মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মেঘের রাজ্যে আক্ষেপ

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৩১ এএম

আলী রিয়াজ স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ঢাকা থেকে সাজেকে বেড়াতে এসেছেন। উঠেছেন কংলাক পাহাড়ের চূড়ায়ও। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বিমোহিত তিনি। কিন্তু পাহাড় চূড়ায় দুইপাশেই কটেজ ও রিসোর্ট গড়ে ওঠায় পাহাড়ের দৃশ্য দেখতে এক টুকরো খালি জায়গা খুঁজে না পাওয়ার আক্ষেপ তার। শুধু আলী রিয়াজই নন, তার মতো অন্য পর্যটকদের মনেও একই প্রশ্ন। চট্টগ্রামের হালিশহর থেকে সপরিবারে এসেছেন মামুনুর রশিদ। তিনিও দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আপনি দাঁড়িয়ে দেখছেন নিচে ভেলার মতো ভাসছে মেঘ। এত সুন্দর প্রকৃতি দেখতে পর্যটকরা যাতায়াত দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে আসছে। তবে পর্যটন এলাকাটি আরও পরিকল্পিত হতে পারত।’

স্থানীয়ভাবে যারা কটেজ বা রিসোর্ট গড়ে তুলেছেন তাদেরও একই কথা। মেঘকাব্য রিসোর্টের ম্যানেজার অধীপ চাকমা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এক জায়গায় এত কটেজ। তারপরও ভরা মৌসুমে পর্যটকদের থাকার জায়গা হয় না। আবার এটাও ঠিক যে, দুই পাশে কটেজ উঠে যাওয়ায় রাস্তা থেকে পাহাড়ি সৌন্দর্য তেমন চোখে পড়ে না।’

সাজেকে প্রবেশের শুরুতে স্টোন গার্ডেনের পাশেই রয়েছে সেনাবাহিনীর গেস্ট হাউজ। এই ভবনটি সবচেয়ে উঁচু। কিন্তু এখান থেকেও সাজেকের কেবল একপাশের সৌন্দর্য দেখা যায়। কারণ আরেক পাশে কটেজ আর দোকানপাট। তারপর রুইলুই পাড়া থেকে কংলাক পাহাড়ের দিকে প্রায় এক কিলোমিটার এগিয়ে গেলে হাতের বামে কেবল এক টুকরো ফাঁকা জায়গা আছে। এখান থেকে নিচের পাহাড়ি সৌন্দর্য দেখা যায়। আরও এগিয়ে গেলে হাতের ডানে লুসাই পল্লী। সেখান থেকেও পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। তবে কংলাক পাহাড়ের আগে হেলিপ্যাড পয়েন্ট হলো সাজেকে আসা দর্শনার্থীদের আগ্রহের জায়গা। এখানে সন্ধ্যার পর বসে অস্থায়ী স্ট্রিট ফুডের দোকান। আর পুরো সাজেককে পাখির চোখে দেখতে উঠতে হবে কংলাকের চূড়ায়।

সাজেকের সৌন্দর্য রক্ষায় নতুন কোনো কটেজ রুইলুইপাড়া অংশে না করে কংলাক পাহাড় এলাকায় করা যেতে পারে বলে মনে করেন সাজেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ১৮০০ ফুট উচ্চতার সাজেকে মূলত রুইলুইপাড়া অংশে ২০০ পরিবার ও কংলাক পাহাড় অংশে ৭০ পরিবার বাস করে। সব মিলিয়ে প্রায় ১৮০০ স্থানীয় লোকের বাস। পর্যটন মৌসুমে (নভেম্বর-জানুয়ারি) প্রতিদিন গড়ে চার হাজার পর্যটক আসে এবং ছুটির দিনে তা সাত হাজারও অতিক্রম করে। তাই পর্যটকদের আবাসনের জন্য রুইলুইপাড়া অংশে আর কোনো কটেজ না করে কংলাক পাহাড় এলাকায় করা যায়। এখন রাস্তা থেকে পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখা যায় না। তবে পর্যটকরা যেসব ঘরে থাকে সেগুলো থেকে মেঘ-পাহাড় দেখা যায়।’ অতুলালের বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া গেল ভোরে, সূর্যোদয়ের নয়নাভিরাম দৃশ্যে। প্রতিটি কটেজের ছাদ কিংবা ব্যালকনি যেন হয়ে উঠেছিল সূর্যোদয় দেখার টাওয়ার।

পর্যটকদের সুবিধা দিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎসুবিধা থাকলেও ব্যবহারযোগ্য পানি আনতে হয় ছয় কিলোমিটার নিচের ঝরনা থেকে। চাঁদের গাড়িতে (স্থানীয় জিপ) ট্যাঙ্ক বসিয়ে নিয়ে আসা পানি সরবরাহ করা হয় সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার উভয় পাশের ১১২ রিসোর্ট ও কটেজে।

মেঘের রাজ্য হিসেবে পরিচিত সাজেক রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার আওতাভুক্ত হলেও এখানে যেতে হয় খাগড়াছড়ি হয়ে। দিনে দুবার (সকাল ও বিকেল) সেনাবাহিনীর প্রহরায় যাওয়া যায় সাজেকে এবং আসার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত