বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

এবার ডান্ডাবেড়িতে মায়ের জানাজায় ছাত্রদল নেতা

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৩, ০২:৫৮ এএম

শরীতপুরে হাতকড়া আর পায়ে ডান্ডাবেড়ি পরা অবস্থায় মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছেন সেলিম রেজা নামে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এক নেতা। মায়ের মৃত্যুর পর কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেলেও জানাজার সময় তার হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি খোলা হয়নি। গত রবিবার রাত আড়াইটার দিকে শরীয়তপুর সদর উপজেলার সুজনদোয়াল গ্রামে ওই জানাজা হয়। এরপর পাশের মসজিদের কবরস্থানে সেলিম রেজার মাকে দাফন করা হয়। কিন্তু মায়ের দাফনের সময় খোলা হাত-পায়ে কবরে মাটি দিতে পারেননি তিনি।

এর আগে গত ২০ ডিসেম্বর মায়ের মৃত্যুতে তিন ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন গাজীপুরের কালিয়াকৈরের বোয়ালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম। বাড়িতে নেওয়ার পর তিনি নিজেই মায়ের জানাজা পড়ান। এ সময় তারও ডান্ডাবেড়ি পরানো ছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এ ছাড়া মায়ের জানাজায় ডান্ডাবেড়ি পরানো অবস্থায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়াকে ‘অমানবিক’ বলে বিবৃতি দেয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, শরীয়তপুর সদর উপজেলার আনোয়ার হোসেন মুন্সির ছেলে সেলিম রেজা ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক। গত ৭ ডিসেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পুলিশ তাকে আটক করে। এরপর ১০ ডিসেম্বর পল্টন থানার নাশকতার একটি মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুরে কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। রবিবার সকালে মা নাছিমা বেগম গ্রামের বাড়িতে মারা যান। এরপর আইনজীবীর মাধ্যমে সেলিম রেজাকে প্যারোলে মুক্তির জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ওইদিন বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ১০ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। পরে গাজীপুর জেলা পুলিশের সদস্যরা সেলিম রেজাকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে শরীয়তপুরের সুজনদোয়াল গ্রামে নিয়ে যান। সেখানে তার মায়ের মরদেহ নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন স্বজনরা। রাত আড়াইটার দিকে মসজিদ মাঠে জানাজায় অংশ নেন তিনি। পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা রাত ৩টার দিকে দাফনের কাজ সম্পন্ন করেন। জানাজা ও দাফনের পুরো সময়ে সেলিমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখা হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ওসি আক্তার হোসেন একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার পর কারা কর্র্তৃপক্ষের কাছ থেকে পুলিশের জিম্মায় আসামিকে আনতে হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আসামিকে হাতকড়া পরানো হয়েছিল। গাজীপুর জেলা পুলিশ তাদের জিম্মায় আসামি নিয়ে শরীয়তপুরে আসে। পালং মডেল থানা পুলিশ তাদের সহায়তা দিয়েছে মাত্র।’

সেলিম রেজার ভাই শামীম মুন্সি বলেন, ‘সেলিম ঢাকার দনিয়াতে একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। রাজনীতি করে। কোনো নাশকতার সঙ্গে কখনো জড়ায়নি। ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশের আগে গণহারে পুলিশ নেতাকর্মীদের আটক করেছে। সেলিমকেও আটক করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘একজন সন্তান হিসেবে সে (সেলিম) স্বাভাবিকভাবে মায়ের জানায় ও দাফনে অংশ নিতে পারেনি। তার হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু পুলিশ তা শোনেনি।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত