মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পদ্মায় চাঁদাবাজদের বাড়াবাড়ি

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৩৬ এএম

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে পদ্মা নদীতে পণ্যবাহী ট্রলার, জাহাজ ও বালুবাহী বাল্কহেড থেকেও নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। সংঘবদ্ধ এ চক্রটি জাহাজ ফেডারেশনের নাম ভাঙিয়ে মাঝনদীতে ট্রলার নিয়ে চাঁদা তোলে। কেউ চাহিদা মতো চাঁদা না দিলে ঘটে নির্যাতনের ঘটনা। গতকাল বুধবারও চাঁদাবাজরা একটি পাটকাঠি বোঝাই ট্রলারে আগুন দেয়। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ক্ষতি হয়েছে ২৫ লাখ টাকার বেশি।

চাঁদাবাজদের খপ্পরে পড়া ট্রলারটির মাঝি ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বাহাদুরপুর বাজার এলাকায় পদ্মা নদীতে ট্রলারে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। পরে ট্রলারে থাকা এক শ্রমিক জাতীয় জরুরি পরিসেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে হরিরামপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট সেখানে গিয়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ট্রলারে থাকা শ্রমিক ও মাঝিরা জানান, গতকাল সকালে তারা রাজবাড়ী থেকে পাঁচটি ট্রলার বোঝাই করে পাটকাঠি নিয়ে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। হরিরামপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ঘাট এলাকায় পৌঁছালে বাহাদুরপুর বাজার থেকে তিনটি ট্রলারে করে ৯-১০ জন লোক একটি পাটকাঠিবোঝাই ট্রলারের কাছে যায় এবং ৩ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। তারা ২২০০ টাকা দেওয়ায় রাগান্বিত হয়ে দুর্বৃত্তরা মাঝি আক্কাসকে মারধর করে এবং গ্যাসলাইট দিয়ে পাটখড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে

চলে যায়।

ট্রলারে থাকা শ্রমিক সাদ্দাম হোসেন বলেন, বাহাদুরপুর এলাকা থেকে ছোট ট্রলারে করে ৯-১০ জন লোক প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি করে। পদ্মায় চলাচলকৃত ট্রলার ও বাল্কহেড থেকে তারা চাঁদা আদায় করে। দাবিকৃত চাঁদা না দিলে তারা মারধরসহ অগ্নিকা-ে তাদের ট্রলার পুড়ে ১০-১২ লাখ টাকা এবং ট্রলারে থাকা ১৫ লাখ টাকার পাটকাঠি পুড়ে গেছে।

মাঝি আক্কাস বলেন, তারা নিয়মিত পদ্মায় চলাচলকৃত ট্রলার এবং বাল্কহেড থেকে চাঁদা ওঠায়। দাবিকৃত টাকা না দিলে তারা মারধর করে। আমরাও তাই বাধ্য হয়ে তাদের চাঁদা দিয়ে থাকি।

হরিরামপুর ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল পৌনে ১০টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি পাটবোঝাই একটি ট্রলারে আগুন জ্বলছে। আমরা প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছি।

হরিরামপুর থানার ওসি সৈয়দ মিজানুর ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলে তদন্ত সাপেক্ষে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি দেখার দায়িত্ব নৌ-পুলিশের।

ফরিদপুর নৌ-পুলিশের ইনচার্জ এসআই শহিদুল ইসলাম বলেন, চাঁদাবাজির বিষয়টা জানা নেই। কেউ আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগও দেয়নি। তবে সূত্র জানায়, প্রতিদিন পাটুরিয়া-বাঘাবাড়ী নৌ-রুটে শত শত পণ্যবাহী জাহাজ ও বালুবাহী বাল্কহেড থেকে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। চাঁদার টাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং প্রশাসনের একশ্রেণির কর্মকর্তার মধ্যে ভাগ-বণ্টন হয়। তাই পুলিশ একাধিকবার কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত