রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

প্রবাসী আয় কমেছে ১৯.৪৪ শতাংশ

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৫৭ পিএম

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৫৪০ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা এর আগের অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে আসা রেমিট্যান্সের তুলনায় ১৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ কম। ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৬৭১ কোটি ৩২ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা যায়। 

তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে টানা তিন মাস ধরে রেমিট্যান্স কমছে। সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বরে আগের মাস আগস্টের তুলনায় রেমিট্যান্স কমেছে ৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ। তাছাড়া গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স কমেছে ১৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ। 

সদ্যবিদায়ী সেপ্টেম্বর মাসে ১৭২ কোটি ৬২ লাখ ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। 

এর আগের মাস আগস্টে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮১ কোটি ১ লাখ ডলার। আর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২১৫ কোটি ১০ লাখ ডলার। 

এ ছাড়া, গত জুনের তুলনায় জুলাইয়ে রেমিট্যান্স কমেছে ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে রেমিট্যান্স কমেছে ৩ দশমিক ২৮ শতাংশ। 

অবশ্য রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার আশঙ্কা আগেই করেছিলেন অর্থনীতির বিশ্লেষকরা। 

তারা বলছিলেন, করোনার মধ্যে অনেক কর্মী দেশে ফেরত আসার আশঙ্কা থেকে জমানো অর্থ দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। কেউ কেউ ঘটিবাটি বিক্রি করে ফেরত আসার প্রস্তুতি হিসেবে সব টাকা দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এ কারণে করোনার মধ্যেও রেমিট্যান্স বাড়ছিল। 

তবে টিকা বের হওয়ার পর থেকে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসায় এখন রেমিট্যান্স স্বাভাবিক ধারায় ফিরেছে। যে কারণে ডলারের দর বেড়ে যাওয়ার পরও রেমিট্যান্স বাড়াতে তা কোনো কাজে আসেনি। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ মাসে ডলারের দর বেড়েছে ৭০ পয়সা। অর্থাৎ আগে ১ ডলার পাঠালে প্রবাসীদের স্বজনরা যেখানে ৮৪ দশমিক ৮০ টাকা পেতেন, এখন সেখানে পাচ্ছেন ৮৫ দশমিক ৩০ টাকা। 

তা ছাড়া এই অর্থের সঙ্গে সরকার ২ শতাংশ প্রণোদনাও দিচ্ছে। ফলে সামগ্রিকভাবে ডলারের বাজার রেমিট্যান্স প্রেরণকারীদের অনুকূলে রয়েছে। 

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরের পুরো সময় জুড়ে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে আসে। যা এর আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাস রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির ধারায়ই ছিল। জুন মাস থেকে রেমিট্যান্স কমতে শুরু করে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত