সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

জামালের জ্বলে ওঠার অপেক্ষা

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:২৩ পিএম

মাঠের সময়টা খুব ভালো কাটছে না জামাল ভুঁইয়ার। শেষ মৌসুমটায় কেমন যেন নিজের ছায়া হয়ে রয়েছেন। অথচ জাতীয় দলে তার দায়িত্ব অনেক। দলের অধিনায়ক তিনি। তার ওপর গুরুত্বপূর্ণ মাঝমাঠের দায়িত্বও তার কাঁধে। জামাল এই দু’টি দায়িত্ব আগের মতো পালন করলেই বদলে যাবে দলের চেহারা। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন অধিনায়ককে বারবার যেন সেই দায়িত্বটাই মনে করিয়ে দিতে চাইলেন কোচ অস্কার ব্রুজন। জাতীয় দলের মাঝমাঠের চেহারাটা বড্ড মলিন। গত কয়েক ম্যাচ ধরেই। মালেতে পা রাখার পর জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় আজও সোহেল রানার খেলা নিয়ে আছে সংশয়। চোটের কারণে পুরো টুর্নামেন্টই খেলতে পারবেন না মাসুক মিয়া জনি। নিয়মিত দু’জনের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের মাঝমাঠ অনেকটাই এখন জামাল নির্ভর। ব্রুজন তাই অধিনায়কের জ্বলে ওঠার অপেক্ষায়। দলের নেতৃত্বে তিনি জামালকে দেখতে চান আরও সক্রিয় ভূমিকায়। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে সুযোগ মতো চান গোল। ব্রুজনের বিশ্বাস জামালের মধ্যে আছে সময়মতো জ্বলে ওঠার ক্ষমতা।

কেবল ব্রুজনের বিশ্বাস নয়, জামাল নিজেই দেখিয়েছেন তিনি তার পায়ে নিশানাভেদী শট আছে। এখনো কাতারের বিপক্ষে এশিয়ান গেমসের গোলটা মনে গেঁথে আছে অনেকের। কিন্তু সেই আগ্রাসী মনোভাবটাই যে বড্ড অনুপস্থিত তার মধ্যে। জামালকে চাঙ্গা করতেই হয়তো পাশে বসিয়ে কাল প্রশংনায় ভাসালেন ব্রুজন, ‘আমার সৌভাগ্য হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশের সেরা তিন অধিনায়ক জামাল, সুনীল ছেত্রী ও আলী আশফাকের সঙ্গে কাজ করার। আপনি যদি জিজ্ঞাসা করেন আমি কার পাশে দাঁড়াব, তাহলে মাত্র ৮ সেশন কাটানোর অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমি জামালকেই আমার পাশে চাইব। কারণ সে ভারতের বিপক্ষে অনেক ম্যাচ খেলেছে। দলে তার বড় দায়িত্ব সবাইকে উজ্জীবিত করা। আমাদের দল এখন একটা পরিবারে রূপ নিয়েছে। আমার দায়িত্ব অনুশীলন সেশনগুলোতে ছেলেদের খেলার জন্য প্রস্তুত করা। আর অধিনায়কের দায়িত্ব মাঠে প্রত্যেকের সেরাটা বের করে আনা। আমি আসলে দেখতে চাই ছেলেরা খেলাটাকে মাঠে খুব উপভোগ করছে।’ গোল নিয়ে গোলকধাঁধা থেকে বেরুতে ব্রুজন জামালকে দেখতে চান আগ্রাসী ভূমিকায়, ‘আমার চোখে আমাদের দলটাই এই আসরের সেরা। সেই বিশ্বাসটাই প্রত্যেকের মধ্যে তৈরি হয়েছে। তবে ঘাটতি একটাই ফিনিশিং। মাত্র ৮ সেশনে এই সমস্যার পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়। তাই আমি চাই গোলের দায়িত্ব দলের সবাই মিলে নিক। আমি চাই জামাল একজন মিডফিল্ডার হয়েও গোল করুক। গোল দেখতে চাই ডিফেন্ডারদের পায়েও। স্ট্রাইকারদের কাজই তো গোল করা। এভাবেই ধীরে ধীরে এই ঘাটতিটা কেটে যাবে। তখন বিশ্বাস জন্মাবে বাংলাদেশও প্রতি ম্যাচে গোল করতে পারে।’

২০১৯ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সল্টলেকে ভারতের বিপক্ষে ১-১ ড্র ম্যাচে জামাল খেলেছিলেন অসাধারণ ফুটবল। এরপর কাতারে ভারত অধিনায়ক সুনীল ছেত্রীর জেল্লায় হারের তিক্ত স্বাদ পেতে হয় বাংলাদেশকে। সেই দুঃখ ভুলে জামাল দিচ্ছেন বারুদে একটা ম্যাচের প্রতিশ্রুতি, ‘শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের পর আমরা এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। এখন একটা সংঘবদ্ধ দল হিসেবে খেলছি। আমি বিশ্বাস করি যে আমরাও নির্ভুল ফুটবল খেলতে পারি। এর জন্য শুধুই আমাদের কোচের কথা মতো খেলতে হবে। আমার বিশ্বাস কাল (আজ) আমরা অনেক শক্তিশালী রূপে ধরা দেব এবং একটা ভালো কিছু নিয়েই ফিরব।’

আগ্রাসী ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশকে হাই ডিফেন্স কৌশলে খেলতে হবে। সেক্ষেত্রে মিডফিল্ডারদের রাখতে হবে বড় ভূমিকা। এই চ্যালেঞ্জটা জিততে জামাল চান নিজেকে উজাড় করে দিতে, ‘অবশ্যই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ যখন আপনি ভারতের মতো দলের বিপক্ষে খেলবেন। তবে আমি মনে করি আমাদের সে ক্ষমতা আছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি এবং আমি কথা দিচ্ছি এই চ্যালেঞ্জটা জিততে নিজেদের পুরোটা উজাড় করে দেব।’

দেখতে দেখতে চতুর্থ সাফে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করছেন ২০১৩ সালে কাঠমান্ডু আসরে অভিষিক্ত জামাল। নিজেকে প্রমাণ করেই পেয়েছেন দলের নেতৃত্ব। এখন সময় এসেছে ফের জ্বলে উঠে সতীর্থদের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপনের। সেটা বড় মঞ্চে করতে পারলে তো কথাই নেই। সামনে যখন ভারত, জামালও নিশ্চয় চাইবেন রাশমি ধান্দু স্টেডিয়ামে আজকের বিকেলের সব আলো কেড়ে নিতে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত