মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘ফায়ার ফাইটার’ গড়ে দিলেন ব্যবধান

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০১:৫৯ এএম

ব্রাজিল দলে কাসেমিরোকে বলা হয় ফায়ার ফাইটার। এমন নয় যে, কখনো ফায়ার সার্ভিসে কাজ করতেন এই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার। কাসেমিরোকে সতীর্থরা এ নামে ডাকেন কারণ জরুরি মুহূর্তে তাকেই এগিয়ে আসতে হয়! নামটা রিয়াল মাদ্রিদে থাকার সময়ে কোচ কার্লো আনচেলত্তির দেওয়া। ফিলিপে লুইস আবার তাকে ডাকেন ‘ভ্যাকুয়াম ক্লিনার’, মাঠের সব ‘জঞ্জাল’ সরানোই নাকি কাসেমিরোর কাজ! তবে কাল সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কাসেমিরো ফায়ার ফাইটারের ভূমিকায়। গোল যখন অধরা, এমন জরুরি মুহূর্তেই কাসেমিরোর গোলে সুইসদের প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।

নেইমার নেই, এই হাহাকার সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই। কে খেলবেন নেইমারের জায়গায়, এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা। নেইমারকে ছাড়াও যে ম্যাচ জেতা যায়, কাসেমিরো সেই দৃষ্টান্তই দেখালেন। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কাসেমিরোর গোলটা মনে করিয়ে দেয় রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ২০১৭-এর চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে জুভেন্তাসের বিপক্ষে গোলটাকে। স্টেডিয়াম ৯৭৪-এ, নির্ধারিত সময়ের যখন আর মাত্র মিনিট সাতেক বাকি, তখন দূরপাল্লার শটে কাসেমিরোর গোলেই তো হলুদ ঢেউ উঠল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ছোট্ট পাস থেকেই কাসেমিরোর শটে ব্রাজিল পেল আরাধ্য গোলের দেখা, ম্যাচের ৮৩ মিনিটে।

ম্যাচের পর কাসেমিরো জানালেন নিজের অনুভূতির কথা, ‘বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই জানতাম, গ্রুপটা হবে কঠিন। আমাদের গ্রুপটা খুব কঠিন। সার্বিয়া জানে কীভাবে খেলতে হয়, কীভাবে খেলা তৈরি করতে হয়। আজও (সোমবার) আমরা জানতাম খুব কঠিন হবে ম্যাচটা। প্রথম কঠিন কাজটা হচ্ছে পরের রাউন্ডে জায়গা করে নেওয়া। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ভালোভাবেই লড়েছি, অনেক কিছু সয়েছি। ওরা জানে যে ওদের ফুটবল খুব একঘেয়ে। এ ম্যাচটা ছিল খুবই টানটান, আমরা জানতাম যে আমাদের পায়ে বল এলে গোল করতেই হবে এবং ঈশ্বরের দয়ায় আমরা সেটা করতে পেরেছি’Ñ ব্রাজিলের স্পোর্টটিভিকে জানিয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে আসা এ মিডফিল্ডার।

আগে ক্রসবারে বল লাগিয়েছিলেন কাসেমিরো, এবার পেলেন গোলের দেখা। কাসেমিরো বলছেন, ‘প্রথমে ক্রসবারে বল লেগেছিল, আজকে আমি সুযোগ পেয়েছি এবং গোল করে দলকে সাহায্য করতে পেরেছি। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ নির্ভার হয়ে তিনি বললেন, ‘এখন আমাদের কাজ হবে বিশ্রাম নেওয়া এবং পরের ম্যাচের জন্য চিন্তা করা।’

ম্যাচের পর রদ্রিগোও বলেছেন, ‘আমি খুবই খুশি, যা করতে চেয়েছিলাম তা করতে পেরেছি। আমি খেলতে পেরেছি। কাসেমিরো জানে কী করতে হবে। সে নাম্বার ফাইভ, নাম্বার নাইন এবং নাম্বার ইলেভেনÑ সব পজিশনেই খেলতে পারে! আমরা রিয়াল মাদ্রিদে একসঙ্গে অনেক দিন খেলেছি। তাই আমরা একে অন্যের নড়াচড়া দেখেই বুঝতে পারি কী হতে যাচ্ছে।’

এ নিয়ে পরপর দুই ম্যাচে দুটো ইউরোপিয়ান দলকে হারাল ব্রাজিল। আর দুই ম্যাচেই ব্রাজিলের গোলপোস্টে প্রতিপক্ষ কোনো শটই নিতে পারেনি। ১৯৬৬ সালের পর থেকে, ১৯৯৮ বিশ্বকাপের ফ্রান্স দল বাদে অন্য কোনো দলের রক্ষণ এতটা জমাট ছিল না।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত