সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সেন্ট্রাল ডেস্ক, সংবাদের রসুইঘর

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:৫০ এএম

সাংবাদিকতার তাত্ত্বিক পাঠে সংবাদ, সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্র সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দিতে গিয়ে অনেক শিক্ষক একটা গল্প প্রায়ই বলতেন সাংবাদিকতা অনেকটা খাবার তৈরির মতো বিষয়। একজন প্রতিবেদক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন, গুছিয়ে দেন, বিষয়টি অনেকটা বাজার করার মতো। আর সহ-সম্পাদকরা সেগুলো আরও গুছিয়ে, চমৎকার একটা শিরোনাম দিয়ে ছাপার উপযোগী করেন, যেমনটি একজন রাঁধুনি ভালো খাবার রান্না করেন। এ কারণেই সংবাদপত্রের সেন্ট্রাল ডেস্ককে বলা হয় সংবাদের রসুইঘর বা রান্নাঘর। আবার কোনো ভুল বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো সংবাদ যেন ছাপা না হয় সেটি খুব সতর্কতার সঙ্গে খেয়াল রাখতে হয় বলে সেন্ট্রাল ডেস্কের সহ-সম্পাদকদের সংবাদের পাহারাদারও বলা হয়। কিংবা বলা যায় সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা আর দায়িত্বশীলতার শেষ গেটকিপার।

সেন্ট্রাল ডেস্কের সার্বিক নেতৃত্ব দেন বার্তা সম্পাদক। তারপরে ক্রমান্বয়ে যুগ্ম-বার্তা সম্পাদক, সহকারী বার্তা সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক, সহ-সম্পাদক বা শিক্ষানবিশ সহ-সম্পাদকরা সংবাদের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করেন। বার্তা সম্পাদক অবশ্য কেবল সেন্ট্রাল ডেস্কেই সীমাবদ্ধ নন। বার্তা বিভাগের কাজের সমন্বয় সাধন ও তদারক করেন। পত্রিকার সংবাদ সংক্রান্ত সব সংস্করণের পরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্বও তার।

তবে দেশ রূপান্তরে শুরুর প্রায় তিন বছর ছিলেন না কোনো বার্তা সম্পাদক। সেন্ট্রাল ডেস্ক চলেছে প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক অমিত হাবিবের দিকনির্দেশনায় আর ডেস্কের কর্মীদের চেষ্টায়। ২০২১ সালের শেষের দিকে বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়ে আসেন শাহ আলম বাবুল। বার্তা কক্ষের অভিভাবক হিসেবে এখনো তিনি তার মেধা আর শ্রমের সর্বোচ্চটা দিয়ে যাচ্ছেন। যুগ্ম-বার্তা সম্পাদক জুয়েল মোস্তাফিজ ভালোবাসার সবটুকু নিংড়ে দিচ্ছেন গত চার বছর ধরে। আরেক যুগ্ম বার্তা সম্পাদক হিসেবে আছেন অভিজ্ঞ ও সদালাপী মো. জাকির হোসেন। সহকারী বার্তা সম্পাদক আতিকুল আরেফিন তার বহুমুখী দক্ষতা দিয়ে দেশ রূপান্তরের ধারাবাহিক উন্নতিতে যেমন ভূমিকা রাখছেন তেমনি তার কাজ দেখে সমৃদ্ধ হচ্ছেন সহকর্মীরা। ডেস্কের সবচেয়ে সিনিয়র ও প্রাজ্ঞ মানুষটি মো. সাইফুর রহমান তারিক আছেন সিনিয়র কপি এডিটরের ভূমিকায়। ছোট ছোট ভুলগুলো অন্যদের চোখ এড়ালেও তিনি সেগুলো শুধরে সংবাদকে করছেন ফুলের মতো সুন্দর। জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক আবু নোমান হাদীর (সজীব) একনিষ্ঠ সম্পাদনায় মফস্বলের ছোট্ট খবরও জায়গা করে নিচ্ছে প্রথম পাতায়। ঝড়-বাদল, দুর্ঘটনা বা রাজনীতির সংবাদের কম্পাইল করা দৈনন্দিন কাজ আরেক জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক তপু রায়হানের। সেন্ট্রাল ডেস্কের সবচেয়ে ছোট্ট সদস্য সহ-সম্পাদক নাসিমুল আহমেদ শুভ অবলীলায় করে দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক বড় বড় সব সংবাদের অনুবাদ।

সাধারণ চোখে প্রতিবেদক প্রতিবেদন লেখেন, আর পত্রিকায় ছাপা হয় বিষয়টা এমন মনে হতে পারে; কিন্তু একটি সংবাদ লেখার পর থেকে ছাপাখানায় যাওয়ার আগ পর্যন্ত থাকে আরও অনেকগুলো ধাপ। যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে সংবাদ সম্পাদনা। এটি হয় সেন্ট্রাল ডেস্কে। পত্রিকার প্রথম ও শেষ পাতাসহ দেশি-বিদেশি সব গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ যেখানে সম্পাদনা করা হয় সেটিকে বলা হয় সেন্ট্রাল ডেস্ক। তবে সহ-সম্পাদকদের কাজকে অনেকে বলেন ‘থ্যাঙ্কসলেস জব’। কোনো সংবাদ ভালো হলে সব প্রশংসা পান সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক। তবে কোনো ত্রুটি থাকলেই প্রথম দায়টা পড়ে সহ-সম্পাদকের কাঁধে। কারণ সেন্ট্রাল ডেস্কের কর্মীদের যেহেতু সংবাদটি ছাপার যোগ্য করে তোলার দায়িত্ব ছিল তাই ভুলের দায় তাকে নিতেই হবে। কখনো কখনো মারত্মক ভুলের কারণে চাকরিও চলে যেতে পারে। এই বিভাগের কর্মীরা প্রতিবেদকদের মতো অফিসের বাইরে সময় দিতে পারেন না, প্রেস ক্লাবে আড্ডা দিতে যেতে পারেন না, সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনে সক্রিয় থাকতে পারেন না, পাঠকের কাছে নায়কও হয়ে উঠতে পারেন না।

দেশ রূপান্তরে চার বছরে নানা প্রতিবন্ধকতা আর সম্ভাবনার মধ্য দিয়েই এগিয়েছে সেন্ট্রাল ডেস্ক। সব বিভাগের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেই কাজ করছে। প্রতিদিন বস্তুনিষ্ঠতা আর দায়িত্বশীলতার পরিচয় যেমন দিচ্ছে তেমনি নিচ্ছে পাঠও।

লেখক : দেশ রূপান্তরের জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত