বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

যে দেশে আছে রূপকথার কুঁড়েঘর

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২২, ১১:৫৫ পিএম

স্পেনের প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলে বহু আগে প্রতিকূল আবহাওয়া বিবেচনায় নিয়ে তৈরি করা হয় বিশেষ ধরনের কুঁড়েঘর। শিশুদের রূপকথার বইয়ে যেসব কুঁড়েঘর দেখা যায়, স্পেনের ঘরগুলো দেখতে হুবহু সেরকম। পাইয়োসা নামে পরিচিত এসব ঘর ঘিরে একসময় গড়ে ওঠে একটি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া

প্রাচীন স্থাপত্য

স্পেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আনকারেস পর্বতের গা ঘেঁষে কয়েক শতাব্দী পুরনো কুঁড়েঘর রয়েছে। দূর থেকে দেখলে এই ঘরগুলোকে ছোট বিন্দুর মতো দেখায়। শিশুদের কাছে এসব কুঁড়েঘর বেশ পরিচিত। তাদের রূপকথার গল্পের বই বা জনপ্রিয় কমিক বুক সিরিজ অ্যাস্টেরিক্স অ্যান্ড ওবিলিক্সের পাতা ওল্টালে আনকারেস পর্বতের ওই কুঁড়েঘর দেখতে পাওয়া যায়। গোলাকার এই ঘরগুলো স্থানীয়দের কাছে পাইয়োসা নামে পরিচিত। পাইয়োসার দেয়াল পাথর দিয়ে নির্মাণ করা হয় এবং ঘরের চাল খড় দিয়ে ছাওয়া হয়। স্পেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের স্বশাসিত অঞ্চল গালিসিয়া ও কাস্তিল-লেওনের পিওরনেদো, বালুতা ও সেব্রেইরো, বালবোয়াসহ অন্য গ্রামগুলোতে দুইশর বেশি পাইয়োসা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এসব ঘরের বেশির ভাগই আড়াইশ বছর আগে তৈরি করা হয়। তবে পাইয়োসার স্থাপত্যশৈলীর বয়স হাজার বছর আগের বলে ধারণা করা হয়। ইতিহাসবিদদের একাংশ মনে করেন, রোমান সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠারও আগে স্পেনে বিশেষ ধরনের এই ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল।               

পরিবেশ উপযোগী

পাথর, কাঠ ও খড় এই তিন সামগ্রী দিয়ে পাইয়োসা নির্মাণ করা হয়। পাইয়োসা দেখতে বেশ সাধারণ ও নির্মাণে খুব বেশি সামগ্রী না লাগলেও পাহাড়ের শীতল আবহাওয়া ও ঝড়ো বাতাস ঠেকাতে এগুলো বেশ কার্যকর। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় পাইয়োসার আকার ও দরজা-জানলার কথা। আকৃতি গোল ও দরজা-জানলা কম থাকায় ঝড়ো বাতাস ঘরগুলোকে কাবু করতে পারে না। এ ছাড়া গ্রানাইটের পুরু দেয়ালের কারণে বাইরের ঠাণ্ডা বাতাস ভেতরে ঢুকতে পারে না এবং ঘরের ভেতরের তাপও বাইরে যেতে পারে না। পাইয়োসার দেয়াল যে সবসময় গ্রানাইট পাথর দিয়ে নির্মাণ করা হয়, তা নয়। কখনো কখনো চুনাপাথর ও সেøট পাথরও পাইয়োসা নির্মাণে ব্যবহার করা হয়। গ্রানাইট, চুনাপাথর ও সেøট এই তিন পাথরের যখন যেটা স্প্যানিশরা হাতের কাছে পায়, তখন তাই দিয়েই পাইয়োসা নির্মাণ করে তারা। ফায়ারপ্লেস ও গবাদি পশুর থাকার জায়গা পাইয়োসার ভেতরের তাপমাত্রা উষ্ণ ও স্থির রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।        

শৈশবের স্মৃতি

জেইমি ফারনান্দেজ ইউরিয়া স্পেনের অবসরপ্রাপ্ত একজন সরকারি কর্মকর্তা। থাকেন  বার্সেলোনা শহরে। দেশটির লিওন প্রদেশের বালুতা গ্রামে শৈশব কাটে তার। সে সময় পরিবারের সঙ্গে পাইয়োসায় থাকতেন ফারনান্দেজ। বালুতা গ্রামে এখন সর্বসাকুল্যে চারটি পাইয়োসা খুঁজে পাওয়া যাবে। তার একটি ইউরিয়ার শৈশবের সেই পাইয়োসা। তিনি বা তার পরিবারের সদস্য কেউ এখন এটিতে থাকেন না। পারিবারিক কিছু জিনিসপত্র রাখা আছে কুঁড়েঘরটিতে। এটির অভ্যন্তরের ফায়ারপ্লেস ফারনান্দেজের পরিবারের চার প্রজন্মকে ঠাণ্ডা আবহাওয়া থেকে রক্ষা করে। ফায়ারপ্লেসটি এখনো আগের জায়গাতেই আছে। মাঝেমধ্যে ছেলেবেলার বাড়িতে গিয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন ফারনান্দেজ। তিনি বলেন, ‘বালুতা গ্রামের প্রতিটি পাইয়োসার ভেতর দু’ভাগে বিভক্ত। যে অংশে মানুষ থাকে, সেটিকে বলা হয় এসত্রাগো এবং গবাদি পশু থাকার জায়গার নাম এসত্রাভারিজা। ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত এই এসত্রাভারিজার ওপরে রাখা কাঠের তক্তায় ঘুমাতাম আমি। তক্তাটি নিচের গবাদি পশুর কারণে উষ্ণ থাকত। আমাদের বাড়ির এসত্রাভারিজা অংশে সাধারণত গরু, মুরগি, শূকর ও ঘোড়া থাকত।’ ফারনান্দেজ বলেন, ‘ফায়ারপ্লেসটিকে আমরা লেরেইরা বলি। ঐতিহ্যগতভাবে এটি এসত্রাগোর মাঝখানে থাকে। লেরেইরাকে ঘিরে আমরা গল্প করতাম, খাওয়া-দাওয়া  করতাম। এ ছাড়া খাবার প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে উল বোনা, যন্ত্রপাতি মেরামতসহ অন্যান্য কাজ করার সময়ও লেরেইরার উষ্ণতা নেওয়া হতো। বাদাম, পনির, মাংসসহ অন্যান্য খাবার লেরেইরার কাছে রাখা হতো যাতে এটির ধোঁয়ায় ইঁদুর খাবারের কাছে ঘেঁষতে না পারে। গবাদি পশুর বাচ্চাদের বেশি উষ্ণতার প্রয়োজন পড়ে, এজন্য লেরেইরার পাশে কখনো কখনো উনুন ও ছোট্ট খোঁয়াড় রাখা হতো। এসত্রাগোর একটি অংশ ব্যক্তিগত শোবার ঘর হিসেবে ব্যবহার করা হতো। পরিবারের সবচেয়ে বয়স্ক দম্পতি ওই ঘরটিতে থাকতেন। আমাদের পাইয়োসায় সবার শেষে ছিলেন আমার মা। ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত সেখানে থাকেন তিনি।’

মা-বাবা ও দাদা-দাদির সঙ্গে ছোটবেলায় পাইয়োসায় থাকার অনেক সুখস্মৃতি এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন ফারনান্দেজ। খুব বেশি গবাদি পশু ছিল না তাদের। জমিজমাও তেমন একটা ছিল না। তা সত্ত্বেও বালুতা গ্রামে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন ফারনান্দেজের পরিবার। এর কারণ তার মা-বাবা, দাদা-দাদি সবাই ছিলেন বেশ ভদ্র, বিনয়ী ও অতিথিপরায়ণ। ফারনান্দেজের এক পারিবারিক বন্ধু ম্যানুয়েল কাদেনাস বারেরো। ফারনান্দেজের বাড়ির প্রাণবন্ত পরিবেশের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘তাদের ফায়ারপ্লেসটি ঘিরে সবসময় লোকজন ভিড় করে থাকত। ফারনান্দেজের দাদা বেশ রসিক ছিলেন। তিনি ছিলেন অসাধারণ এক কমেডিয়ান। তার কৌতুক শুনে হাসতে হাসতে সবাই মাটিতে গড়াগড়ি দিত। তার মতো কৌতুক পুরো গ্রামে আর কেউ বলতে পারত না। এ ছাড়া তার ছিল গল্প বলার অসাধারণ ক্ষমতা। ফারনান্দেজদের পাইয়োসা সবার জন্য সবসময় উন্মুক্ত থাকত। গ্রামের সবাইকে সাদরে গ্রহণ করত তার পরিবার। আমার শৈশবের সেরা সব স্মৃতি তাদের বাড়ি ঘিরেই।’

আনকারেসের জলবায়ু প্রতিকূল ও মাটি খুব বেশি উর্বর না হওয়া সত্ত্বেও বাসিন্দারা ঐতিহ্যগতভাবে সেখানে গরু, ছাগল, শূকর লালন-পালন করত এবং আলু, পেঁয়াজ, বাঁধাকপিসহ অন্যান্য সবজি উৎপাদন করত। কয়েকটি এলাকায় বরবটি, শিমও ফলানো হতো। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শূকর জবাই করা ছিল রীতি। ফলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হতো চেস্টনাট ও আপেল। আনকারেসের পাহাড়ি এলাকায় গেলে এখনো প্রচুর পরিমাণে চেস্টনাটের বাগান চোখে পড়বে। তবে ওই অঞ্চলে যে খাদ্যশস্য বিপুল পরিমাণে ফলত, তা হলো রাই। এটি আনকারেসের বিস্তীর্ণ ভূমি ও জলবায়ুর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি খাপ খেত। দুই/তিন সপ্তাহে অন্তত একবার গ্রামবাসীরা জড়ো হয়ে বড় একটি পাথরের উনুনে তাদের রুটি সেঁকত। সেলিয়া বলেন, ‘প্রতি মাসে রাইয়ের রুটি সেঁকা এবং অতি অবশ্যই তা চেখে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করত আনকারেসের বাসিন্দারা।’

প্রধান চ্যালেঞ্জ

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে রাই ছিল আনকারেস অঞ্চলে বাস করা জনগোষ্ঠীর প্রধান খাদ্যশস্য। মাইলের পর মাইল এই খাদ্যশস্যের আবাদ হতো সেখানে। তবে গত কয়েক দশকে ওই অঞ্চলের জনসংখ্যা ও রাই উৎপাদন হ্রাস পাইয়োসা মালিকদের দুর্ভোগে ফেলে। পাইয়োসার চালে বরাবরই রাইয়ের খড় দেওয়া হয়। রাই উৎপাদন কমে যাওয়ায় কুঁড়েঘরগুলোর চাল ভালো অবস্থায় রাখতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। পাইয়োসার চাল তৈরি ও মেরামতের পেশাকে তেইতাদোর বলা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পেশাও হারিয়ে যাচ্ছে বলে উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা। পিওরনেদো গ্রামের ক্যাসা দো সেস্তো পাইয়োসা জাদুঘরের মালিক ইসোলিনা রদরিগেজ লোপেজ বলেন, ‘পাইয়োসার চালের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করতে প্রতি বছর দুই হাজার থেকে তিন হাজার ইউরো খরচ করি আমরা। আমরা নিজেরাই খড় উৎপাদন করি নয়তো মেরামত ব্যয় আরও বেড়ে যাবে।’ ফারনান্দেজের মতো ইসোলিনাও ছোটবেলায় পাইয়োসায় বড় হন। তার আগের পাঁচ প্রজন্মও পাইয়োসাতেই বেড়ে ওঠেন। ১৯৮৯ সালে ইসোলিনা তাদের বাড়ি অর্থাৎ পাইয়োসাকে জাদুঘরে পরিণত করেন। ইসোলিনার এই জাদুঘরের পাশেই রয়েছে সেলিয়া আলোনসো লোপেজ নামে আরেক স্প্যানিশের পাইয়োসা।

১৯৫৯ সালে জন্মগ্রহণ করা সেলিয়ার পাইয়োসার অবস্থা এখন খুব একটা ভালো নয়। এটির চাল পুরোপুরি মেরামতের প্রয়োজন। বৃষ্টিবাদলার এক দুপুরে চালের এক ফুটোর দিকে তাকিয়ে সেলিয়া বলেন, ‘বাইরের চেয়ে ঘরের ভেতরে বৃষ্টি পড়ে বেশি। পুরো চাল মেরামত করতে আমার ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার ইউরো খরচ হবে। আঞ্চলিক সরকারের সহযোগিতা ছাড়া আমার একার পক্ষে এটি মেরামত করা সম্ভব নয়।’ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাইয়োসার কয়েকজন মালিক রাইয়ের খড়ের বদলে টিনের চাল বসিয়েছেন। এই সমাধান কারও মনঃপূত না হলেও সাশ্রয়ী বলে তারা এই বিকল্প মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।     

উন্নয়ন থেকে দূরে

স্পেনের প্রত্যন্ত আনকারেস অঞ্চলের মানুষ কয়েক শতাব্দী ধরে যতটা সম্ভব স্বনির্ভর থাকার চেষ্টা করে গেছে। খাদ্যদ্রব্য থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তারা নিজেরাই উৎপাদন করত। বাইরের বিশ্বের ওপর তারা খুব কমই নির্ভরশীল ছিল। গত শতাব্দীর আশির দশকের আগ পর্যন্ত ওই অঞ্চলে বিদ্যুৎ, পানি বা ইট বাঁধানো রাস্তা ছিল না। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে ঘোড়ার গাড়িই ছিল একমাত্র ভরসা। ফারনান্দেজ বলেন, ‘মাঝেমধ্যেই দরকারে আমার মা-বাবাকে পার্শ্ববর্তী নাভিয়া দে সুয়ারনা গ্রামে যেতে হতো। পাহাড়ি পথ ধরে তারা ঘোড়ার গাড়িতে করে গ্রামটিতে যেতেন।’ আশির দশকের পর আনকারেস অঞ্চলে কিছুটা আধুনিকতার ছোঁয়া লাগে। তবে সরু, খাড়া ও আঁকাবাঁকা পথের তেমন একটা উন্নতি ঘটেনি। প্রতিকূল আবহাওয়ায় এই পথে চলতে গ্রামবাসী থেকে শুরু করে পর্যটকদের বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়। এ ছাড়া মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কের অবস্থাও ভালো নয়। অবশ্য আনকারেস অঞ্চলকে ঘিরে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড না হওয়ায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন ভরে উপভোগ করতে পারে লোকজন। উন্নয়নের হাত থেকে রেহাই পাওয়া প্রকৃতি এখানে সবাইকে আহ্বান জানায় পাহাড়ের কোলে সময় কাটাতে। নাগরিক জীবনের হই-হট্টগোল থেকে বহু যোজন দূরে থাকা জটিল জীববৈচিত্র্যের আধার আনকারেস অঞ্চলকে তাই ২০০৬ সালে ইউনেস্কো বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এই অঞ্চলের উচ্চতা উপত্যকায় ৮০০ মিটার, আনকারেস পাসে ১ হাজার ৬৭০ মিটার। উচ্চতার পার্থক্যের কারণে আনকারেসে এমন এক জলবায়ুর সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, শীতকালে তুষার ও গ্রীষ্মকালে মাঝারি তাপমাত্রা বিরাজ করে। তবে সম্প্রতি বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মতো আনকারেসেও আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এই অঞ্চলের মোরেনো নামের ৮০ বছর বয়সী এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমার ছোটবেলায় এখানে অনেক তুষার পড়ত। গরমও কম ছিল। এখন তুষারপাত কমে গেছে, গরম বেড়ে গেছে।’ আনকারেসে প্রকৃতি ধ্বংস করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হয়তো এখন পর্যন্ত হয়নি তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গোটা পৃথিবী যে সাম্প্রতিক সময়ে ভুগছে, সেখান থেকে মুক্ত না স্পেনের এই দূরবর্তী অঞ্চলও। 

পর্যটন শিল্প

আনকারেসের বেশির ভাগ মানুষকে সময়ের দাবি মেনে আধুনিক হতে হয়েছে। তিন বা চার প্রজন্ম যে পাইয়োসায় বড় হয়, পরবর্তী প্রজন্মকে সেগুলো পুনর্নির্মাণ করতে হয়, ভেতরের নকশা বদলে ফেলতে হয়। কেউ কেউ তাদের পূর্বপুরুষের ঐতিহ্যবাহী পাইয়োসা জাদুঘর, হোটেল বা রেস্তোরাঁয় রূপান্তরিত করে। এতে ওই অঞ্চলে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটে। গত সাত বছর ধরে বালবোয়া গ্রামে লা পাইয়োসা দে বালবোয়া রেস্তোরাঁটি পরিচালনা করছেন মিগুয়েল কাউরেল ও তার স্ত্রী প্যাত্রিসিয়া প্রিয়েতো মাউরিস। আনকারেস অঞ্চলের স্থানীয় ও ঐতিহ্যবাহী খাবার এই রেস্তোরাঁয় পাওয়া যায়। ১৯৯৪ সালে রেস্তোরাঁটি পাইয়োসার আদলে নির্মাণ করে বালবোয়া কাউন্সিল। প্রথমে এটি গান-বাজনার অডিটোরিয়াম হিসেবে ব্যবহার করা হতো। পরে এটিকে রেস্তোরাঁ করা হয়। প্রাচীন বার্চ গাছের ছায়ায় বসে প্রিয়েতো বলেন, ‘আমরা দুজনই চারপাশের প্রকৃতির প্রেমে পড়ে গেছি। এর আগে আরও কয়েক জায়গায় কাজ করেছি কিন্তু এখানে প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যের মধ্যে কাজ করে অদ্ভুত ভালোলাগার অনুভূতি কাজ করে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত