বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

নিলামের গাছ কাটা হচ্ছে দ্বিগুণ

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২২, ০২:৫৬ এএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পারকি সমুদ্রসৈকতে বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপড়েপড়া ১৫৫টি ঝাউগাছ নিলামে বিক্রি করেছে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগ। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার শর্ত ভঙ্গ করে সংশ্লিষ্ট বনকর্মীর যোগসাজশে নিলামের দ্বিগুণ গাছ কেটে নিচ্ছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে গত দুই বছরে পারকি সমুদ্রসৈকতের অন্তত পাঁচ শতাধিক ঝাউগাছ উপড়ে পড়ে। দীর্ঘদিন উপড়ে পড়া গাছগুলো অরক্ষিত অবস্থায় সৈকতজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে ছিল। অনেক গাছ সংশ্লিষ্ট বনকর্মীকে ম্যানেজ করে স্থানীয় লোকজন কেটে নিয়েছে। তাছাড়া সৈকতে লুটিয়ে পড়া গাছগুলোর কারণে সবল গাছগুলোর গোড়ালি থেকে বালু সরে দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। ঝড়েপড়া এসব গাছ কর্তন ও অপসারণের জন্য গত ২৮ আগস্ট দরপত্র আহ্বান করে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগ।

কার্যাদেশে, মোট ৬টি লটে ১৫৫টি গাছ বিক্রি করা হয় উৎসে কর ও ভ্যাটসহ ১ লাখ ৮২ হাজার ৭১৩ টাকায়। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নিলামটি পায় মেসার্স সেজুতি এন্টারপ্রাইজ নামের আনোয়ারা উপজেলার একটি প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান স্বাক্ষরিত কার্যাদেশটি দেওয়া হয় গত ২৫ অক্টোবর। কার্যাদেশে উল্লিখিত আট শর্তের একটি হচ্ছে লট এলাকায় মার্কাকৃত গাছ ছাড়া অন্য কোনো গাছ কাটা যাবে না। কিন্তু কার্যাদেশের শর্ত ভঙ্গ করে সংশ্লিষ্ট বনকর্মীর যোগসাজশে নিলামের চেয়েও অতিরিক্ত গাছ কাটছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে উপকূলীয় বন বিভাগ বলছে, ১৫৫টি গাছ কাটার পর বাকি গাছগুলো নতুন করে নিলাম দেওয়া হবে।

উপকূলীয় বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পারকি সৈকতের বালিয়াড়িতে প্রথম ১৯৯২-৯৩ অর্থবছরে ১২ হেক্টর জায়গায় ঝাউবন গড়ে তোলা হয়। এরপর ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে ১৭ দশমিক ২ হেক্টর, ২০০৩-০৪ অর্থবছরে ৫ হেক্টর ও ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ৫ হেক্টর জায়গায় ঝাউবাগান করা হয়। চারবারে বালিয়াড়ির মোট ৩৯ দশমিক ২ হেক্টর বা ৯৭ একর জায়গায় লাগানো হয় ঝাউগাছ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, পারকি সৈকতে এক সময় লক্ষাধিক ঝাউগাছ ছিল। বিভিন্ন সময় সাগরের ঢেউয়ের আঘাতে উপড়ে পড়েছে হাজার হাজার গাছ। উপকূলীয় বন বিভাগ এ গাছগুলো বিভিন্নভাবে বিক্রি করে দিয়েছে। নিলাম ছাড়াও সারা বছর চলে গাছ বিক্রি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পারকি সমুদ্রসৈকতে উপড়েপড়া দুই শতাধিক গাছ কাটা হয়েছে। আরও বেশ কয়েকটি গাছের গোড়ায় করাত ও কুড়াল চালানো হচ্ছে। গাছগুলো কেটে সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বন বিভাগের দুজন প্রতিনিধিও তাদের সঙ্গে ছিলেন।

মেসার্স সেজুতি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. শাহজাহান বলেন, নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ১৫৫টি গাছ কাটার অনুমোদন পাই। নিলামের বাইরে আমি গাছ কাটছি না।

এ সময় দায়িত্বে থাকা বনকর্মী আবু তৈয়ব জানান, এখানে শুধু ১৫৫টি গাছের টেন্ডার হয়েছে। এ গাছগুলোই কাটা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপকূলীয় বন বিভাগের বন্দর বিট কর্মকর্তা মো. আলমগীর কবির বলেন, পারকি সৈকতে বিভিন্ন সময় জোয়ারের আঘাতে উপড়েপড়া ১৫৫টি গাছ নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। শুধু এ গাছগুলো কাটা হচ্ছে। এর বাইরে অতিরিক্ত গাছ কাটার সুযোগ নেই। বাকি গাছগুলো পরে আবার নিলামে দেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত