সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কাবুল-জালালাবাদে বিস্ফোরণ, নিহত ৬

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৪৭ এএম

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও জালালাবাদ শহরে পৃথক বিস্ফোরণে ছয়জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকেলে কাবুলে এবং আগের দিন শনিবার সন্ধ্যায় জালালাবাদে এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে এ বিস্ফোরণের দায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি।

বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের চামান এলাকায় বৃহত্তম ঈদগাহ মসজিদের প্রবেশমুখের পাশে বিস্ফোরণে কয়েকজন বেসামরিক আফগান নিহত হয়েছে। তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ টুইটারে এ তথ্য জানিয়েছেন। গত সপ্তাহে জাবিউল্লাহ মুজাহিদের মা মারা যান। গতকাল বিকেলে বিস্ফোরণের সময় ওই মসজিদে তার জন্য দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র  মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কারি সায়েদ খোশতি বলেন, ‘বিস্ফোরণে অন্তত দুজন বেসামরিক আফগান নিহত ও তিনজনের আহত হওয়ার খবর মিলেছে।’ প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, এদিন কাবুলের আরও দুটি জায়গায় গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

তালেবানের মুখপাত্র বিলাল করিমি জানান, বিস্ফোরণের ঘটনায় তাদের কেউ হতাহত হয়নি। বেসামরিক মানুষ মসজিদে প্রবেশের সময় এ বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ঘটনাটি তারা তদন্ত করছে। প্রত্যক্ষদর্শী দোকানি আবদুল্লাহ বলেন, ‘ঈদগাহ মসজিদের কাছে আমি শক্তিশালী বিস্ফোরণ এবং গোলাগুলির শব্দ শুনেছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই তালেবানের যোদ্ধারা এসে রাস্তাটি বন্ধ করে ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে।’

অন্যদিকে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় নানগারহার প্রদেশের রাজধানী জালালাবাদে গত শনিবার সন্ধ্যায় তালেবান যোদ্ধাদের গাড়ি লক্ষ্য করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এতে শিশুসহ চারজন নিহত হয়। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আফগান সংবাদমাধ্যম তোলো নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। বিস্ফোরণে এক শিশুসহ দুজন বেসামরিক আফগান ও তালেবানের দুজন যোদ্ধা নিহত হয়েছে।

গত ২৬ আগস্ট কাবুল বিমানবন্দরের প্রবেশপথে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। এ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ সেনাসহ অন্তত ১৮৫ জন নিহত হয়। পরে এ হামলার দায় স্বীকার করে আইএস।

প্রথম বড় ধরনের সমাবেশ : তালেবানের হাজারো সমর্থক ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের অংশগ্রহণে গতকাল কাবুলের উত্তরে খোদামান শহরে বিশাল শোভাযাত্রা হয়েছে। গত ১৫ আগস্ট তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর কাবুলে প্রথম এমন কোনো শোভাযাত্রা হলো।

তবে এ শোভাযাত্রায় কোনো নারীকে দেখা যায়নি। সকাল থেকে পুরুষ ও কিশোররা শহরে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হতে থাকেন। এ সময় সেখানে তালেবানের জয় উপলক্ষে গান বাজানো হয়। শোভাযাত্রায় অনেক সমর্থক নানা ধরনের পোস্টার নিয়ে হাজির হন। অনেকের মাথায় বাঁধা ছিল তালেবানের লাল-সাদা ব্যান্ড। শোভাযাত্রা শেষে সমাবেশে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেন তালেবানের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত