বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচন: ‘চাকরি হারানোর ভয়ে’ দায়িত্বরতরা

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২২, ০৬:৪৯ পিএম

গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনের উপনির্বাচনে স্থগিত হওয়া ৫১ ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম চিহ্নিত করে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষে তদন্ত শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন গঠিত তিন সদস্যের দল। গাইবান্ধায় এ তদন্ত কার্যক্রম চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।

আজ বুধবার দ্বিতীয় দিনে ৪০ ও মঙ্গলবার প্রথম দিনে ১১ ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বরত ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেয় তদন্ত কমিটি। এই নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী মোট ৬৮৫ জনের বেশি ব্যক্তির বক্তব্য নেবে কমিটি।

এ উপনির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তারা চাকরি হারানোর ভয়ে আছেন বলে জানিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর হোসেন অনিয়মে জড়িতরা চাকরি হারাতে পারেন বলে জানান। যে কারণে তাদের এ আশঙ্কা।  

বুধবার দ্বিতীয় দিন সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সম্মেলন কক্ষ ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে ৪০ প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ২৭৮ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ২০০ জন পোলিং এজেন্ট, সাঘাটা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নওগাঁ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বক্তব্য নেয়া হয়।

তবে মোট কতজনের বক্তব্য নেয়া হয়েছে তা জানা যায়নি।

মঙ্গলবার গাইবান্ধা সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে সকাল ৯টার পর শুরু হওয়া তদন্ত শেষ হয় বিকেল চারটার কিছু সময় পর। এদিন ১১ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ৬৬ সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ৫৫ পোলিং এজেন্ট, ফুলছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) ১৪৬ জনের বক্তব্য নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনে গাইবান্ধা সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে পাঁচ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মৌখিক বক্তব্য এবং ১৭ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি ও র‌্যাবের কমান্ডিং কর্মকর্তা, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের লিখিত বক্তব্য নেয়া হবে।

বুধবার তদন্ত শেষে বেরিয়ে আসার পর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জানান, আমরা ভোটের দিনের প্রকৃত চিত্র তাদের সামনে তুলে ধরেছি। কোন কোন কেন্দ্রে সুষ্ঠু আবার কোথাও প্রভাব কাটানোর কথা বলেছি তাদের। বহিরাগতদের সরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতা নেয়ার কথাও জানিয়েছি।

তবে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর হোসেন বলেছেন, ভোটে অনিয়ম হওয়ায় চাকরি হারাতে পারেন অনেকে। তার ওই বক্তব্যের পর স্থগিত হওয়া ৫১ ভোটকেন্দ্রের দায়িত্ব পালনকারী অনেকে চাকরি হারানোর শঙ্কায় আছেন বলে জানিয়েছেন কয়েকজন।

গাইবান্ধা-৫ আসনের সাংসদ ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া গত ২৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এই আসনে গত বুধবার উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে দুপুরে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ছাড়া বাকি চারজন ভোট বর্জন করেন। ভোটগ্রহণের দিন ঢাকায় নির্বাচন কমিশন ভবন থেকে সিসি ক্যামেরায় বিভিন্ন অনিয়ম দেখে কয়েক দফায় ৫১ কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।

এদিন সিসি ক্যামেরায় অনিয়ম দেখে দুপুর আড়াইটার পর পুরো উপনির্বাচন বন্ধ ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। এর পরপরই স্থগিত করা কেন্দ্রগুলো বাদে বাকি কেন্দ্রগুলোর ফলাফল ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। পরদিন বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল উপনির্বাচনে স্থগিত হওয়া ৫১ ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম চিহ্নিত করে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথকে আহ্বায়ক এবং যুগ্ম সচিব মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরীকে সদস্যসচিব ও মো. কামাল উদ্দিন বিশ্বাসকে সদস্য করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বুধবার বিকেলে সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে কার্যক্রম আছে। সেখানে স্থগিত ঘোষিত কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের আমরা ডেকেছি। আমরা তাদের বক্তব্য নেব। তদন্তে বক্তব্য নেওয়ার জন্য মোট ৬৮৫ জনকে নোটিশ করা হয়েছে। তবে এ সংখ্যা বাড়ছে।

সিসিটিভি ক্যামেরায় ফুটেজ দেখিয়ে যেসব কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে আপনারা জানতে চেয়েছিলেন তারা কী বলেছেন বা দুই দিনের তদন্তে কী পেয়েছেন- এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা যাবে না। আমরা সাত কার্যদিবসের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনের কাছে দাখিল করব।

উপনির্বাচনে অনিয়মের অভিযুক্ত বহিরাগত ও টি-শার্ট পরিহিতদের বিষয়েও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

তদন্ত চলাকালীন ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এমন অভিযোগ বিষয়ে অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, কাউকে ভয়ভীতি দেখানোর প্রশ্নই ওঠে না। কাউকে কোনো ধরনের প্রেসারাইজ করা হয়নি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত