সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

এই দিনে

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:৪৯ পিএম

বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষাবিদ খান সারওয়ার মুরশিদ ভাষা আন্দোলনসহ বাংলাদেশের সব গণ-আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের নেপথ্য রূপকারদের একজন। শিক্ষক হিসেবে তিনি ছিলেন কিংবদন্তিতুল্য প্রতিভা। ১৯৪৭ সালের পর কিছুদিন ইংরেজি ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘নিউ ভ্যালুজ’ প্রকাশ করে তিনি বিদ্যোৎসমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং রাষ্ট্রদূত ছিলেন। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় তিনি পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও পরে টিআইবির চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ১৯২৪ সালের ১ জুলাই কুমিল্লা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা আলী আহমদ খান অবিভক্ত বাংলা এবং পরে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ছিলেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জর্জ হাই স্কুল থেকে ১৯৩৯ সালে প্রবেশিকা পাস করেন। এরপর ফেনী সরকারি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে বিএ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে ১৯৪৮ সালে এমএ ডিগ্রি নেন। খান সারওয়ার মুরশিদ ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কিছুদিন পর ব্রিটেনের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য যান। তার গবেষণার বিষয় ছিল ‘ইয়েটস, হাক্সলে এবং এলিয়টের ওপর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাব’। ১৯৫১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সংস্কৃতি সংসদ’ নামে একটি প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলেন। ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ এই দুই বছর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। ১৯৭৫ সালে তিনি পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত গণ-আদালতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত গণতদন্ত কমিশনের সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া তিনি মানবাধিকারভিত্তিক সংস্থা ‘নাগরিক উদ্যোগ’-এর চেয়ারম্যান ছিলেন।  তার একমাত্র গ্রন্থ ‘কালের কথা’ ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়। ২০১০ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। ২০১২ সালের ৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত