি জরুরি এবং তা অধিক সওয়াবের কাজ। এটা মানুষের জীবনের কল্যাণময় ফলাফল বয়ে আনে। জনৈক মনীষী বলেছেন, ‘তুমি অভাবগ্রস্ত ব্যক্তির কাছে সুসংবাদ নিয়ে ও প্রফুল্লতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করো, তাতে হয় তুমি কৃতজ্ঞতা পাবে নতুবা কিছু না দিতে পারলেও সুন্দরভাবে অপারগতা প্রকাশ করা হবে।’ আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘এবং তোমরা মানুষের সঙ্গে সদালাপ করো।’ সুরা বাকারা : ৮৩

মহান আল্লাহ আরও বলেন, ‘তুমি নিজেই যখন তোমার প্রতিপালকের কাছ থেকে কোনো প্রত্যাশিত করুণা লাভের সন্ধানে থাকো, তখন তাদের (অভাবী আত্মীয়, মিসকিন ও মুসাফিরদের) যদি বিমুখই করো, তাহলে তাদের সঙ্গে নম্রভাবে কথা বলো।’ সুরা বনি ইসরাইল : ২৮

এ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘আর ভিক্ষুককে তুমি ধমক দিও না।’ সুরা আদ দোহা : ১০

আল্লাহতায়ালা সবাইকে উত্তম চরিত্র ও মহৎ কর্মের অধিকারী করুন। আমিন।

১ অক্টোবর মসজিদে নববিতে প্রদত্ত জুমার খুতবা। অনুবাদ করেছেন

মুহাম্মদ আতিকুর রহমান

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত