বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘অপ্রয়োজনীয়’ পরীক্ষায় রোগী দিশেহারা

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২২, ০১:০৯ এএম

‘পেটব্যথা নিয়ে মৌলভীবাজার জেলা শহরে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে এসেছিলাম। ডাক্তার সাহেব প্রেসক্রিপশনে কোনো ওষুধ না লিখেই আমাকে সাড়ে ৭ হাজার টাকার পরীক্ষা দিয়েছেন। ধান বিক্রির টাকা দিয়ে সবগুলো পরীক্ষা করে আবার নিয়ে গেলাম। কিন্তু রিপোর্ট দেখে ডাক্তার বললেন, আমার সব রিপোর্ট ভালো, কোনো সমস্যা নেই। পেটব্যথা গ্যাস্ট্রিকের কারণে হচ্ছে।’ এই অভিযোগ করেন রোগী কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার এলাকার হেলাল মিয়া। এমন অপ্রয়োজনীয় টেস্টের অভিযোগ এক দিনে অর্ধশতাধিকেরও বেশি পাওয়া গেছে কমলগঞ্জ উপজেলাসহ জেলা শহরের বেশ কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আসা রোগীদের কাছ থেকে।

কাঁধের ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসা আরেক রোগী পতনঊষারের আমিনা বেগম বলেন, ‘আমার হাই প্রেশার থাকায় মৌলভীবাজার জেলা শহরে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি আমাকে সিবিসি, আরবিসি, এস ক্রিয়েটিনিন, ইকো, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, এমআরআইসহ ১০টি পরীক্ষা দিয়েছেন। এত পরীক্ষা করাতে ৯ হাজার টাকার ওপরে খরচ হয়েছে। অথচ পরীক্ষা করানোর পর নতুন কোনো ওষুধ না লিখে ডাক্তার বললেন, আগের ওষুধই চলবে।’ পরে অন্য এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি দু-একটি পরীক্ষা ছাড়া বাকিগুলো অপ্রয়োজনীয় ছিল বলে জানান।

অনেক রোগীর অভিযোগ, বর্তমান সময়ে ডাক্তাররা রোগীর কথা চিন্তা না করে কমিশনের আসায় বেশির ভাগ অপ্রয়োজনীয় টেস্ট লিখে দিচ্ছেন। বেশির ভাগ প্রেসক্রিপশনে কমপক্ষে তিন থেকে চারটি পরীক্ষার বিষয় লেখা থাকে। এমনকি শিশুদের সর্দি, জ¦র হলেও পরীক্ষা করানোর কথা বলা হচ্ছে। নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ কমিশনের আশায় রোগীদের টেস্ট করাতে বাধ্য করছেন চিকিৎসকরা। অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষার কারণে ডাক্তার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার লাভবান হলেও রোগীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তবে বিশেষজ্ঞ চিকিসৎকরা বলছেন, অনেক রোগ আছে পরীক্ষা ছাড়াই চিকিৎসা করা যায়। চিকিৎসকদের অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষার পরামর্শ বন্ধ করতে হবে। রোগের লক্ষণ দেখে রোগীকে পরীক্ষা করাতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দুজন পরিচালকের সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, ‘আমাদের নির্দিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে চুক্তি করা আছে। তাদের সব রোগী আমাদের এখানে আসে।’

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন মৌলভীবাজারের সভাপতি ডা. মো. শাব্বির হোসেন খান গতকাল রবিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ ঠিক নয়। চিকিৎসক ছাড়া প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা বোঝার সেন্স সাংবাদিকের কী করে হলো? কোনো অভিযোগ থাকলে সেটা সরকারের বিষয়। সরকার যখন মনে করবে, তখন ভুয়া চিকিৎসক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করবে। আমাদের সংগঠন সব সময় সরকারের পক্ষেই আছে।’

 এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দীন মুর্শেদ বলেন, ‘অপ্রয়োজনী পরীক্ষা ও ভুল রিপোর্টের অভিযোগে ইতিমধ্যে আমরা একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছি। আমাদের কাছে এসব অভিযোগ এলে যথাযথ পদেক্ষপ গ্রহণ করা হয়। রোগীদের পরীক্ষার বিষয়ে চিকিৎসকদের আরও একটু সচেতন হওয়া জরুরি।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত