বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সিউল ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে ফেরা বাংলাদেশি

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২২, ০২:৫৬ এএম

ভুতুড়ে আর বিচিত্র সাজপোশাকে বিশ্বজুড়ে পালিত হয় হ্যালোইন উৎসব। মহামারীর বিধিনিষেধ কাটিয়ে দীর্ঘদিন পর হ্যালোইন উৎসবে মেতে উঠেছিল দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের লাখো মানুষ। বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে দিগি¦দিক ছুটতে থাকা তরুণ-তরুণীদের আনন্দের জোয়ার পৌঁছে যায় ইতেওন গলিতে, সেখানে হঠাৎ পাল্টে যায় পরিস্থিতি। সংকীর্ণ গলিতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ একসঙ্গে ঢুকে পড়ায় দম বন্ধ হওয়ার জোগাড় হয়, ভিড়ের মধ্যে সামনে-পেছনে দুই দিকের চাপে পদদলিত হয়ে একে একে সড়কে পড়তে থাকে নিথর দেহ। পশ্চিমা ভূত উৎসবের সেই সত্যিকারের বীভৎস রাতে ঘটনাস্থল থেকে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন এক বাংলাদেশি তরুণ। বেঁচে ফেরা এই সৌভাগ্যবান বাংলাদেশির নাম ম্যাক্সিম চৌধুরী, যিনি বেঁচে ফেরার কথা জানিয়েছেন বিবিসি বাংলার সাক্ষাৎকারে।

ম্যাক্সিম জানান, সিউলের ইতেওন গলিটি তারও খুব প্রিয়। শনিবার ছিল তার ছুটি। হ্যালোইনের উৎসব দেখতে তারা ৪-৫ বন্ধু মিলে সেখানে যান। গিয়ে দেখেন সেখানে হাজার হাজার মানুষের ঢল নেমেছে।

ঘটনার বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘গলিটা একদম সংকীর্ণ, নিঃশ্বাস ফেলার মতো জায়গা ছিল না। এরপর আবার আরেকটা গলি। মানুষের ভিড়ের মধ্যে ডানে-বামে কেটে আমরা সামনে যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু একটা পর্যায়ে স্রোতটা আটকে গেল। কারণ সামনের গলিতে ছিল একটা নাইট ক্লাব। এই ক্লাবে ঢোকার জন্য সব সময় একটা দীর্ঘ লাইন থাকে। সেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ, আবার এদিক থেকে যাওয়া মানুষের স্রোত সব মিলিয়ে একটা জট তৈরি হলো। আর এই জায়গাটা ছিল একটু ঢালু, নিচের দিকে নেমে গেছে। ভিড়ের চাপে যখন কেউ একজন পড়ে যাচ্ছিল, তাকে আর তোলা যাচ্ছিল না।’

প্রাণে বেঁচে যাওয়ার কারণ ম্যাক্সিমরা সেই গলিটার দিকেই যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু মানুষের স্রোত যখন আটকে গেল তখন তারা আর সেই গলিতে নামেননি। নামলে হয়তো আর জীবিত ফেরা হতো না তাদের।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত