সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

অন্ধকারে শীতল বড়দিন

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:০২ পিএম

যুদ্ধ শুরুর পর অন্যরকম এক ক্রিসমাস বা বড়দিন দেখল ইউক্রেনবাসী। বৈশ্বিক রাজনীতির মারপ্যাঁচে সাধারণ ইউক্রেনীয়দের জীবনের এই সংকটময় সময়ে এলো খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। অথচ গেল সেপ্টেম্বরে রাশিয়া-ক্রিমিয়া সংযোগ সেতু এবং সেভাস্তপোলে রুশ নৌবহরে ড্রোন হামলা চালিয়ে হিতে-বিপরীত ফলাফলে ভুগছে ইউক্রেন। সেই হামলাগুলোর জবাবে ইউক্রেনের একের পর এক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিপর্যস্ত দেশটি। একদিকে জাঁকানো শীত, অন্যদিকে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্নতায় আলোহীন-উষ্ণতাহীন ঘরবাড়িতে এবারের বড়দিন পালন করছেন লাখো মানুষ। ক্রিসমাসের আগের দিনও খেরসনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন কয়েকজন।

এ পরিস্থিতিতে বড়দিন উপলক্ষে এক ভিডিও বার্তা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও বার্তায় খেরসনে রুশ হামলার কিছু ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্বকে অবশ্যই দেখতে হবে এবং উপলব্ধি করতে হবে যে আমরা কীসের বিরুদ্ধে লড়াই করছি।’

জেলেনস্কি আরও বলেন, যুদ্ধের শুরুতে আমরা সব সহ্য করেছি। আমরা মস্কোর হামলা, হুমকি, পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইল, সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সহ্য করেছি। আসুন এই শীতেও আমরা সহ্য করি, আমরা জানি কীসের জন্য লড়ছি। ‘ভার্চুয়ালি ভাষণে তিনি আরও বলেন, ‘আগের মতোই, আমরা আমাদের ছুটির দিনগুলো উদযাপন করব। পার্থক্যটা হলো, আমরা কোনো অলৌকিক ঘটনার জন্য অপেক্ষা করব না। আমরা নিজেরাই নিজেদের পথ তৈরি করব।’

জেলেনস্কি যখন এসব বলছেন তখন লাখো ইউক্রেনীয় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় তারা ঘরবাড়ি উষ্ণ রাখতে এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে পারছেন না। কিয়েভ থেকে বিবিসির হুগো বাচেগা বলেন, ইউক্রেনীয়দের অনেককে অন্ধকার এবং ঠান্ডার মধ্যে বড়দিন কাটাতে হচ্ছে।

ইউক্রেনীয় জনগণের একটা বড় অংশ অর্থোডক্স খ্রিস্টান। বড়দিন উপলক্ষে ভ্যাটিকানের প্রার্থনাসভায় পোপ ফ্রান্সিস ইউক্রেনীয়দের দুর্দশাকে স্মরণ করেন। ক্যাথলিকদের প্রধান ধর্মযাজক বিশ্বজুড়ে মানুষের সম্পদ আর ক্ষমতা লোভের নিন্দা জানান। তিনি বলেন, ‘সম্পদ আর ক্ষমতার লালসায় মানুষ ভাই-বোন-প্রতিবেশীদের ওপরও দখলদারিত্ব চালায়।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত