বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিনোদন কেন্দ্রে উপচেপড়া ভিড়

আপডেট : ০৬ মে ২০২২, ০১:০৪ এএম

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে বিগত দুই বছর ঈদের ছুটি কেটেছে প্রায় ঘরবন্দি অবস্থায়। সম্প্রতি মহামারী অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এর মধ্যে এসেছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। এ বছর লম্বা ছুটির কারণে পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে বেশি সময় ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় বেড়েছে ব্যাপকভাবে। ঈদের আনন্দকে রাঙিয়ে তুলতে রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানা, হাতিরঝিলসহ বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ঈদের দিন থেকে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।

মহামারীর বিধিনিষেধে গত দুই বছরে মিরপুর চিড়িয়াখানা বন্ধ ছিল লম্বা একটা সময়। গত ২৭ আগস্ট স্বাস্থ্যবিধি মানা সাপেক্ষে দর্শনার্থীদের জন্য এটি খুলে দেওয়া হয়। গত মঙ্গলবার ঈদুল ফিতরের দিন দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে চিড়িয়াখানা। কর্তৃপক্ষের হিসাবে ওই দিন এখানে এসেছিলেন বিভিন্ন বয়সী ৩৫ হাজার মানুষ। গত বুধবার কত সংখ্যক দর্শনার্থী এসেছিলেন জাতীয় চিড়িয়াখানায় তার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও এ সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যায় বলে আভাস দিয়েছেন চিড়িয়াখানার দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। তাদের বক্তব্য, স্মরণকালে এই চিড়িয়াখানায় এত দর্শনার্থী তারা দেখেননি। যারা ঈদের আনন্দ পেতে ঢাকার বাইরে যাননি তারাতো ছিলেনই, এমনকি ঢাকার বাইরে থেকেও আনন্দ উপভোগ করতে এসেছিলেন অনেকে। প্রবেশের টিকিটের জন্য সকাল থেকে ছিল লম্বা লাইন। এত মানুষ সামাল দিতে চিড়িয়াখানায় দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীদের হিমশিম খেতে হয়। এত মানুষের ভিড়ে বাবা-মায়ের হাত থেকে ৭০ শিশু হারিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। তবে, চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের চেষ্টায় দিন শেষে সব বাবা-মা তাদের সন্তানদের কাছে ফিরে পান। এজন্য করতে হয় মাইকিং।

মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক মুজিবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, উপচে পড়া ভিড়ের কারণে বুধবার বিকেলের দিকে বেশ কয়েকবার টিকিট পরীক্ষা বাদ দিয়েই প্রধান ফটক খুলে দিয়ে গণহারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়।

চিড়িয়াখানার কর্মীদের বরাতে তিনি আরও বলেন, এত জনসমাগম তারা আর দেখেননি। প্রধান ফটকে টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা  ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে এক লাখের বেশি দর্শনার্থীর কথা বলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবারও চিড়িয়াখানায় মানুষের ঢল ছিল। আজ শুক্রবারও দর্শনার্থীদের ভিড় থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আনন্দে ঝলমল হাতিরঝিল : রাজধানীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র দৃষ্টিনন্দন হাতিরঝিল। প্রতিটি ঈদের ছুটিতে পরিবার, স্বজন ও প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে এখানে বেড়াতে আসেন অসংখ্য মানুষ। দুই বছর পর ঈদের ছুটিতে আবারও সরগরম হয়ে উঠেছে নান্দনিক সৌন্দর্যের হাতিরঝিল। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিনোদনপিয়াসী মানুষের ভিড় বাড়ে। গতকাল হাতিরঝিলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ঘুরে দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের দিন থেকেই এখানে মানুষের আনাগোনা বেড়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাগড়া না দিলে আজ শুক্র ও শনিবারও মানুষের ঢল থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন হাতিরঝিল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশাজীবীরা।

হাতিরঝিলের ‘চক্রাকার বাস সার্ভিস’র সাতরাস্তা এলাকার কাউন্টারম্যান জোবায়ের ইসলাম বলেন, এমনিতে কর্মস্থলগামী মানুষেরা এ পরিবহনে যাতায়ত  করেন। আমাদের ধারণা ছিল যেহেতু ঈদের ছুটি তাই মানুষের আনাগোনা কম থাকবে। কিন্তু এবার একটু ভিন্ন চিত্র দেখছি। ঈদের ছুটির কারণে অনেকে পরিবার ও স্বজন নিয়ে পরিবহনে করে ঘুরছেন। এই ছুটির মধ্যেও আমাদের কাউন্টারে এই সময়ে সর্বোচ্চ ৫০০ টিকিট বিক্রি হচ্ছে। হারিঝিলের পুলিশ প্লাজা কাউন্টার এলাকার ‘ইট ইটালিয়া’ কফিশপের স্বত্বাধিকারী বাদল বলেন, হাতিরঝিলের সৌন্দর্য যেহেতু সন্ধ্যার পর থেকে, তাই বিকেল ৫টার পর থেকে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। আমাদের বিক্রিও এই দুই দিনে অনেক বেড়েছে।

এদিকে হাতিঝিলে ওয়াটার ট্যাক্সিতে যাত্রী পারাপার বন্ধ থাকা ও প্যাকেজে যাত্রী তুলে নৌ-ভ্রমণে অনেককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। বেলা ৩টার দিকে নাখালপাড়া থেকে তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে ওয়াটার ট্যাক্সিতে রামপুরা এলাকা পর্যন্ত ঘুরতে এসেছিলেন ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন সুমন। ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, ৩০ মিনিট ওয়াটার ট্যাক্সি ঘুরবে। এজন্য জনপ্রতি ৮০ টাকা করে নির্ধারণ করেছে। ওয়াটার ট্যাক্সিতে না উঠে এমনিই ঘুরে বেড়াব।

পুলিশ প্লাজা এলাকার কাউন্টার মাস্টার মামুন বলেন, ঈদের ছুটিতে পারাপারের যাত্রী নেই বললেই চলে। এজন্য ঈদের তৃতীয় দিন (গতকাল) পর্যন্ত প্যাকেজে যাত্রীদের নৌ-ভ্রমণ করানো হচ্ছে।

পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে হানিফা খাতুনকে নিয়ে হাতিরঝিলে বেড়াতে এসেছিলেন আক্কাস আলী। আলাপকালে জানান, রাজমিস্ত্রির কাজ করেন তিনি। ঈদের ছুটিতে মেয়ের আবদার মেটাতে হাতিরঝিলে এসেছেন। হাতিরঝিলের রামপুরা ব্রিজ পয়েন্টে কথা হয় ব্যবসায়ী পাভেল ও সাইদুল ইসলামের সঙ্গে। তারা জানান, ময়মনসিংহ থেকে রামপুরা এলাকাতে একটি বিয়ের বরযাত্রী এসেছেন তারা। হাতে সময় আছে। হাতিরঝিলের অনেক গল্প শুনেছেন। তাই হাতিরঝিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছেন তারা। সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘হাতিঝিলের কথা অনেক শুনেছি। কখনো দেখার সুযোগ হয়নি। এবার ঈদের ছুটিতে একটু সময়ে পেয়েছি তাই এখানে আসা।’      

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত