সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ডাবের পানির প্লাস্টিক

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২১, ০৩:২৬ এএম

গরমের দিনে ডাবের পানি শরীর শীতল করে। পথ্য হিসেবেও ডাবের পানি পানের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। আবার ডাব পরিণত হলে নারকেল দিয়ে হয় বাহারি খাবার, তেল ইত্যাদি। কিন্তু অনেক দেশেই নারকেলের পানি ফেলে দেওয়া হয়। অথচ ইন্দোনেশিয়ার একদল গবেষক এই পানি থেকেই তৈরি করেছেন পচনশীল প্লাস্টিক। সাধারণ প্লাস্টিকের মতো ব্যবহার করা গেলেও এটি পচে যায় মাত্র ছয় মাসেই।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়ায় বছরে উৎপাদিত দেড় হাজার কোটির বেশি নারকেলের বেশিরভাগেরই পানি ফেলে দেওয়া হতো। এখন সেই বর্জ্য থেকে বায়োপ্লাস্টিক তৈরির উদ্যোগ চলছে। বড় আকারে উৎপাদন সম্ভব না হলেও বিশেষ ক্ষেত্রে সেটি কাজে লাগানো হচ্ছে।

এ কাজে নেতৃত্ব দেওয়া লিনিয়োসেলুলসিক বিশেষজ্ঞ মির্থা কারিনা সানকোইয়োরিনি বলেন, সেলুলোজ ও লিগনিন প্লাস্টিক তৈরির দুই প্রধান উপাদান। বর্তমানে আমরা জানি যে প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। একবার ব্যবহার করলে প্লাস্টিক সহজে প্রকৃতির মধ্যে ধ্বংস করা যায় না। কিন্তু ডাবের পানি দিয়ে তৈরি বায়োপ্লাস্টিক ছয় মাসের মধ্যে প্রকৃতিতে আবার মিশে যেতে পারে।’

বায়োপ্লাস্টিকের উপকরণ হিসেবে সেলুলোজ পেতে হলে অ্যাসেটোব্যাকটার সাইলিনিয়াম নামের ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট ব্যবহার করে ডাবের পানি সবার আগে ফারমেন্ট বা গাজানো হয়। ‘নাতা দে কোকো’ নামের আঠালো স্তর হওয়া পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া চালাতে হয়। তবে এ জন্য কাঁচামাল হিসেবে ব্যাকটেরিয়া বেড়ে ওঠার জন্য কতটা কার্বোহাইড্রেট বা প্রোটিন লাগবে, সেটা জানাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রচলিত প্লাস্টিকের মতো গঠনগত বৈশিষ্ট্য পেতে হলে জেল বা আঠালো পদার্থ থেকে পানি দূর করতে হয়। শুকিয়ে ফেলা ‘নাতা দে কোকো’ খুবই মজবুত হওয়ায় সেটিকে বায়োপ্লাস্টিক উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা যায়। মির্থা জানালেন, এটা সত্যি প্লাস্টিক। এটা ভ্যাকুয়াম করা ‘নাতা দে কোকো’র একটা স্তর।

তবে ডাবের পানির মধ্যে সেলুলোজের মাত্রা কম হওয়ায় উৎপাদিত পণ্যের পরিমাণও অত্যন্ত কম। ফলে বড় আকারে প্লাস্টিক উৎপাদনের জন্য সেটি উপযুক্ত নয় বলে জানান, পশ্চিম জাভার বান্দুং শহরে ইন্দোনেশিয়ার বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের ক্লিন এনার্জি রিসার্চ ওয়ার্কশপ প্রফেসর মির্থা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত