বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বছরভর নিয়োগ ভরপুর ঘুষ

৮৯ দিনের চাকরির দাম ৬ লাখ টাকা

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২২, ১০:৫১ এএম

জিএম কাদের তখন বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশ বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছে চিঠি লিখে জানতে চেয়েছিলেন, পাইলটদের মধ্যে কে কার নিকটাত্মীয়।

এই চিঠির একটা নেপথ্য কাহিনী আছে। বিমানে আত্মীয় ছাড়া কারও চাকরি হয় না। এটাই যেন রীতি। যারা কর্মরত শুধু তাদের নিকটাত্মীয়রাই চাকরি পান। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বা পরীক্ষা এসব আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। একটি গোয়েন্দা সংস্থা বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে পাইলটদের কে কার আত্মীয় সেই বিষয়ে অবহিত করেছিল।

গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের সত্যতা যাচাই করার জন্যই জিএম কাদের এমডির কাছে চিঠি লিখেছিলেন। আত্মীয়তার বহর দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন। পাইলটদের প্রায় সবাই একে অন্যের নিকটাত্মীয় হওয়ায় তিনি কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার দিকে পা বাড়ানোর ‘সাহস’ পাননি।

এ ঘটনা বর্ণনা করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মধ্যমসারির এক কর্মকর্তা বলেন, এতেই বোঝা যায় বিমানের নিয়োগ-প্রক্রিয়া আসলে শুভঙ্করের ফাঁকি। সংস্থাটিতে বছরব্যাপী নিয়োগ লেগেই থাকে। আর এ প্রক্রিয়ার আড়ালে চলে অবাধে ‘ঘুষ লেনদেন’।

বিমানের রিক্রুটমেন্ট ও স্টাফিং শাখার এক কর্মকর্তা জানান, দুভাবে বিমানে চাকরি হয় আত্মীয়তা আর অনাত্মীয়তা। শেষ ক্যাটাগরিতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে চাকরি দেওয়া হয়। আত্মীয় হলেও টাকা দিতে হয়। কারণ প্রত্যেকটা পদের নির্দিষ্ট রেট বা দর আছে। রেটের টাকা আনুপাতিক হারে সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে যায়। আর অনাত্মীয়দের ক্ষেত্রে উত্তরপত্রে জালিয়াতিসহ নানা কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে নিয়োগ দিতে গিয়েই ধরা পড়েছেন বিমানের পাঁচ কর্মকর্তা। গত ২১ অক্টোবর বিমানে লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে। ওইদিনই রাজধানীর উত্তরার দুটি স্কুলে ১০টি পদে লিখিত পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে তা বাতিল করা হয়।

বিমানের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বিমানের ওয়েবসাইটে এবং খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়ে জনবল নিয়োগ করা হয়। তবে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে বা কম গুরুত্বপূর্ণ পদে যাদের নিয়োগ করা হয়, তাদের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে বাছাই করা হয়। সংখ্যায় বেশি হলে বা গুরুত্বপূর্ণ পদ হলে খবরের কাগজে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।’ বিমানের ওয়েবসাইটে গত ১৮ অক্টোবর প্রকাশ করা হয় গ্রাউন্ড সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি। ২৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয় চুক্তিভিত্তিক নিরাপত্তা সহকারী ও ক্যাজুয়ালভিত্তিক (নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক) নিরাপত্তারক্ষী পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি। ১০০ ফ্লাইট স্টুয়ার্ডেস পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় গত ১৮ সেপ্টেম্বর। ১২ জন ক্যাপ্টেন এবং ৬ জন ফার্স্ট অফিসার পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় গত ১ সেপ্টেম্বর। ওই মাসেই প্রকাশ করা হয় নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কলকাতার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানের সিকিউরিটি কো-অর্ডিনেটর পদের বিজ্ঞপ্তি। প্রতি মাসেই এক বা একাধিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বছরজুড়েই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালাতে থাকে বিমান।

সংস্থাটির সবচেয়ে বিতর্কিত পদ্ধতি হচ্ছে ৮৯ দিনের ক্যাজুয়ালভিত্তিক কর্মচারী নিয়োগ। ৯০ দিন হলেই কর্মীদের স্থায়ী নিয়োগ দিতে হয়। সেটা এড়াতেই ৮৯ দিনের নিয়োগ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে বিমানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। ৬ লাখ টাকা দিয়ে এ নিয়োগ পাওয়ার কথা প্রকাশ্যেই বলতে শোনা যায় বিমানকর্মীদের। ৮৯ দিন শেষ হলে তাদের আবার ৮৯ দিনের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এভাবে বছরের পর বছর পার করে দেন এ শ্রেণির কর্মীরা।

সম্প্রতি টেনে হ্যাঙ্গারে ঢোকানোর সময় একটি বিমান (এয়ারক্রাফট) আরেকটি বিমানের ওপর আছড়ে পড়ে। এ ঘটনায় ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয় শুপ্রহ মল্লিককে। তিনি বিমানের স্থায়ী কর্মী নন; দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে বিমান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেন। শুপ্রহ বিমানে যোগ দিয়েছেন ২০১৮ সালের ৬ জুন। তিনি ছিলেন বিমানের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্টের অধীনে। সেখান থেকে তাকে উড়োজাহাজের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, শুপ্রহ মল্লিকও মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ক্লিনারের চাকরি নিয়েছেন। তার বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

৮৯ দিনের ক্যাজুয়াল ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়ে অনেক কর্মীকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। সিবিএ এবং বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা তাদের মিটিং-মিছিলে ব্যবহার করেন। কর্মীরাও সংগঠনের নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে চাকরি পাকা করার জন্য এসব কাজে অংশ নিয়ে থাকেন।

শুধু ক্যাজুয়ালভিত্তিক কর্মীই নয়, বিমানে সব পদের নিয়োগেই অনিয়ম রয়েছে। বিমানের একজন সাবেক চেয়ারম্যান নিজের ছেলেকে পাইলট বানানোর জন্য নীতিমালাই বদলে ফেলেছিলেন। নিজের ভাতিজাকে চাকরি দিয়েছিলেন আরেক সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক। পরে এসব নিয়োগ বাতিল করতে বাধ্য হয় বিমান।

বিমানের চুক্তিভিত্তিক সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার (স্ট্রাকচার/এয়ারফ্রেম/প্রপেলার), ইঞ্জিনিয়ার অফিসার (কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স; অ্যারোস্পেস), প্ল্যানিং ইঞ্জিনিয়ার (অ্যারোস্পেস), সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশিক্ষণ; এয়ারফ্রেম/স্ট্রাকচার/ইঞ্জিন) ও সহকারী ব্যবস্থাপক (করপোরেট সেইফটি, ফ্লাইট ডেটা মনিটরিং) পদে গত ১৯ অক্টোবর ১৬ জনকে নিয়োগ দেয় বিমান। এসব পদের বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, খাতা দেখা, ভাইভা সবই নিয়েছে বিমানের প্রকৌশল শাখা। ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগে প্রকৌশল শাখার লোকদের নিকটাত্মীয় ছাড়া আর কারও পক্ষে নিয়োগ পাওয়া সম্ভব নয়।

বিমানে কর্মী থাকার কথা ৩ হাজার ৪০০। করপোরেশন থেকে কোম্পানি করার সময় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ শর্ত দিয়েছিল। কিন্তু বিমান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের শর্ত উপেক্ষা করে কর্মিবহর ছয় হাজারে উন্নীত করেছে। এ কর্মীরা চুক্তিভিত্তিক, অস্থায়ী এবং স্থায়ী ক্যাটাগরির কর্মী। এসবের বাইরে ৮৯ দিনের ক্যাজুয়ালভিত্তিক কর্মী রয়েছে। মাত্র ২১টা উড়োজাহাজের জন্য এ বিশাল কর্মিবহরের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে খোদ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় অনেকবার প্রশ্ন তুলেছে। বিমান ব্যবস্থাপনা তাতে কান না দিয়ে জনবল সংকটের রেকর্ডার ক্রমাগত বাজিয়ে চলছে।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কেবিনেটের সিদ্ধান্তকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কর্মী নিয়োগ পরিকল্পনামাফিক হওয়া উচিত। স্বজনপ্রীতি নয়, দক্ষ কর্মী নিয়োগ করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত।’

বিমানের জনবল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুধু নিয়োগ নয়, প্রশাসনিকভাবেও ঝামেলায় রয়েছে বিমান। গত জুন পর্যন্ত বিমানের কাছে শুধু সিভিল এভিয়েশন অথরিটির পাওনা ৮ হাজার ৮০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। পাওনা পরিশোধ করতে না পারায় বিমানের এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেট নবায়ন করেনি অথরিটি। মুচলেকা দিয়ে সেই সার্টিফিকেট পেলেও মুচলেকার শর্ত মানছে না সংস্থাটি। এ অবস্থায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা সামনে এসেছে। বছরব্যাপী নিয়োগে সবসময় অনিয়ম ছিল এবং আছে। তবে নিয়োগ নিয়ে এই প্রথম চাপের মধ্যে পড়েছে সংশ্লিষ্টরা। কারণ একটি গোয়েন্দা সংস্থা বিমানের পাঁচ কর্মীকে রিমান্ডে নিয়েছে। যাদের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে তারা সবাই জুনিয়র কর্মী। তারা রিমান্ডে কী বলতে কী বলে তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা বিমানে।’

তিনি বলেন, ‘নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলে দেখা যাবে বিমানের পুরো রিক্রুটমেন্টেই সমস্যা। মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তা কর্মী নিয়োগে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করেন; বিমান নিজেও এ অভিযোগের বাইরে নয়। সংস্থাটির যারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে “লাইন মেইনটেন” করেন তারাও মন্ত্রণালয়ের রেফারেন্সে চাপ সৃষ্টি করেন। এদের সঙ্গে যোগ রেখে বিমানের সংশ্লিষ্ট কর্মীরাও নিয়োগবাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ে।’

২১ অক্টোবর লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বিমান ওইদিনই দায়সারা গোছের একটি তদন্ত কমিটি করে। দুই সদস্যের ওই কমিটির প্রধান পরিচালক (অর্থ) আর সদস্য সচিব মহাব্যবস্থাপক (করপোরেট সেইফটি অ্যান্ড কোয়ালিটি সিএসকিউ)। কমিটিকে তদন্ত করতে বলা হলেও কতদিনে তা করতে হবে তার কোনো উল্লেখ নেই।

তদন্ত কমিটির গঠন প্রক্রিয়ায় ইচ্ছা করেই ফাঁক রাখা হয়েছে জানিয়ে এক বিমানকর্মী বলেন, ‘একটি গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টির সার্বিক তদন্ত করছে। ওই সংস্থার তদন্ত কোন দিকে যায় তা দেখে বিমানের তদন্ত কমিটি রিপোর্ট সাবমিট করবে। এ কারণেই বিমানের তদন্ত কমিটির নোটিসে রিপোর্ট করার তারিখ উল্লেখ করা হয়নি বলে মনে হচ্ছে।’

তদন্ত কমিটির নোটিসে কতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে তা নেই কেন জানতে চাইলে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও মো. যাহিদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কমিটি কাজ শুরু করেছে। শিগগির প্রতিবেদন জমা দিয়ে দেবে।’

বিমানে যারা প্রশ্ন করেন তারাই খাতা দেখেন, তারাই নিয়োগ দেন। নিরপেক্ষ কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। তা ছাড়া জনবল ৩ হাজার ৪০০ জনে সীমাবদ্ধ রাখার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এ ব্যাপারে এমডি বলেন, ‘নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তৃতীয়পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করতে চাইলেও সরকারের পলিসি তা সাপোর্ট করছে না। সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যেই নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে কর্মীসংখ্যা ছয় হাজার।’

বছরব্যাপী নিয়োগের বিষয়ে এমডি বলেন, ‘নিয়োগ প্রক্রিয়াটা অত্যন্ত কমপ্লেক্স। রিটেন, ভাইভা, ফিল্ড টেস্ট প্রক্রিয়াগত কারণে এসবে সময় বেশি লাগে। দুজন নিয়োগ করতেও মিনিমাম ছয় মাস সময় লাগে।’

জিএম কাদের ২০০৯-১৩ সময়ে মহাজোট সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। তিনি ২০১০ সালের ২ জুন নিয়োগপ্রাপ্ত পাইলটদের মধ্যে আত্মীয়তা রয়েছে কি না তা জানতে চান। থাকলে কে কে কার আত্মীয় তা জরুরি ভিত্তিতে জানানোর নির্দেশও দেন। মন্ত্রীর এ নির্দেশনার পর বিমান ক্যাডেট-পাইলটদের একজনের সঙ্গে আরেকজনের সম্পর্কের তথ্য ছক আকারে মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পাইলটদের আত্মীয়তার তথ্যও পাঠানো হয়।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে জিএম কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এতদিন পর এ বিষয়ে কথা বলতে চাননি। তবে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বিমানে আত্মীয়তার সম্পর্কের বাইরে কারা চাকরি করছেন তার তালিকা করতে গেলে প্রায় সবাই বাদ পড়বেন। লোম বাছতে কম্বল উজাড় হয়ে যাবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত