বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

রোগপ্রতিরোধে পোলিও টিকা ‘এনওপিভি২’

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৪৩ এএম

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত নতুন পোলিও টিকা ‘এনওপিভি২’ নবজাতকের রোগপ্রতিরোধ করতে সক্ষম বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)। বাংলাদেশের একটি কেন্দ্রে পরিচালিত গবেষণায় এই তথ্য পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল দ্য ল্যানসেট গত ৭ ডিসেম্বর সংখ্যায় এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

গতকাল রবিবার আইসিডিডিআর,বি থেকে জানানো হয়েছে, মুখে খাওয়ার নতুন পোলিও টিকা নবজাতকদের মধ্যে সফলভাবে রোগপ্রতিরোধ সক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম। টিকাটি ইন্দোনেশিয়ার টিকা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বায়োফার্মার তৈরি।

এ ব্যাপারে আইসিডিডিআর,বির সংক্রমণ রোগ বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও গবেষণার নেতৃত্বদানকারী ড. কে. জামান বলেন, পোলিও রোগের ঝুঁকিতে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নবজাতকদের মধ্যে সংক্রমণ রোধ করার জন্য মুখে খাওয়ার এ নতুন পোলিও টিকা নিরাপদ এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সক্ষম।

এই বিজ্ঞানী জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতিমধ্যেই বয়স নির্বিশেষে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য এনওপিভি২ টিকার ৪৫ কোটিরও বেশি ডোজ বিভিন্ন পোলিও-প্রবণ দেশে বিতরণ করেছে। পোলিওমুক্ত বিশ্ব গড়ার ক্ষেত্রে পোলিও টিকার কারণে পুনরায় পোলিও সংক্রমণকে প্রতিরোধ করা খুবই জরুরি। সেক্ষেত্রে এনএপিভি-২ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

আইসিডিডিআর,বির বিজ্ঞানী এবং সহযোগীদের করা এই গবেষণার ফলাফলে প্রথমবারের মতো দেখা গেছে, পোলিওর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশে তৈরি নতুন মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা (এনওপিভি২) আগে পোলিওর টিকা দেওয়া হয়নি এমন নবজাতকদের জন্য নিরাপদ এবং তাদের মধ্যে সফলভাবে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের ১৬ আগস্ট পর্যন্ত দেশের চাঁদপুরে অবস্থিত আইসিডিডিআর,বির মতলব হেলথ রিসার্চ সেন্টারে এই টিকার ফেজ-২ ট্রায়াল করা হয়। গর্ভাবস্থার তৃতীয় মাসে রয়েছেন এমন নারী ও তাদের নবজাতকদের গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গবেষণায় নবজাতকদের চার সপ্তাহের ব্যবধানে এনওপিভি-২ টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পর তাদের সংবেদনশীলতা, সহনশীলতা এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, এনওপিভি-২ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম। এর ফলে ৯৯ শতাংশ নবজাতকের মধ্যে রোগপ্রতিরোধমূলক নিউট্রিলাইজিং অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে।

আইসিডিডিআর,বি জানায়, মুখে খাওয়ার পোলিও টিকায় (ওপিভি) রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধির জন্য জীবন্ত কিন্তু ক্ষতি করতে অক্ষম এমন পোলিওভাইরাস ব্যবহার করা হয়। শুধু বিরল কিছু ক্ষেত্রে, প্রচলিত ওপিভি-তে ব্যবহৃত টাইপ-২ পোলিওভাইরাস পরিবর্তিত হয়ে সংক্রমণ ঘটাতে পারে এবং স্নায়ুতন্ত্রের রোগ সৃষ্টি করতে পারে। এ উদ্বেগের কারণে গ্লোবাল পোলিও ইরাডিকেশন ইনিশিয়েটিভ মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা থেকে টাইপ-২ পোলিওভাইরাস বাদ দিয়েছে এবং শুধু টাইপ-১ এবং টাইপ-৩ পোলিওভাইরাস মোকাবিলার পদক্ষেপ নিয়েছে।

আইসিডিডিআর,বির বিজ্ঞানীরা জানান, সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা টাইপ-২ পোলিওভাইরাস প্রতিরোধের জন্য এনওপিভি-২ নামক একটি মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। এই টিকার মাধ্যমে স্নায়ুতন্ত্রের রোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা কম। আগে যারা ইন্যাক্টিভেটেড পোলিও ভ্যাকসিনের (আইপিডি) অন্তত একটি ডোজ পেয়েছেন, তাদের নতুন টিকা দেওয়ার পর দেখা গেছে এটির মাধ্যমে পুনরায় সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা আগের প্রচলিত মুখে খাওয়ার টিকার চেয়ে কম। এজন্য এই গবেষণা পোলিও সংক্রমণের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী নবজাতকদের মধ্যে পোলিও নির্মূলে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে।

আইসিডিডিআর,বির বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এরই মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ গবেষণার ফলাফলকে পোলিওমুক্ত বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত