বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

একের ভেতর তিন

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:৫১ এএম

দেশ রূপান্তর অনলাইনের শুরুর দিকে আমরা যে কয়জন বসতাম তারা সবাই কমবেশি পূর্বপরিচিত ছিলাম। প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক অমিত হাবিবের নেতৃত্বে শুরু হওয়া পত্রিকায় খোলামেলা পরিবেশে বাড়তি আনন্দের কারণ হয়ে উঠলেন পরিচিত সহকর্মীরা। কাজের পাশাপাশি বিকেলে নানা কিছু খাওয়া যে কারণে আমাদের অনুষঙ্গ হয়ে উঠল। খোলামেলা দেশ রূপান্তর অফিসে সেসব খাবারের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ত। বিশেষত রিপোর্টারদের সেকশন অনলাইনের পাশেই। গন্ধটা তাদের কাছে সবার আগে যেত। অনলাইনের খাওয়া-দাওয়া ‘টক অব দ্য অফিস’ হয়ে উঠত কখনো। অনলাইনের খাবার নিয়ে আলাপ সম্পাদক পর্যন্ত গড়াত। পাল্লা দিতে রিপোর্টাররা খেলে আমরাও অন্য কিছু এনে তার জবাব দিতাম সচেতনভাবেই।

অবশ্য শুরুর দিকে এত মজা করার সুযোগ ছিল না। পত্রিকা বাজারে আসে ২০১৮ সালের নির্বাচনের ঠিক আগে আগে। নির্বাচনের প্রচার থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত ঘটনাবহুল দিনগুলোতে রাত ভোর করে কাজ করতে হয়েছে আমাদের। পরে আবার করোনার হানায় সেই ‘খাওয়া উৎসব’ বন্ধ হয়ে যায়। করোনা প্রথম দিকে খুব ভয় পাইয়ে দেয় আমাদের। মাস্ক, গ্লাভস, সুরক্ষা পোশাক পরে অফিসে আসা শুরু হয়। কার সর্দি, কার হাঁচি, জ্বরে ধরল কাকেঅফিসে এসে প্রথম আলাপ এগুলো নিয়ে হতো। একজন আরেকজনের কাছ থেকে যত দূরে থাকতে পারতাম স্বস্তি পেতাম। সে সময়ে একদিন কার যেন করোনা ধরা পড়লে আমাদের হোম অফিস শুরু হয়। কে কত নিউজ দিল, কার নিউজ সবচেয়ে বেশ শেয়ার হলো; তার ভিত্তিতে পুরস্কারের ব্যবস্থা আমাদের কাজকে আনন্দদায়ী করে তুলল।

এ অনলাইনে প্রথম অর্ধে খেলতে নেমেছিলেন সাইফ, জুবেরী, এহসান, সুজন, সুদীপ্ত, গালিব, দেলোয়ার, উপলকে নিয়ে বেশ বুদ্ধিদীপ্ত একটি দল। জীবনের প্রয়োজনে অবশ্য তাদের অনেকেই এখন আর দেশ রূপান্তরে নেই। খাওয়ায় যিনি সবার আগে আর দেওয়ায় দোনামোনা করতেন সেই সাঈদ জুবেরী এখন ‘চিন্তা’ পাতার দুশ্চিন্তা (দায়িত্ব) নিয়ে আছেন। অন্যরা অন্যত্র চলে গেছেন। রয়ে গেছেন ‘একমেবাদ্বিতীয়ম’ বিউটি হাজং। তিনি অনলাইনে কাজ করা একমাত্র নারী। অবশ্য আরও একজন রয়ে গেছেন। তিনি তোফায়েল আহমেদ। দেশ রূপান্তরের উদারতার টানে বিরতি দিয়ে আবার ফিরে এসেছেন। শুরুতে তিনি ছিলেন আমাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ।

দীর্ঘ চার বছরে তীব্র শোকও আমাদের জর্জরিত করেছে প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক অমিত হাবিবকে হারিয়ে। মহামারী, মৃত্যু, যুদ্ধ, সাহিংসতামানুষ যেহেতু কখনো থেমে থাকে না; আমরাও থেমে থাকিনি। বহমান এ নদীর স্রোতে অনলাইনে নতুন যুক্ত হয়েছেন আনিসুর বুলবুল। তিনি এখন অনলাইনের অধিনায়ক। সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন ‘হাশিম আমলাকে’। দেখতে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটার হাশিম আমলার মতো ইমরোজ বিন মসিউর ভদ্র ছেলে। তবে দুষ্টু নিউজ করায় ওস্তাদ। তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন মোস্তাফিজ ও ‘লিটল’ রাফিদ চৌধুরী। লিটল কারণ তিনি এখন সবার ছোট। তবে কেন যেন খুব দ্রুত বড় হয়ে যেতে চান রাফিদ। সঙ্গে যোগ দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মায়া ভুলতে না পারা এক ছেলে আ ক ম জাকারিয়া। মাঝখানে যোগ দেন মাহবুবুল আলম তারেক। চুপি চুপি সবচেয়ে ‘আজিব’ নিউজটা খুঁজে বের করতে তার জুড়ি নেই।

আমাদের অনলাইনের সঙ্গে সবসময় একটা অম্লমধুর সম্পর্ক থাকে আইটি সেকশনের। এ সেকশনের লিডার মাহমুদ খানের সঙ্গে কখনো সমস্যা হয়নি আমাদের। তার বিনয় খায়ের আর প্রণবের ভেতরও দেখা যায়। ই-পেপার আর পত্রিকার সংবাদ আপলোড করেন পারভেজ ও মাসুম। তাদের জীবন নিশাচরের, রাতে সিঁদ কাটেন, ভোরে ঘরে ফেরেন। হাসিখুশি আর অন্যকে খাওয়াতে ভালোবাসেন এমন মানুষকে সমাজে কে না ভালোবাসে। আমরা অনলাইনও হাবিবুর রহমান পলাশকে ভালোবাসি। তার নেতৃত্বে ডিজিটাল টিমের মাঝমাঠ আলোকিত করে রেখেছেন লিটু। নতুন স্ট্রাইকার জান্নাত। ক্যামেরা নিয়ে ডাকের অপেক্ষায় প্রস্তুত ইসমাঈলের সঙ্গে আছেন জামিল ও শিমুল।

লেখক : দেশ রূপান্তর অনলাইনের জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত