মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

এক পৌরসভার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল ১৮ কোটি!

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৩৪ এএম

১৮ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় দিনাজপুর পৌরসভার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান নেসকো। গত প্রায় ১৫ বছর ধরে এক টাকাও বিল পরিশোধ করেনি প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভা। মঙ্গলবার বিকাল থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় জন্মনিবন্ধনসহ পৌরসভার সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সেবা নিতে এসে ঘুরে যাচ্ছেন জনগণ। অপরদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় করোনার ভ্যাকসিনসহ বিভিন্ন ভ্যাকসিন নষ্টের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নের আগে পৌর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়নি বলে দাবি করেছেন  পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মিনারুল ইসলাম খান। তবে বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। প্যানেল মেয়র আবু তৈয়ব আলম দুলাল জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার সরেজমিনে পৌরসভায় গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে আছে দিনাজপুর পৌরসভা। শুধুমাত্র কর্মকর্তাদের রুমের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একটি জেনারেটর ব্যবহার করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় জন্মসনদসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কেউ রুমে অথবা কেউ বাইরে বসে অলস সময় পার করছেন কর্মচারীরা। সকাল থেকে শত শত জনগণ  পৌরসভায় এসে সেবা না পেয়ে ঘুরে যাচ্ছেন।

পৌরসভার ইপিআই সুপারভাইজার মোমরেস সুলতানা বলেন, ‘গতকাল থেকে বিদ্যুৎ নেই। করোনার ভ্যাকসিন ও শূন্য থেকে ১১ মাস বয়সী বাচ্চাদের  দেওয়ার জন্য টিকা রয়েছে। আগামীকাল (আজ) করোনার ভ্যাকসিন প্রদানের প্রোগ্রাম আছে। আমাদের এখানে ২টি ডিপ ও ২টি সাধারণ ফ্রিজ রয়েছে। ফ্রিজগুলোতে টিকাগুলো সংরক্ষিত রয়েছে। এখানে করোনার ভ্যাকসিন ৪ হাজার টিকা রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ভ্যাকসিন কয়েক হাজার টিকা রয়েছে। কিন্তু গতকাল থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজগুলো বন্ধ হয়ে আছে। এখন আল্লাহর ওপর ভরসা।’

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নের ব্যাপারে পৌর মেয়রের ওপর ক্ষোভ ঝারলেন পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জুলফিকার আলী স্বপন। তিনি বলেন, ‘আমি কাউন্সিলর হয়েছি ২ বছর হলো। এই ২ বছরে ২৪টি মাসিক সমন্বয় সভা করা হয়েছে। কিন্তু কোনো মাসিক সমন্বয় সভায় বিদ্যুৎ বিল বকেয়ার ব্যাপারে অবহিত করা হয়নি। এখন আমরা অন্ধকারের মধ্যে আছি।


এদিকে পৌরসভায় মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের কার্যালয়ে যাওয়া হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার রুমটি বাইরে থেকে তালা মারা অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে মেয়রকে মোবাইল করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে ফোনটি কেটে দেন।

দিনাজপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মিনারুল ইসলাম খান বলেন, ‘দিনাজপুর পৌরসভার কাছে বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ ১ ও ২’-এ মোট ১৮ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। এছাড়াও বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ ১-এর অফিসটি দিনাজপুর পৌরসভার সম্পত্তি। এ বাবদ প্রথম থেকে প্রায় ৭০ কোটি টাকা তাদের কাছ থেকে আমরা পাই।’

এ ব্যাপারে দিনাজপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ ১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম শাহাদত হোসেন বলেন, পৌরসভার কাছে বিদ্যুৎ বিভাগ ১ ও ২ এর বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। কিন্তু তারা কোনো ধরনের টাকা পরিশোধ করছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে শুধুমাত্র পৌরসভা ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। আর আমাদের কাছে পৌরসভা জমি ভাড়া বাবদ যদি কোনো টাকা পেয়ে থাকে তাহলে আমাদের কাগজপত্র দেখাক। কিন্তু তারা আমাদের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারে না।’

দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. বোরহন-উল হক বলেন, ‘পৌরসভায় আমাদের টিকা রয়েছে। আইসল্যান্ড রেফ্রিজারেটর থাকলে ৭২ ঘণ্টা টিকা ঠিক থাকে। বিষয়টি জানার পর পৌরসভার কাছে থাকা টিকাগুলো বিকল্প জায়গায় ফ্রিজার করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত