সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মিরপুরে হয়নি পূর্বাচলে হবে?

আপডেট : ০৬ মে ২০২২, ১২:১৩ এএম

ইতিহাসের পাতায় লেখা আছে ১৯৯৭ আইসিসি ট্রফি জিতেছে বাংলাদেশ। সেটা আজীবন থাকবে। আকরাম খানের ট্রফি উঁচিয়ে ধরা ছবিটাও চির অমøান। তবে ওই ট্রফি স্বচক্ষে দেখে সেই মুহূর্ত, স্মৃতি বা রোমাঞ্চে রোমাঞ্চিত হওয়ার সুযোগ ক্রিকেটপ্রেমী সাধারণের নেই। অথবা ২০০৫’র প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ী ট্রফি কিংবা দেশের ক্রিকেটের সেরা অর্জন যুব বিশ্বকাপ জয়ের স্মারক ট্রফিও দেখে বিমুগ্ধ হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, ক্রিকেট ইতিহাস সর্বসমক্ষে তুলে ধরার সংস্কৃতিটাই যে তৈরি হয়নি বাংলাদেশে। টেস্ট ক্রিকেটের পথচলা থেকে ক্রিকেটই বাংলাদেশের জনপ্রিয় খেলা। অথচ খেলাটির ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণের সংগ্রহশালা তৈরি হয়নি। একটি ক্রিকেট জাদুঘরও নেই এখনো।

‘ক্রিকেট মিউজিয়াম’ হবে না যে তা নয়। এমন চিন্তা সব ক্রিকেট বোর্ডেরই থাকে। বিসিবিরও আছে। কিন্তু স্থায়ী কাঠামো এই বোর্ডের হচ্ছে না। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ক্রিকেট নিয়মিত হওয়ার সময় গুলশানে করপোরেট অফিস ছিল বিসিবির। পাকাপাকি ভাবে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামকে ‘হোম অব ক্রিকেট’ ঘোষণার পর ক্রিকেট জাদুঘরের স্বপ্নটাও উঁকি মারে। কিন্তু রাজধানী ঢাকায় থাকা এ দুই স্টেডিয়াম বিসিবির নয়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে। তবুও মিরপুরেই ক্রিকেট জাদুঘর গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছিল বিসিবি। কিন্তু তা বাস্তবে রূপ পায়নি নিজস্ব স্থাপনা না থাকার কারণে। বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন জানালেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা ছিল আর্কাইভ করার। কিন্তু মিরপুরের স্টেডিয়াম তো বিসিবির নিজস্ব স্থাপনা নয়। আমরা এটা ব্যবহার করছি। আমরা পূর্বাচলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নামে শেখ হাসিনা স্টেডিয়াম করছি, ওটা আমাদের নিজস্ব স্থাপনা, সেখানে এমন ক্রিকেট জাদুঘর বা আর্কাইভ করা হবে। মিরপুর স্টেডিয়ামে এ সংক্রান্ত পরিকল্পনা ছিল কিন্তু এখন যেহেতু আমরা নিজস্ব স্টেডিয়াম করছি তাই এখানে নতুন করে আর কোনো পরিকল্পনা করা হচ্ছে না, নতুন স্টেডিয়ামেই সব আয়োজন থাকবে।’

লম্বা অপেক্ষার পর বিসিবির নিজস্ব স্থাপনা হচ্ছে পূর্বাচলে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে হওয়া স্টেডিয়ামটির নাম ‘দ্য বোট’। ২০১৯ সালেই এ স্টেডিয়াম তৈরির ঘোষণা দিয়ে বিসিবিপ্রধান নাজমুল হাসান পাপন তিন বছরে স্টেডিয়ামটি তৈরি করার লক্ষ্য স্থির করেন। তারপর করোনার কারণে পিছিয়ে গেছে স্টেডিয়াম শুরুর কাজ। এখনো তা খুব বেশি এগোয়নি। তবে ওই স্টেডিয়ামে ক্রিকেট মিউজিয়াম করার নকশাও তৈরি আছে বলে জানালেন বিসিবি ক্রিকেট অপারেশন্স প্রধান জালাল আহমেদ চৌধুরী, ‘নতুন স্টেডিয়াম যখন হবে সেখানে আর্কাইভ ও জাদুঘর একসঙ্গে হবে। মিরপুরে এমন কিছু করার পরিকল্পনা ছিল কিন্তু এটা আপাতত হচ্ছে না। পূর্বাচলে যে স্টেডিয়াম হচ্ছে সেখানে জায়গা রাখা আছে। ইতিমধ্যে নকশাও তৈরি করা হয়েছে। যারা কনসালট্যান্ট আছে ওরা মিউজিয়াম এবং আর্কাইভ তৈরি করে দিবে।’

বিসিবির নিজস্ব স্থাপনা এতদিন না থাকায় নানা সময়ের সিরিজ জয়ী ট্রফিগুলো আর জাদুঘরে জায়গা পায়নি। বিক্ষিপ্তভাবে আছে বিসিবির অফিস ও অ্যাকাডেমি ভবনে। ক্রিকেট ইতিহাস তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার বিবেচনায় এমন ক্রিকেট জাদুঘর প্রয়োজন বলে মনে করেন সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার। তার হাত ধরেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রথম জয় এসেছে। সেই সব সিরিজ ট্রফি বা ম্যাচগুলোর স্মরণিকা এক জায়গায় থাকলে খুব ভালো হতো বলে জানান হাবিবুল বাশার, ‘বিসিবির সভায় এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে এবং এমন পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এমন কিছু অবশ্যই থাকা উচিত। আমাদের ক্রিকেটের ইতিহাসগুলো এক জায়গায় থাকবে, দেখা যাবে। এটা শুধু আমার ভালো লাগা না, সবারই ভালো লাগবে।’ সাবেক অধিনায়কও মনে করেন নতুন স্টেডিয়ামে পরিকল্পিতভাবে জাদুঘর বাস্তবায়ন সম্ভব, ‘আমরা পূর্বাচলে নতুন স্টেডিয়ামে যখন যাব ওখানে এরকম সুবিধা তৈরি করা হবে। কারণ মিরপুর স্টেডিয়ামটা তো আগে থেকে এমন পরিকল্পনা নিয়ে তৈরি করা হয়নি, ফুটবল স্টেডিয়াম ছিল। এটাকে বিসিবি ক্রিকেটের জন্য তৈরি করেছে। তবে এখন যেটা হচ্ছে পূর্বাচলে সেটা তো পুরোপুরি ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং বেশ ভালো কাঠামো নিয়ে তৈরি হচ্ছে। সেখানে এরকম সুবিধা রাখা আরও সহজ হবে। তবে এটা ঠিক, বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাস একদম শুরু থেকে সংগ্রহে থাকা উচিত।’

ওয়ানডে ক্রিকেটের হাত ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন বেশ সমৃদ্ধ। নানা সময়ে জেতা স্মরণীয় ট্রফি, স্মরণীয় মুহূর্তের স্মরণীকায় ভরা একটি জাদুঘর সমৃদ্ধির মাত্রা আরও বাড়াবে। মিরপুরে সেই অপেক্ষা ফুরোয়নি। পূর্বাচলের নতুন স্টেডিয়ামে সেই অপেক্ষা কবে ফুরোয় সেটাই দেখার।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত