রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘এবার পরিস্থিতি নরমালের চাইতেও ভালো’

আপডেট : ০১ মে ২০২২, ১১:২৯ এএম

করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর বিধিনিষেধের মধ্যে ঈদ কাটলেও এবার মহামারি মুক্ত পরিবেশে ঈদ করবে মানুষ, সঙ্গে রয়েছে দীর্ঘ ছুটি। ফলে এবার ঈদযাত্রায় সড়ক ও মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়ের শঙ্কা করা হলেও পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন।

ঈদের ছুটি শুরু হলেও ভিড় দেখা যায়নি ঢাকার বড় বাস টার্মিনাল গাবতলী এবং টেকনিক্যাল ও কল্যাণপুরের কাউন্টারগুলোতে। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

রবিবার গাবতলী টার্মিনাল, টেকনিক্যাল ও কল্যাণপুরের কাউন্টার ঘুরে দেখা যায়, সকাল ৮টা পর্যন্ত চাপ ছিল, তবে ৮টার পর থেকে ভিড় কমতে থাকে। অনেক কাউন্টারে যাত্রীদের টিকিট ডেকে ডেকে বিক্রি হচ্ছিল।

হানিফের এসি বাসের চালক কামরুল বলেন, এবার পরিস্থিতি নরমালের চাইতেও ভালো। তেমন যানজট নেই।

সেলফি পরিবহনসহ কয়েকটি বাস পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করছে। তাদের কর্মীরা জানান, অনেক যাত্রী যানজটের কারণে ভেঙে ভেঙে যাচ্ছেন।

বরিশালগামী সূর্যমুখী পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার মো. সারওয়ার বলেন, ‘দূরপাল্লার বাসে সাধারণত রাতেই যাত্রীর চাপ বেশি হয়। সকাল থেকে যাত্রীর চাপ কম থাকলেও রাত থেকে ভিড় বাড়বে বলে আশা করছি।’

যাত্রী কম থাকলেও গাবতলীতে অনেক কাউন্টারে বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। অভিযোগ শুনে পাঁচ কাউন্টারকে জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। গাবতলীর সেলফি পরিবহনকে ১ হাজার টাকা, শ্যামলী পরিবহনকে ৫০০, সাঁথি এন্টারপ্রাইজকে ১ হাজার, অরিন ট্রাভেলসকে ১ হাজার টাকা ও শ্যামনগর পরিবহনকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানান অধিদপ্তরের পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার।

এদিকে ভোক্তা অধিকারের অভিযানের পর অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার জন্য ভিন্ন কৌশল নিয়েছে কাউন্টারগুলো। গাবতলী থেকে ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার বাসগুলো যাত্রীদের থেকে সর্বশেষ স্টপেজের ভাড়া আদায় করছে। এতে যে ব্যক্তি বগুড়া যাবেন, তাকে বাধ্য হয়ে জয়পুরহাটের টিকিট কাটতে হচ্ছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বগুড়া যাওয়ার জন্য টিকিট কাটতে গিয়েছি, বলে যে বগুড়ার টিকিট নাই। পরে জয়পুরহাটের টিকিট কিনেছি ১৫০ টাকা বেশি দিয়ে।’

 

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি স্বীকারও করেছেন কাউন্টারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী। তিনি বলেন, ‘ঈদের সময় রাস্তায় অনেক যানজট থাকে। তা ছাড়া যাওয়ার সময় যাত্রী বেশি থাকলেও ঢাকার আসার সময় যাত্রী পাওয়া যায় না। এ জন্য অনেকে একটু বেশি আদায় করে।’

আনুষ্ঠানিক ছুটি শুরুর দিন শুক্রবারের মত শনিবারও বিকাল পর্যন্ত গাবতলীতে ঈদের সেই পরিচিত ভোগান্তির দৃশ্য চোখে পড়েনি। দেখা যায়নি কোনও বিশৃঙ্খলাও।

এবার ঈদের লম্বা ছুটির শুরু থেকেই রাজধানী ছাড়া শুরু করেন লোকজন। অনেকে ভিড়ের ভয়ে পরিবারের সদস্যদের আগেই বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। গাবতলী টার্মিনালে ভিড় তাই স্বাভাবিক সময়ের মতোই।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত