রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বাংলাবাজার ঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ

আপডেট : ০৬ মে ২০২২, ০২:২৬ পিএম

প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলার মানুষ। এরই মধ্যে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথ।

শুক্রবার ভোর থেকেই মাদারীপুরের বাংলাবাজার ও মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথ দিয়ে দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী লোকজন। ফলে ঘাটে বেড়েছে যাত্রীদের চাপ।

শুক্রবার দুপুরে সরেজমিন বাংলাবাজার ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ফেরি ঘাটের ৩ নম্বর ঘাটে শিমুলিয়া ঘাট থেকে আগত "কুঞ্জুলতা’ ফেরিটি নোঙর করে আনলোড করার ১০ মিনিটেই পুরো ফেরি মোটরসাইকেল আর হালকা কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়িতে ভর্তি হয়ে গেল। এরপর একই ঘাটে ফেরি ‘ফেরি ’ক্যামেলিয়া’ আসতে না আসতেই মোটরসাইকেলে ভর্তি হয়ে গেল।

একদিকে গরম আর একদিকে যাত্রী ও যানবাহনের গাদাগাদি ঘাটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বারবার মাইকে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে হুঁশিয়ারি বার্তা। কে শুনে কার কথা। কে উঠবে কার আগে এই নিয়ে হুড়োহুড়ি।

এদিকে মোটরসাইকেল আর ব্যক্তিগত গাড়ির চাপে ফেরিতে উঠতে পারছে না যাত্রীবাহী যানবাহন। ফলে যাত্রীদের লঞ্চ আর স্পিডবোটই একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই সুযোগে লঞ্চ ও স্পিডবোটে অতিরিক্ত যাত্রী হয়েই পদ্মা পার হচ্ছেন যাত্রীরা।

image

বিআইডব্লিউটিএ'র বাংলাবাজার লঞ্চঘাট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই যাত্রীরা ঢাকা ফিরতে শুরু করেছে। তবে শুক্রবার সকাল থেকে বেড়েছে যাত্রীদের চাপ। নৌযানে ধারণক্ষমতা মেনে যাত্রী পার করা হচ্ছে।

ভোরের দিকে লঞ্চ ও স্পিডবোটে যাত্রীদের চাপ হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। সাধারণত যারা অফিস করবেন তাদের একটা অংশ ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই ঘাটে এসে উপস্থিত হয়। এরপর থেমে থেমে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। তবে ফেরিঘাট কিছুটা ভোগান্তি রয়েছে। ঝড়ের মৌসুমে সতর্কতার সঙ্গে নৌযান চলাচল করছে। । ভোর থেকে ঘাটে সিরিয়ালে অসংখ্য যানবাহন আটকে রয়েছে। ঘাটে এসে দুই/তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে ফেরিতে উঠতে।

বাগেরহাট থেকে আসা যাত্রী হাসান মাহবুব বলেন, ‘প্রতি বছর ঈদ এলেই আমাদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। ঘাটে অনেক সময় নিয়ে আসলেও অপেক্ষায় সময় শেষ হয়ে যায়। ঘাটে এলে ফেরিতে উঠতে পারি না। লঞ্চে যাত্রীদের ব্যাপক চাপ। পা ফেলার জায়গা নেই। ঘাটে ফেরিতে উঠতে খুব কষ্ট হয় কি করবো বলেন, গ্রামে বাবা-মা থাকে। তাই যেতেই হয়।’

ফরিদপুরের নগরকান্দা থেকে আসা সামাদ নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী বলেন, ‘মোটরসাইকেল নিয়ে ঢাকা যাবো। যাওয়ার সময় যেমন ফেরিতে উঠতে কষ্ট হয়েছে, ঠিক তেমনি ফেরার পথেও একই কষ্ট। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ফেরিতে উঠলাম। অথচ ঘাটে বড় বড় ফেরি নোঙর করে রাখা। এই সময়ে যদি ফেরিগুলো ছাড়া হতো, তাহলে এত কষ্ট হতো না।

বিআইডব্লিউটিসি'র বাংলাবাজার ঘাটের ব্যবস্থাপক ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘এই ফেরিঘাটে আজ ঘরমুখী যাত্রীদের চাপ রয়েছে। সকাল থেকে সাতটি ফেরি এই ঘাটে যাত্রী ও যানবাহন পারা করছে। প্রতিটি ফেরিতেই ব্যাপক চাপ।

বিআইডব্লিউটিএর বাংলাবাজার ঘাটের পরিদর্শক আক্তার হোসেন বলেন, ‘গত দুই দিন ধরে যাত্রী চাপ রয়েছে। আমরা প্রতিটি লঞ্চে যেন অতিরিক্ত যাত্রী পারাপার না করে, সে জন্য লঞ্চের মালিক ও শ্রমিকদের চাপ দিয়ে আসছি। অনেক সময় যাত্রীরা তাড়াহুড়ো করে লঞ্চে ওঠেন, তখন আর তেমন কিছু করার থাকে না। তাও চেষ্টা করছি নিয়ম মেনেই যাত্রীরা পারাপার হোক।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত