বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

এমবাপ্পে আছেন নিজের মতোই

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১১:৫১ পিএম

শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরুর ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দেওয়ার পর সোজা লকার রুমে ঢুকে গেলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফ্রান্সের অন্যরা কথা বললেও মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের পাত্তাই দিলেন না। তখনই ফ্রান্স দল ও এমবাপ্পেকে সতর্ক করে দিয়েছিল ফিফা। এমবাপ্পে ঠিক একই কাজটা করলেন পরের ম্যাচেও। শনিবার জোড়া গোল করে ডেনমার্ককে হারানোর পরও মুখ কুলুপ এঁটে রাখলেন তিনি। তাতে এমবাপ্পে ও তার দলের যে বড় জরিমানা গুনতে হবে, এটা নিশ্চিত। অবশ্য তাতে কিইবা এসে যায় এমবাপ্পের। মেসি, রোনালদো, নেইমারদের তারকাখ্যাতি এখনো ছাড়িয়ে যেতে পারেননি। তবে সাফল্য লুটোপুটি খেলেও তিন তারার শোকেসে নেই মর্যাদার বিশ্বকাপ শিরোপা। যেটা মাত্র ১৯ বছর বয়সে জিতেছিলেন এমবাপ্পে। মেসি-রোনালদো পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলে যেখানে গোল করেছেন ৮টি, সেখানে দ্বিতীয় বিশ্বকাপেই এমবাপ্পে ছুঁয়েছেন ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের সাত গোলের রেকর্ড। ফর্মটা যখন তুঙ্গে, তখন ফিফার চোখ রাঙানিতে ভয় পেতে বয়েই গেছে। বরং এমবাপ্পে আছেন নিজের মতোই। মরুর বিশ্বকাপে একেবারেই বুঝতে দিচ্ছেন না ব্যালন ডি’অর জয়ী করিম বেনজেমার অনুপস্থিতি।

বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তের চোট ছিটকে ফেলেছিল দারুণ ছন্দে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ তারকাকে। তাতে বিশ্বকাপ ধরে রাখার স্বপ্নে বড় আঘাত আসে ফ্রান্সের। কোচ দিদিয়ের দেশমও চিন্তায় পড়ে যান আক্রমণভাগের শক্তি কমে যাওয়ায়। আগেই চোট ছিটকে ফেলেছিল ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখা দুই মিডফিল্ডার পল পগবা ও এনধগোলো কন্তেকে। মাঝমাঠের দুই অপরিহার্য তারকার না থাকা আর দল ঘোষণার আগ মুহূর্তে বেনজেমার চোট ফ্রান্সের তৃতীয় শিরোপা সম্ভাবনাটা প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছিল। অথচ সেই ফ্রান্সই কিনা সবার আগে পৌঁছে গেছে শেষ ষোলোতে। এমবাপ্পের মতো জেদি, খেয়ালি এবং ভীষণ প্রতিভাবান ফরোয়ার্ড আছেন বলেই ফরাসিদের সবাই দুশ্চিন্তা কর্পুরের মতো উড়ে গেছে। প্রথম দু’ম্যাচেই দুর্ধর্ষ রূপে আবির্ভূত হয়েছেন এমবাপ্পে।

শেষ বিশ্বকাপ খেলতে আসা মেসিতে এবারও বুঁদ হয়ে আছে ফুটবলবিশ্ব। পর্তুগালের আশার প্রতীক রোনালদো জ্বলতে শুরু করেছেন প্রথম ম্যাচ থেকেই। তবে দুই মহাতারকাই শেষ বিশ্বকাপ খেলার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রথম ম্যাচে চোটে পড়া ব্রাজিল তারকা নেইমারের জন্যও হতে পারে এটাই শেষ। তিনজনই মরিয়া  শিরোপা জিতে শেষটা টানতে। আর ২৩ বছরের এমবাপ্পে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপায় চুমু খাওয়ার স্বপ্ন। মাঠের কাজটা ঠিকঠাক করতেই সচেতনভাবে বাইরের সব আলোচনাকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন আলোচনার খোড়াকি জোগানো এমবাপ্পে। শাস্তি যা হয় হোক, বিশ্বকাপ জেতাটাই মুখ্য। অনেক জায়গাতেই যে মেসি-রোনালদো-নেইমারকে ছাড়িয়ে যাবেন এমবাপ্পে, তা এখনই বলে দেওয়া যায়। বিশ্বকাপে খেলেছেন মাত্র ৯ ম্যাচ। তাতেই গোল সংখ্যাটা নেইমারকে ছাড়িয়ে মেসি-রোনালদো ছুঁইছুঁই। এই বিশ্বকাপটা এমবাপ্পে যেন শুরু করেছেন ঠিক চার বছর আগের ফাইনাল থেকে। তাই তো কোচ দিদিয়ের দেশম প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন প্রিয় শিষ্যকে, ‘কিলিয়ান একেবারেই আলাদা ধাতে গড়া। যখন প্রতিপক্ষ তাকে থামানোর চেষ্টা করে, তখনই সে ভয়ংকর রূপে আবির্ভূত হয়ে ব্যবধানটা বুঝিয়ে দেয়। তার বড় সুবিধার দিক হলো, ওকে ঘিরে যারা খেলছে, তারাও প্রত্যেকে ভীষণ প্রতিভাবান। তাই সে পারছে মুক্ত মনে খেলতে।’ ডেনমার্কের বিপক্ষে জোড়া গোলে এমবাপ্পে ছুঁয়েছেন ফ্রান্সকে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জেতানো জিনেদিন জিদানের ৩১ গোলের রেকর্ডকে। পিএসজির হয়ে এই মৌসুমে ১৩ ম্যাচে ১৪ গোল করা এমবাপ্পে আর কী কী কীর্তি নিজের করে নেবেন তা সময়ই বলে দেবে। দেশম চান, এমবাপ্পে খেলুক ঠিক নিজের মতো করেই। তাই তো তাকে ঘাঁটাতে চান না। বরং চাঙ্গা রাখতে এমবাপ্পেকে দিয়েছেন পূর্ণ স্বাধীনতা।

শুধু এমবাপ্পে নন, বেনজেমার শূন্যতা পূরণে জ্বলে উঠেছেন ফরাসি পুরো আক্রমণভাগ। অলিভিয়ের জিরু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পেয়েছেন ক্যারিয়ারে ৫১তম গোল। ফরাসি কিংবদন্তি থিয়ের অঁরির নীল জার্সিতে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন তিনি। এছাড়া আন্তোইন গ্রিজম্যান, মার্কাস থুরাম, উসমান দেম্বেলে, কিংসলে কোমানদের নিয়ে আবারও ফরাসিদের সেরার আসনে বসানোর স্বপ্ন ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্সের অধিনায়ক দেশম। পগবা আর এনগোলো নেই বলে আতলেতিকো মাদ্রিদ তারকা গ্রিজম্যানকে তিনি খেলাচ্ছেন মাঝমাঠে। আক্রমণ রচনায়ও তিনি দেখাচ্ছেন মুন্সিয়ানা। দেশমের বাহবা পাচ্ছেন গ্রিজম্যানও, ‘এবার তাকে আমি একটু অন্যভাবে চেয়েছিলাম। এবং সে আমার চাওয়া মতোই খেলছে। ও আসলে সত্যিকারের একজন টিম প্লেয়ার। ও খুব ভালো ফিনিশারও। তবে আমার কাছে ও অনেক ভালো বলের জোড়ানদাতা, যা দলকে অনেক বেশি সহায়তা করছে।’

ডেনিশ ডিফেন্ডার জোয়াকিম এন্ডারসেন হেরে যাওয়া ম্যাচ শেষে রীতিমতো ভক্ত বনে গেছেন এমবাপ্পের ‘সে ভীষণ নিখুঁত একজন স্ট্রাইকার। সে ম্যাচে ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। ওর খেলা দারুণ উপভোগ্য।’ এন্ডারসেনের মতো ভক্তের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে ফরাসি রাজপুত্রের। বেনজেমাকে আড়াল করে তিনি হয়ে গেছেন ফরাসিদের স্বপ্নের ধারক।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত