বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

যশোরে ফুলের বাজার চাঙ্গা

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৩৮ এএম

এখন আর নেই করোনার কড়া বিধিনিষেধ, আবহাওয়াও অনুকূল। ফুলের রাজ্য যশোরের গদখালীর ফুলচাষিরা মৌসুমের শুরু থেকেই তাই উৎফুল্ল।

সারা বছর বেচাকেনা চললেও সবচেয়ে বেশি ফুল বিক্রি শুরু হয় ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস থেকে শুরু করে বাংলা নববর্ষ পর্যন্ত। এর মধ্যে রয়েছে ইংরেজি নববর্ষ, ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা ও বসন্ত দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস ও ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ। ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের উল্লিখিত এ সময় পর্যন্ত ফুলের মৌসুম মনে করেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

তাই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। বিশেষ দিনগুলোকে সামনে রেখে নানান জাতের ফুলের চারা রোপণ ও পরিচর্যা চলছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফুল চাষে লাভবান হবেন বলে আশা তাদের। ইতিমধ্যে বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ফুল বিক্রি হয়েছে বলে গদখালীর চাষিরা জানিয়েছেন। যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি ও পানিসারা ইউনিয়নের বহু চাষি আছেন যারা দীর্ঘদিন ফুল চাষের সঙ্গে যুক্ত। তাদের উৎপাদিত রজনীগন্ধা, গোলাপ, জারবেরা, গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকাসহ ১১ ধরনের ফুল সারা দেশের মানুষের মন রাঙাচ্ছে। করোনার প্রকোপ কমে যাওয়ায় ফুলের বাজার ধরার চেষ্টা করছেন ফুলচাষিরা।  এ বছর আবহাওয়াও অনুকূলে থাকায় সাধ্যমতো ফুল চাষ করেছেন তারা।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গদখালীর পানিসারায় গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠে শুধু ফুল আর ফুল। ইতিমধ্যেই তাদের উৎপাদিত ফুলের কেনাবেচা ফের চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। কৃষকরা জানান, অন্যান্য বছরে ফুল চাষের উপযুক্ত সময়ে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে এলেও এবার আবহাওয়া অনুকূলে। যে কারণে গত কয়েক মাস ধরে তাদের পরিশ্রমের কারণে মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে গোলাপ, জারবেরা, গাঁদা, রজনীগন্ধাসহ নানা ধরনের ফুল।

ফুলচাষি ইসমাইল হোসেন বলেন, করোনার কারণে গত দুই বছরে আমরা ফুল চাষে তেমন কোনো লাভ করতে পারিনি। সেই পরিস্থিতি আর এখন নেই। যেসব চাষি ফুল চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন তারা ফের ফুল চাষ শুরু করেছেন। আশা করা যাচ্ছে এবার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ফুল বিক্রি সম্ভব হবে। তিনি বলেন, বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি গোলাপ ও গাদা ফুল বিক্রি হয়েছে।

গদখালীর ফুল বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি পিস গোলাপ ৩ টাকা, গ্লাডিওলাস ৮ থেকে ১৫ টাকা, জারবেরা ৮ থেকে ১০ টাকা, রজনীগন্ধা ৪ টাকা, একশ পিস চন্দ্রমল্লিকা দেড়শ টাকা, এক হাজার গাঁদা ফুল ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, মৌসুমের প্রথম বড় একটি উপলক্ষকে কেন্দ্র করে ভালো দামে ফুল বিক্রি করতে পেরেছেন চাষিরা। সামনের দিনগুলোতেও ভালো দাম পাবেন বলে তিনি আশা করেন। ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ বলেন, ঝিকরগাছার গদখালী, পানিসারা ছাড়াও জেলায় প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে নানান জাতের ফুলের চাষ রয়েছে। এসব ফুল চাষে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে

কৃষককে নানাভাবে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এ-বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফুলচাষিরা ভালো ফলন পাবেন এবং আগামী বিশেষ দিনগুলোতে ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত