বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

জটিলতা বাড়াচ্ছে পশ্চিমের ধোঁকা!

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:১০ পিএম

পশ্চিমারা ‘ধোঁকা’ দেওয়ায় ইউক্রেন সংকট দিন দিন জটিল হচ্ছে এবং তা নিরসন সহজ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, ‘রাশিয়া হয়তো ভবিষ্যতে ইউক্রেন সংকট নিরসনে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবে। তবে রাশিয়া এবং পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে আস্থা না থাকায় তা খুব একটা সহজ হবে না।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেলের এক মন্তব্যের জেরে পুতিন কিরগিজস্তানে এক সম্মেলনে গত শুক্রবার এ মন্তব্য করেন।  

সম্প্রতি জার্মানির জেইত ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেরকেল মন্তব্য করেন, ‘২০১৪ সালে মিনস্ক চুক্তি করা হয়েছিল মূলত ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার জন্য কিছুটা সময় দেওয়ার উদ্দেশ্যে।’ মেরকেলের এমন মন্তব্যের জবাবে পুতিন বলেন, ‘২০১৪-১৫ সালে জার্মানি ও ফ্রান্স মিলে বেলারুশের রাজধানী মিনস্কে ইউক্রেন এবং রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে অস্ত্রবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরে মধ্যস্থতা করেছিল। আর তারাই এখন ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়ে উসকে দিচ্ছে।’ পুতিন আরও বলেন, ‘মিনস্ক চুক্তি নিয়ে অ্যাঞ্জেলা মেরকেলের মন্তব্য অনাকাক্সিক্ষত এবং হতাশাজনক। রাশিয়া এবং পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে এখন কোনো বিশ্বাস নেই বললেই চলে। তারা আমাদের ধোঁকা দিয়েছে।’ পুতিনের দাবি, মেরকেলের মন্তব্যের মূল কথা হলো ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা। তবে রুশ প্রেসিডেন্টের আশা, জার্মান সরকার ইউক্রেনকে সহায়তা করলেও, নীতির ভিত্তিতেই মিনস্ক চুক্তি কার্যকর করার উপায় খুঁজবে তারা।

২০১৪ সালে রাশিয়ার কাছে ক্রিমিয়া হারায় ইউক্রেন। সে বছর বেলারুশের রাজধানী মিনস্কে শান্তিচুক্তি হয়েছিল রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে; এবং দুই দেশকে সেই চুক্তির টেবিলে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল জার্মানি ও ফ্রান্স। একদিকে শান্তিচুক্তি অন্যদিকে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোয় ঢুকতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছিল ইউক্রেন। অথচ ইউক্রেনের এই জোটে যোগ দেওয়া রাশিয়ার জন্য সার্বভৌমত্ব ও পরাক্রমের প্রতি হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে এই নিয়ে দীর্ঘদিন প্রতিবেশী এই দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলার পর চলতি বছর ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ বাহিনীকে ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দেন ভøাদিমির পুতিন। সেই অভিযানের নবম মাস চলছে এখন। এই ৯ মাসে উভয়পক্ষের হাজার হাজার সামরিক ও বেসামরিক মানুষজন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ইউক্রেন। এছাড়া যুদ্ধের কারণে ঝুঁকিতে পড়েছে পুরো বিশ্ব।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত